নোয়াখালীর সূবর্ণচরে আনিসুল হক জাহাঙ্গীর নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিএনপি নেতারা একটি বাজার লকডাউন করে বন্ধ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) খাসেরহাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের নেতাকে আটক করে পুলিশ।
আনিসুল হক জাহাঙ্গীর চরবাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি খাসেরহাট বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী ও সূবর্ণচর উপজেলার আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
পুলিশের দাবি, আটক জাহাঙ্গীর ১৩ নভেম্বর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য লোকজন জোগাড় ও পৃষ্ঠপোষকতা করছিলেন। তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে খাসেরহাট বাজার লকডাউন করে বন্ধ করে দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুর রহমান খোকন এবং চরবাটা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বাজার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা মেম্বার।
গোলাম মাওলা মেম্বার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আনিসুল হক জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগ করে কিনা জানি না। তবে তিনি বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তাকে বিনা কারণে কেন গ্রেপ্তার করা হলো তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। তারা দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করেছে।’
অন্যদিকে বিএনপি নেতা আবদুর রহমান খোকনও বলেন, ‘জাহাঙ্গীর একজন পরিচিত ব্যবসায়ী। তার গ্রেপ্তারে বাজারে লকডাউন কর্মসূচি পালিত হয়। আমি একটি মিটিংয়ে আছি। বিস্তারিত পরে জানাবো।’
এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষ নিয়ে বাজার লকডাউন করার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজারে বিক্ষোভ করে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও অধিবাসীরা। এসময় তারা গোলাম মাওলা মেম্বারকে প্যানেল চেয়ারম্যান ও বাজার কমিটি থেকে অপসারণ এবং আবদুর রহমান খোকনকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কারের দাবি জানান।
মো. হানিফ নামে এক বিক্ষোভকারী খবরের কাগজকে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ফ্যাসিস্ট হাসিনার মদদপুষ্ট একজন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগার। টাকা খেয়ে তাকে বাঁচাতে বিএনপির লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। বিএনপি নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বিএনপি এবং সাধারণ জনগণ অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা তার বিচার চাই।’
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সংঘটিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আনিসুল হক জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
মজনু/রিফাত/