চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনও সীমিত রয়েছে তবে শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ। ডেঙ্গুর নতুন ভেরিয়েন্ট এবং রোগটির বিস্তারের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। জনসচেতনতার পাশাপাশি বাড়ছে সমন্বিত কার্যক্রম। চট্টগ্রাম জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ২০৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে একজনের।
নগরের ২ নম্বর এলাকার রহমান নগরের বাসিন্দা আয়েশা খবরের কাগজকে বলেন, সন্ধ্যা হলেই ঘরের জানালা বা দরজা দিয়ে দলবেধে মশা আসতে শুরু করে। বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় আমরা এখন আরও বেশি উদ্বিগ্ন। এটা মোকাবেলায় এখন থেকেই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরকে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে চসিক। দ্রুত সেবা দিতে ডেঙ্গু কর্ণার তৈরি করেছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এডিস মশার লার্ভা থেকে বিভিন্ন রোগ ডেঙ্গু, চিকুগুনিয়া, জিকাভাইরাস হয়ে থাকে। কাজেই এই ধরণের রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডাবের খোসা, পলিথিন, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা অপসারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, যে সমস্ত ডেঙ্গু পজেটিভ রোগী পাওয়া যাবে তাদের নমুনাগুলো আইইডিসিআরে পাঠাতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন ধরণের ভেরিয়েন্ট দিয়ে এবারের ডেঙ্গু সংক্রমিত হচ্ছে সেবিষয়ে একটা নির্দেশনা পাওয়া যাবে। সে ভেরিয়েন্ট এর বিরুদ্ধে কী কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারেও তখন একটি নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ড সহ অন্যান্য ওয়ার্ডে আমরা আলাদা করে ডেঙ্গু কর্ণার করেছি। যাতে আমরা দ্রুত তাদের চিকিৎসা দিতে পারি।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ২০২৩ সালে। বছরটিতে মৃত্যুর হারও ছিল সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৫ হাজার ৪৪৫ জন, মারা গেছে ৪১ জন। কিন্তু ২০২৩ সালের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। সে সময় রোগটিতে ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত এবং মারা যায় ১০৭ জন। তার পরের বছর ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৩২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং মারা যায় ৪৫ জন। ২০২৫ সালে রোগটিতে ৪ হাজার ৮৬৪ জন আক্রান্ত হয় এবং মারা গেছে ২৭ জন।
উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে জীবাণুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে এডিস মশা এবং এতে মশার বংশবিস্তারও ত্বরান্বিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন বাসা বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে, ডাবের খোসা এবং পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ারে জমে থাকা পানিতেও মশার বংশবিস্তার হয়।
তাই নগরবাসীকেও সচেতন হবার আহবান জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
আমান