নারী ও শিশুর সম্ভ্রম ও অন্যান্য অধিকার রক্ষার জন্য নানাবিধ আইন-আদালত এবং পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পরও পর্যবেক্ষকদের মতে এ ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি সাধিত হয়নি। বিশেষ করে নারীর সম্ভ্রমহানি মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। জনদাবি উঠেছে এগুলো কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কয়েক দশক ধরে জনসাধারণের দাবি, এসব ঘটনায় শাস্তি হতে হবে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক। রামিসার সম্ভ্রমহানি ও খুনের ঘটনার পর এ দাবি আরও উচ্চকিত হয়ে উঠেছে। দোষীর মৃত্যুদণ্ড চাই। তার মানে বিচারকের রায় দেওয়ার কষ্টসাধ্য কাজটি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরাই করে দিচ্ছেন অর্থাৎ অপরাধের বিষয়টি তাদের জানা। ফলে তারা এও জানেন যে, এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা, নোয়াখালীর নুসরাত হত্যা মামলা, মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলাসহ জেলা জজ পর্যায়ের কয়েক হাজার মামলার রায় আপিল হিসেবে বিবেচনার জন্য উচ্চতর আদালতের বিচারকদের কাছে ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে অপেক্ষমান। উল্লেখ্য, ছগিরা মোর্শেদ খুনের মামলার চূড়ান্ত রায় হতে ২৬ বছর সময় লেগেছে। ইয়াসমিন খুনের মামলার রায় কার্যকর হতে ১৮ বছর এবং আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড মামলার রায় কার্যকর হতে ১২ বছর সময় লেগেছিল। এ প্রেক্ষাপটে যত আন্তরিক আশ্বাসই দেওয়া হোক উচ্চতর পর্যায়ে আপিলের শুনানি নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর হতে রামিসার পরিবার কত বছরে সুষ্ঠু বিচার পাবে তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েঁছে। অভিযুক্তদের স্বপক্ষে উকিল দেওয়া যাবে না, এমন দাবির বিরুদ্ধে একদল দাঁড়িয়ে গেছে, উকিল দেওয়া হয়েছে সরকারের দিক থেকে। বিষয়টি লঘু হওয়ার পথে।
মাসুদ আহমেদ
সাবেক সিনিয়র সচিব ও প্রজাতন্ত্রের সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল
[email protected]