বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, রিফর্ম (সংস্কার) করলাম, সংবিধান পরিবর্তন করলাম, আইন-কানুন পরিবর্তন করলাম। কাগজে কলমে সবকিছু করতে পারব। কিন্তু মানুষের জীবন যদি সহজ করে তুলতে না পারি, তাহলে কোনোটাই কাজে আসবে না।
আজ শনিবার ঢাকার বনানী ক্লাবে একটি আইটি সংক্রান্ত প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানী ক্লাব অডিটোরিয়ামে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম।
মঈন খান বলেন, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির দিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। আবার নতুন করে গণতান্ত্রিক একটা পদ্ধতিতে আমরা ফিরে যাব, কিন্তু গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে জনগণ। যদি জনগণের কল্যাণ আমরা সাধন করতে না পারি, তাহলে এই গণতন্ত্র বলি আমরা যতই বলি না কেন, এটা দিয়ে কিন্তু দেশের মানুষ সন্তুষ্ট হবে না।
তিনি বলেন, আইসিটি নিয়ে আজ যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, সেগুলো ২০-২৫ বছর আগেও তিনি শুনেছেন। গত ২৫ বছরে সেই কথাগুলো বাস্তবায়িত হল না কেন? আজ আবার কেন নতুন করে একই কথা বলতে হচ্ছে? ২০০৫ সালের দিকে প্রণীত বাংলাদেশের আইসিটি নীতিমালা আজও কার্যকর রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সেটির কোনো আধুনিকায়ন হয়নি। অথচ প্রযুক্তি দ্রুত বদলে গেছে।
বাংলাদেশকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রথম আইসিটি মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বলে উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন করে আইসিটি খাতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত ১৫ বছরে আইসিটির নামে প্রকৃত প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের চেয়ে দুর্নীতিই বেশি হয়েছে। কালিয়াকৈরে আইসিটি পার্ক প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও বাস্তব সুফল শূন্য—এটি তার একটি বড় উদাহরণ।
আইসিটির বাস্তব প্রয়োগে জনভোগান্তির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে গাড়ির রোড ট্যাক্স অনলাইনে দিতে গিয়ে সার্ভার সমস্যার কারণে সাত দিন ধরে সাতটি অফিসে ঘুরতে হয়েছে। শেষ তারিখ পার হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষের জীবন সহজ করার বদলে যদি প্রযুক্তি জীবনকে জটিল করে তোলে, তাহলে আইসিটি চালুর প্রয়োজন কী?
আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে স্কুল-কলেজ, অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরসহ নির্দিষ্ট জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেবে। এতে দেশের সবাই সহজে তথ্য নিতে ও আধুনিক সেবা ব্যবহার করতে পারবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিএনপি ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে কাজ করবে বিএনপি। মেধাবীদের জন্য যুতসই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পেপ্যাল আনতে এরইমধ্যে বিএনপি কাজ শুরু করেছে।
শফিকুল/মাহফুজ