একজন বাবা কতটা অসহায় হলে বলতে পারেন–‘আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই না, কারণ আমি জানি আপনারা বিচার করতে পারবেন না, আমি স্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারি। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। অতীতের বহু ঘটনা কিছু দিন আলোচনার পর ধামাচাপা পড়ে যায়, তাই বিচার পাওয়ার বিষয়ে তার কোনো আস্থা নেই।’ দেশের প্রচলিত ঘুণে ধরা আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি যখন জনগণের চরম আস্থার সংকট তৈরি করে তখন দেশের বিচারহীনতার কথা শুধু নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার মুখের ভাষা নয়। এতে দেশের ভুক্তভোগী আরও অনেক মানুষের মনের কথা বাস্তবে ফুটে উঠেছে।
ঢাকার মিরপুরের স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ও মাত্র আট বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যা রামিসাকে গত ১৯ মে ২০২৬ মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সোহেল রানা নামের এক প্রতিবেশী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এই খুনিকে শুধু জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য দেশের প্রচলিত সাধারণ আইনে লোকদেখানো গ্রেপ্তার করে তা কখনো কাম্য নয়। ধীরগতিতে এই বিচার কাজ চলাও যথার্থ নয়! তাই জাতির প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে প্রচলিত আইনের ধারা সংশোধন করে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘাতককে জনসম্মুখে ফাঁসির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এম. কামরুল হাসান চৌধুরী
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
[email protected]