ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষিত সময়ের মধ্যে নিশ্চিতকরণ, সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের গুরুত্বারোপ, ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো ও দলকে নির্বাচনমুখী করতে আলোচনাসভা করেছে বিএনপি।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে বয়রা বাজারে এই আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মকবুল হোসেন সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ।
সঞ্চালনা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা করিম সরকার ও মুনসুরুল আমিন হেলাল।
সভায় প্রধান অতিথি আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন নেতৃত্ব ছিল না, শেখ মুজিব যখন ২৫ মার্চ রাতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেছেন, তখন দেশ নেতৃত্বশূন্য ছিল। তখন একজন মেজর - উনি চাকরির মায়া ত্যাগ করে, স্ত্রী-সন্তানের মায়া ছেড়ে, কর্নেল আসিফ নওয়াজ জানজুয়াকে বন্দী করে ২৭ মার্চ এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমরা এমন একজন নেতার দল করি, যখন ১৯৭৫ সালের পর দেশ আবার সংকটে পরে তখন তিনি আবার দেশের হাল ধরেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেজর জিয়াউর রহমান এই দেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে আমাদেরকে একটি পরিচয় দিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। সেই পরিচয়কে বহন করে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে উন্নয়নের ছোঁয়া দিয়েছিলেন। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে ম্যাজিক ছিল। তিনি এই দেশে একটি সবুজ বিপ্লব করে দিয়েছেন, কৃষিতে বিপ্লব এনে দিয়েছেন ও শিল্পের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভিন্ন পথে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় আসে নাই। ভিন্ন পথে বিএনপি কখনো ক্ষমতায় যাবেও না। যদি যেতো তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেই ২০০৯ সালেই ক্ষমতায় আসতো। দেশনায়ক তারেক রহমান এই বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকতেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এই দেশে কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেওয়া হবে না। আমরা সব অন্যায়-অত্যাচার রুখে দিয়ে, সব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন প্রতিষ্ঠা করব। সেই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণের ভোট নিয়েই বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে ইনশাল্লাহ।’
অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন - গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব সুজিত কুমার দাস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ মণ্ডল, মো. শাহজাহান সিরাজ, জায়েদুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান পলাশ, উপজেলা বিএনপির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশিম সাত্তার মণ্ডল, মজিবুর রহমান মানিক, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, নজরুল ইসলাম, আবুল হাসিম, মো. আব্দুল হাই, হারুন-অর-রশিদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া, ভাংনামারী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মুজাহিদ, নয়ন, জাহাঙ্গীর, ভাংনামারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন, সদস্যসচিব জুয়েল মিয়া, ভাংনামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিতু ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।