নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০২৪ পঞ্জিকা বছরের (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। যাতে দেখা গেছে আগের তুলনায় দলটির আয় অনেক বেড়েছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিব আখতার আহমেদের কাছে বিএনপির আর্থিক আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দেন।
পরে বিএনপির এ নেতা জানান, ২০২৪ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা।
সবশেষ বিএনপি ২০২৩ সালে আয় দেখিয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা। আর দলটির উদ্বৃত্ত ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।
২০২২ সালে বিএনপির আয় দেখানো হয় ৫ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬৩২ টাকা। ব্যয় হয় ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ টাকা।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) নিবন্ধিত দলগুলোর প্রতি বছর জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন দেওয়া বাধ্যবাধকতামূলক।
এবার আওয়ামী লীগ (নিবন্ধ স্থগিত) ছাড়া ৫০টি নিবন্ধিত দলকে অডিট রিপোর্ট দিতে চিঠি দেয় ইসি। দলগুলোকে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের হিসাব দিতে হবে চলতি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে।
নিয়ম অনুযায়ী, স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিরীক্ষা করে ইসিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর।
আইন অনুযায়ী পর পর ৩ বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে এ সময় রিজভী বলেন, “সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের যে স্বাধীনতা, তাদের স্বাধীন যে অধিকার যেটা দেওয়া আছে সেই অধিকার দিয়ে, সেই স্বাধীন বিধানগুলো প্রয়োগ করে নির্বাচনকে বানচাল করার অথবা নির্বাচনকে নিয়ে যে কোন গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাহসী ভূমিকা রাখবে বলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে।”
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও আশানুরুল না হলেও দ্রুত উন্নতি ঘটবে প্রত্যাশা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়ত অনেক কিছু এখনও সম্ভব হয়ে উঠেনি। এখনও আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ততটা উন্নত হয়নি। কিন্তু তারপরেও মানুষের মধ্যে যে আশা জেগে উঠেছে যে আমরা কমপক্ষে শেখ হাসিনার দুর্বৃত্ত পরায়ণ কোন প্রশাসনের দ্বারা অথবা তার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা এখানকার গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আর নিপীড়নের শিকার হবে না...। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ইসি গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। সব রাজনৈতিক দল ও মানুষের কাছে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গড়ে উঠবে প্রত্যাশা করি।”
এলিস/মেহেদী/