ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৩ জন। দ্বাদশ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭১ জন। সে হিসাবে এবার ভোটার বেড়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৩৬২ জন। এই তরুণ ভোটাররাও ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন নির্বাচনে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন ভোটাররা যাকে পছন্দ করবেন। তিনিই প্রতিনিধিত্ব করবেন আসনটির। নতুন ভোটারদের দাবি, বিগত সরকারগুলোর আমলে নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলায় কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও লাগেনি ভোলাহাট উপজেলায়।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারে ভোটের মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটের মাঠে এনসিপি, সিপিবির প্রার্থীর থাকলেও আওয়ামী লীগ না থাকায় মূলত লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। ১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সবশেষ ১০টি সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পাঁচবার, আওয়ামী লীগ তিনবার, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি একবার করে জয়ী হয়েছে। তবে অতীতে সব রেকর্ড ভেঙে এবার এ আসনে জয়ী হতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী।
এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে বেশি উপক্ষো করছেন আমিনুলেরই ভাবি মাসউদা আফরোজ হক শুচি। আমিনুলের মনোনয়নের বিরোধিতা করে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায় মশাল মিছিল, বিক্ষোভ, ট্রেন অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া অন্য মনোনয়নবঞ্চিতরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। আমিনুল ইসলামও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট চাইছেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিটিং-মিছিল করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত মাসউদা অফরোজা হক সূচি বলেন, ‘আমিনুল ইসলামকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত নয়। তাই শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আপিল করার সুযোগ আছে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে না। আমিনুল ইসলাম দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অমান্য করেছেন। দলের নির্দেশনা ছিল- মনোনয়ন পাওয়ার পর মিষ্টি বিতরণ করা যাবে না। প্রথমে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠে নামার, যা তিনি করেননি। এ ছাড়া দলের জন্য তার উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান নেই।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আমার মনোনয়ন নিয়ে বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই বিরোধ আগের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে। আগামী দিনগুলোয় এই বিরোধ আরও কমে আসবে। দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই মনোনীত করেছে।’
বিএনপিতেও প্রার্থী নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের প্রার্থীর দাবি, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে একক প্রার্থী দিয়েছিল দলটি। সেই নির্বাচনে তাদের পরাজয় হয়। এরপর বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় জামায়াত। সমর্থন দেয় বিএনপি প্রার্থীকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থী দিয়ে জয় আশা করছে জামায়াত। তাদের দাবি, আসনটিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছে অনেক বার, এবার নতুন কাউকে সংসদ সদস্য বানাতে চান ভোটাররা।
এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন মিজানুর রহমান। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। মিজানুর রহমান বলেন, ‘১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থী ছিল জামায়াতের। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট ছিল। এরপর আর নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি জামায়াত। তবে এবার আমি শতভাগ আশাবাদী। আমরা প্রচার করছি। যার কাছেই যাচ্ছি সবাই সাড়া দিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ, শ্রমিক ও নারীদের সাড়া বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’
নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত প্রচার চালাচ্ছে নিয়মিত। এনসিপির মনোনয়ন চেয়েছেন কয়েকজন। তবে জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলো একেবারেই নেই ভোটের মাঠে।