ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে সিলেট সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সিলেট জেলায় পৌঁছাবেন। রাতে হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগদান করবেন।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে এসব কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে সমাবেশে যোগদান করবেন তারেক রহমান। যাত্রাপথে দুপুর আড়াইটায় হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদ মাঠে তিনি সমাবেশে যোগ দেবেন।
এরপর বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগদান করবেন এবং বিকেল ৫টায় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে নির্বাচনি সমাবেশে যোগদান করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর যাত্রাপথে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি নরসিংদী পৌর পার্ক সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনি সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর রাত ৮টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে/ রূপগঞ্জ গাউছিয়া এলাকায় সমাবেশে যোগদান করবেন এবং এদিন গভীর রাতে গুলশানস্থ নিজ বাসভবনে ফিরবেন, ইনশা আল্লাহ।
মাহদী আমিন বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট সব জেলা প্রশাসক তথা রিটার্নিং অফিসার, অর্থাৎ সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রদানের মাধ্যমে অবহিত করেছি।
তারেক রহমানের সফর সঙ্গী হচ্ছেন ত্যাগীরা
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনি সফর সঙ্গী হবেন ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনে এবং গণঅভ্যুত্থানের ত্যাগী নেতারা। পর্যায়ক্রমে তাদের সফরসঙ্গী করা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে এবং গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি এবং প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অনবদ্য, অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতিটি সফরে, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী, শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ক্রমে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে তাদের মূল্যায়ন করা হবে।
সিলেট সফরে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যাচ্ছেন আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বেশকিছু ত্যাগী, সংগ্রামী তরুণ নেতা।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিবাচকভাবে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়ে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা আহ্বান জানাই, নির্বাচনি আচরণ বিধি পূর্ণাঙ্গ প্রতিপালনের মাধ্যমে বহুল আকাঙ্খিত নির্বাচনে যেন জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে এই নির্বাচন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
শফিকুল ইসলাম/নাঈম