‘একচেটিয়া পুঁজিবাদের স্বার্থে’ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাম নেতারা। তারা বলেছেন, এই আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই যুদ্ধের মাশুল দেবে বিশ্বের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশুসহ আরও অনেকে।
তারা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে এই পারস্পরিক সামরিক উত্তেজনা যে গতিতে বাড়ছে, তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এখন আর কোনো কাল্পনিক বিষয় নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় গণহত্যা, লেবাননে সামরিক অভিযান এবং এখন ইরানে সরাসরি আগ্রাসন—এ সবই বিশ্বকে একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরানে এখন ‘মৌলবাদী শক্তি’ রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে উল্লেখ করে বাম নেতারা বলেন, ইরানি জনগণের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজ দেশের ভাগ্য ও শাসক নির্ধারণের অধিকার অলঙ্ঘনীয় এবং এটা একমাত্র সেই দেশের জনগণের অধিকার। সাম্রাজ্যবাদ সেই অধিকারকে বলপূর্বক কেড়ে নিতে চাইছে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ যখন ‘গণতন্ত্র’ ও ‘মানবাধিকারের’ মোড়কে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তখন তা সেই দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করার এবং কৌশলগত ‘আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার’ হয় বলে উল্লেখ করেন বাম নেতারা।
জয়ন্ত সাহা/নাঈম