আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনসহ সারা দেশে ব্যাপকভাবে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত ঢাকা জেলায় ৮১ জনসহ দেশের ৩৮ জেলায় চার শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি, সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত ত্রুটি, ঋণখেলাপি ও অন্যান্য আইনগত কারণ দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আজ রবিবার শেষ হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশের সার্বিক চিত্র তুলে ধরবে।
আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন। আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মোট ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আপিল দাখিল করতে হবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
ঢাকা: নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনে মোট ২৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে এবং ঢাকা-১ আসনে একজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ ছাড়া ৮১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছেন আলোচিত ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
গতকাল সকালে সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডা. তাসনিম জারার জমা দেওয়া সমর্থনকারী ভোটারের তালিকা থেকে যাচাইয়ের জন্য নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে দুজনকে সংশ্লিষ্ট আসনের বৈধ ভোটার হিসেবে পাওয়া যায়নি।
মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা জানান, তিনি সব সময় স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন এবং জনগণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। আপিল প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন বলেও জানান তাসনিম জারা।
এ ছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. খালেকুজ্জামান এবং আমজনতা দলের রাজু আহমেদ। ঢাকা-১৫ আসনে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তানজিল ইসলাম।
কুমিল্লা: কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ১৩টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। এর মধ্যে আটটি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মাহবুবুর রহমান, খেলাফত মজলিসের আবদুল হক আমিনী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা, রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ইয়াছির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মোহাম্মদ মফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ আবুল কাশেম।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাছাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ১৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন মুজাম্মিল হক তালুকদার, হাজি মুখলেছুর রহমান, ঋতেশ রঞ্জন দেব, সৈয়দ তালহা আলম, মাহমুদ আলী, মাহফুজুর রহমান খান, হুসাইন আহমেদ, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবিদুল হক, মো. আমিরুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোশাহীদ আলী তালুকদার ও মো. সিরাজুল ইসলাম।
দিনাজপুর: দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অমৃত কুমার রায়ের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা: খুলনার ছয়টি আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ওই সব আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৫৬টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
নড়াইল: নড়াইল-১ আসনে ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন মাহফুজা বেগম, আসজাদুর রহমান মিঠু, আবদুল আজিজ, নাজমুল হাসান উজ্জ্বল, গাজী মাহাবুবুর রহমান ইমরান, সুকেশ সাহা আনন্দ, এস এম সাজ্জাদ হোসেন, মো. সাকিব হাসান, এস কে এম সাজ্জাদ হোসেন ও গাজী খালেদ আশরাফ।
পাবনা: পাবনা-১ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন খায়রুন নাহার খানম ও হাজি ইউনুস আলী।
রাজবাড়ী: রাজবাড়ী-২ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন সোহেল মোল্লা, মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুল মালেক মণ্ডল, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক ও মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন।
শেরপুর: শেরপুরের তিনটি আসনের ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ, পাঁচজনের বাতিল এবং একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন মাহমুদুল হক মনির, মো. ইলিয়াস উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, ইলিয়াস খান ও রফিকুল ইসলাম বেলাল।
সিলেট: সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে সাতজনের মনোনয়ন বাতিল এবং পাঁচজনের মনোনয়ন স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১২ আসনে সিরাজুল ইসলাম, এম ইয়াকুব আলী, শাখাওয়াত হোসাইন ও সৈয়দ সাদাত আহমদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনে মোট ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন শাহীন রেজা চৌধুরী, আব্দুর রহিম মোল্লা, কাজী রেহা কবির, খাইরুল ইসলাম ঠাকুর, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, এ এইচ এম কাইয়ুম, নজরুল ইসলাম, ডা. মোহাম্মদ হাবিল মিয়া, মোহাম্মদ আয়ুব হোসেন ও শরীফুল হক জয়।
রংপুর: রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হন ৪৪ জন। বাদ পড়েছেন ১২ জন প্রার্থী। তারা হলেন ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী, আনোয়ার হোসেন বাবলু, রিটা রহমান, আব্দুস সালাম, জয়নুল আবেদীন, শাহ আলম বাশার, খন্দকার মুকিত আল মাহমুদ, আব্দুল বাছেদ, খন্দকার শাহিদুল ইসলাম, তাকিয়া জাহান চৌধুরী, শাহ জামান রওশন ও মো. কামরুজ্জামান।
রাজশাহী: রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৮ জনের মধ্যে ১৯ জনেরই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন সুলতানুল ইসলাম তারেক, সালেহ আহমেদ, শাহাবুদ্দিন, হাবিবা বেগম, রেজাউল করিম, রায়হান কাওসার, ইসফা খায়রুল হক শিমুল, জুলফার নাঈম মোস্তফা, মীর মো. শাহাজান, মো. ওয়াহেদুজ্জামান, ফজলুর রহমান, সাঈদ পারভেজ, ফজলুল হক, তাজুল ইসলাম খান, রুহুল আমিন, আলতাফ হোসেন মোল্লা, আল-সাদ, মো. সুলতানুল ইসলাম, মো. শাহাবুদ্দিন ও ইকবাল হোসেন।
নীলফামারী: জেলার চারটি আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন রফিকুল ইসলাম, আবুল হাসনাত সাইফুল্লাহ রুবেল, মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ, রোহান চৌধুরী, আমজাদ হোসেন, রিয়াদ আরফান সরকার রানা, মামুন অর রশিদ মামুন, শাহরিয়ার ফেরদৌস ও জোবায়দুর রহমান।
খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি আসনে ১৫টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সাতজনের মনোনয়ন বাতিল এবং একজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে ২৫ জনের মধ্যে আটজনের মনোনয়ন বাতিল এবং চারজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাগেরহাট: জেলার চারটি আসনে ৩২ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন রেজাউল করিম, এম এ গোফরান, আবুল বাশার, কেফায়েত উল্যা, ফরহাদ মিয়া ও হারুন অর রশিদ।
গাজীপুর: জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল: জেলার আটটি আসনে ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার: জেলার চারটি আসনে ৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে মোট ৪৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
চাঁদপুর: জেলার পাঁচটি আসনে ৪৬ জনের মধ্যে ১৭ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বরিশাল: বরিশাল জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
যশোর: যশোরের ছয়টি আসনে মোট ১৮ জনের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।