প্রতিবছর ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি দেশ ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ অবস্থায় রয়েছে। সাংবাদিক হত্যা, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধ, করপোরেট প্রভাব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। নরওয়ে শীর্ষে থাকলেও ইরিত্রিয়া সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে।
ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ সহজ হলেও ভুয়া খবর, অনলাইন হয়রানি ও সাইবার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তথ্য যাচাই ও মিডিয়া লিটারেসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে তরুণ সাংবাদিকরা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা এখনো দুর্বল। সাংবাদিকদের ওপর চাপ কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি সমাজের তথ্য অধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ হলো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। প্রয়োজন সাংবাদিক সুরক্ষা, তথ্য অধিকার আইনের বাস্তব প্রয়োগ, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল নৈতিকতা জোরদার করা। সত্যকে দমন করা গেলেও তা শেষ করা যায় না। স্বাধীন গণমাধ্যমই দুর্নীতি উন্মোচন করে, মানবাধিকার রক্ষা করে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। তাই মুক্ত গণমাধ্যম কেবল সাংবাদিকদের দাবি নয়–এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি।
ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
লেখক
[email protected]