ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ জ্বালানি তেলের ভবিষ্যত কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড

চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: খবরের কাগজ

মায়ানমার থেকে আসা কিছু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভাষাগত মিলের কারণে তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সহজে মিশে যাচ্ছে, যা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা একথা বলেন।

বুধবার (১৭ জুন) চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়া
এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এরকম রোগী বাইরে কতজন ঘুরাফেরা করছে তা আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

অপরদিকে, ২০২৫ সালে সারাদেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১৮৯১ জন। যার মধ্যে ২১৭ জন রোহিঙ্গা।

আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ আর টি সেন্টারে ৩৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে পজিটিভ ৮১ জন, নেগেটিভ ৩৮৬১জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা। যার মধ্যে ১৫ জন মারা যায়।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হচ্ছে তার শরীরে এইডসের প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজেটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘর সংসার করতে পারেন। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছেন।

সন্তানদের শরীরে এইচআইভি’র জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফসল। এই ইতিবাচক দিকের একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে।অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করছেন। কারণ তারা জানে এইচআইভি আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একইসঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম।

দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

আমান/

জ্বালানি তেলের ভবিষ্যত কি চীনের হাতে?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০১ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
জ্বালানি তেলের ভবিষ্যত কি চীনের হাতে?
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন চূড়ান্ত সমঝোতার পথ খুঁজছে, তখন বিশ্ববাজারে তেলের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কেমন হবে তা নির্ধারণ করছে চীন। 

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীন ইতোমধ্যে তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি কমিয়ে, বিশাল মজুত ব্যবহার করে এবং পরিবেশবান্ধব ক্লিন এনার্জির (স্বচ্ছ জ্বালানি) ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে তেলের উচ্চমূল্যের ধাক্কা সামাল দিয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হলেও, চীনের এ বিপর্যয় সামাল দিতে বেগ পেতে হয়নি।  অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারেও।

২০২৬ সালের শুরুতে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করেছিলেন, অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু বিশ্ববাজারে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলের সংকট থাকলেও তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা চীনের ভূমিকাকেই সামনে আনছেন।

জ্বালানি বিষয়ক থিঙ্ক-ট্যাংক 'এম্বার' এর প্রধান ড্যান ওয়াল্টার বলেন, ’চীন এখানে এশিয়ার বাকি দেশগুলোর জন্য একটি বাফার (সুরক্ষা কবচ) হিসেবে কাজ করেছে, যা পরোক্ষভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছে।’

সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা দ্রুত স্বাভাবিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। এমন পূর্বাভাসের পরই তেলের দাম কমতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের আগের সপ্তাহগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ৭০ ডলারের নিচে, যা গত মে মাসের শুরুতে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারে পৌঁছেছিল।

চীনের 'অদৃশ্য হাত'

জুন মাসের শুরুতে ফরাসি বহুজাতিক ব্যাংক 'সোসাইটি জেনারেল' এর বিশ্লেষকেরা জানান, ১৯৭৩ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার সময় বৈশ্বিক সরবরাহে মাত্র ৭ শতাংশ ঘাটতির কারণে তেলের দাম ১৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু এবারের ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ১৪ শতাংশ ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও দাম সে অনুপাতে বাড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখানে বাজার নিয়ন্ত্রণে 'অদৃশ্য হাত' হিসেবে কাজ করেছে। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমিয়েছে, যা প্রায় জাপানের মোট দৈনিক চাহিদার সমান।

যুদ্ধ শুরুর আগেই রাশিয়া ও ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সুযোগ নিয়ে কম দামে প্রচুর তেল কিনে নিজেদের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল চীন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'রাইস্ট্যাড এনার্জি'-এর তেল বাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনিভ শাহ বলেন, চীনের কাছে বর্তমানে ১০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেলের বিশাল মজুত রয়েছে, যা দেশটি মে মাস থেকে ব্যবহার করা শুরু করেছে। এ ছাড়াও দেশের বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে চীন ডিজেল ও পেট্রোলের মতো পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করেছে। ফলে চীনের শোধনাগারগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করে দেয়।

এ ছাড়াও চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) অভাবনীয় বিপ্লব খনিজ তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া প্রতি দুটি যাত্রীবাহী গাড়ির একটিই পরিবেশবান্ধব বা বৈদ্যুতিক গাড়ি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমেছে।

তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, চীন চিরকাল এই মজুত তেলের ওপর নির্ভর করবে না। তেলের দাম কিছুটা কমলেই চীন আবারও বিশ্ববাজার থেকে তেল কিনে নিজেদের শূন্য ভাণ্ডার পূরণ করা শুরু করবে।

ঘাটতির পরে হতে পারে সরবরাহের প্লাবন

ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তেল সংকটের পর, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এখন বলছে, হরমুজ প্রণালী খুলে গেলে আটকে থাকা প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল একযোগে বাজারে চলে আসবে। ফলে আগামী বছর বাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে।

বুধবার প্রকাশিত আইইএ-র মাসিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন স্বাভাবিক হলে আগামী বছর চাহিদার তুলনায় দৈনিক ৪৭ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত তেল বাজারে আসবে।  

তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইতোমধ্যেই গ্রীষ্মকালীন তেলের চাহিদা মিটিয়ে ফেলেছে। এ অবস্থায় বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে চীনের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই মুহূর্তে বাজারে তেলের অতিরিক্ত জোগান শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কেবল চীনেরই আছে। এখন প্রশ্ন হলো, ’চীন কী দামে এবং কত পরিমাণ তেল কিনতে চাইবে?’

থিওটোনিয়াস/

পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:১১ পিএম
পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ট্রাক চাপায় রাশেদুল ইসলাম জনি (৪০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় পাঁচবিবি-হিলি সড়কের লাঙ্গলহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাশেদুল নওদা ফেনতারা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাশেদুল সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে পাঁচবিবি বাসস্ট্যান্ডে ভাগিনাকে নিতে আসেন। সেখান থেকে পাঁচমাথার দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তায় পিছলে পড়ে। এ সময় হিলির দিক থেকে আসা ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান খবরের কাগজকে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

সাগর কুমার/থিওটোনিয়াস

উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক দুটি অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা, ৩০ বস্তা সার এবং এক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটক জাকির হোসাইন (৩২) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখাল এলাকার বাসিন্দা। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী কাটাখাল এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ৯টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ধাওয়া করে জাকির হোসাইনকে আটক করে। 

তিনি আরও জানান, চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি পোটলা ফেলে যায়। পরে সেসব পোটলা তল্লাশি করে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

অভিযানে চলাকালে মায়ানমার থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের দিকে গুলি ছুড়লে বিজিবির সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

একই রাতে পালংখালী এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৩০ বস্তা বাংলাদেশি সার জব্দ করা হয়।

তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা/

ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গোপন যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে কৌশলে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদারেরা। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি ই-জিপি আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার সম্পন্ন করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তালতলীতে এডিপির চতুর্থ ধাপে ৩৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা পূর্ববর্তী ঘাটতির জন্য সংরক্ষণ রেখে বাকি অর্থ থেকে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্প পিআইসি পদ্ধতিতে এবং ২১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ১৭টি প্রকল্প আরএফকিউ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এ সংক্রান্ত তালিকায় ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, আরএফকিউ পদ্ধতির নিয়ম উপেক্ষা করে ১৭টি প্রকল্পকে চারটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে পরিচালনা করা হয়, যাতে সাধারণ ঠিকাদারেরা কোনো তথ্যই জানতে না পারেন।

স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নিবন্ধিত ঠিকাদার থাকলেও এ টেন্ডার সম্পর্কে তাদের অধিকাংশই অজ্ঞাত ছিলেন। 

তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন রেখে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পাঁচটি নির্দিষ্ট লাইসেন্স ব্যবহার করে নামমাত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স প্রিন্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নাইম এন্টারপ্রাইজ দুটি করে প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে কাজের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউএনও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দক্ষ নন, তাই তার আইডি ব্যবহার করে তিনি নিজেই কাজ সম্পন্ন করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচটি লাইসেন্স থেকে দরপত্র নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই কাজ দেওয়া হয়েছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর কমিটির সভায় প্রকল্প অনুমোদন করা হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মহিউদ্দিন অপু/অন্তরা/

টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং
পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন। 

রবিবার (২২ জুন) বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত) কক্সবাজার জেলায় মোট ১১১ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবৈধভাবে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আমার নির্বাচিত এলাকার নিম্নাঞ্চল রঙ্গিখালী, সুলিচপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও লামারপাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিছু অসাধু ব্যক্তির দখলে থাকা খালগুলো। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত খাল খননের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, সামনে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করবে এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

শাহীন/আজহার/