দেশে এখন হাম ও রুবেলার মহামারি চলছে। তাতে শিশুমৃত্যুর হার ভয়ানক পর্যায় রয়েছে। ইতোধ্যে দেশে চার শতাধিক শিশু মারা গেছে এ রোগে। অভিভাবকরা তাদের আদরের পরম ধন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে চলেছেন তাদের শিশুদের নিয়ে। একটি সিটের জন্য ঘুরতে ঘুরতে কোলেই বাচ্চা মারার যাওয়ার দৃশ্যটি ছিল চোখে জল আসার মতো। এক দম্পতি ১১ বছর ডাক্তারের কাছে ধরনা দিতে দিতে তাদের কোলজুড়ে একটি সন্তান আসে। সে বাচ্চাটিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এমন অনেক হৃদয়-বিদারক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে হাম ও রুবেলার মহামারিতে। একটি দেশের স্বাস্থ্য খাত কতটা জরাজীর্ণ তা এ হামের মতো মহামারিতেই বোঝা যাচ্ছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে টিকা কর্মসূচিতে ছিল চরম গাফিলতি। তাতেই দেশের মধ্যে হামের সুরক্ষা বলয় ভেঙে পড়ে। তার পর যখন বছরের শুরুতে হামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটে তখনো স্বাস্থ্য খাতের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙেনি। হাম-রুবেলা ছড়িয়ে পড়লে আইসোলেশন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাত চরম গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে। হাম-রুবেলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পর যে ধরনের সতর্কতা জারি করা দরকার ছিল, তা করতেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। গ্রামে কোনো বাচ্চার হামের লক্ষণ দেখা দিলেই পরিবার তাদের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে। তাতে হামের মহামারি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতলে আইসিইউ কেবিনের সংকটে অনেক হাম আক্রান্ত শিশুকে বাঁচানো যাচ্ছে না। তাই আইসিইউ কেবিন বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে হামে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। এমতাবস্থায়, রাষ্ট্রকে হাম-রুবেলার মতো চিকিৎসা এবং টিকায় দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। যাতে আমাদের এমন করুন মৃত্যু আর দেখতে না হয়।
হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ী, সিপাহিপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]