বিগত দীর্ঘ সময় সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ছিল। জেলে, মৌয়াল এবং বননির্ভর মানুষ নির্বিঘ্নে সুন্দরবনে কাজ করতে পেরেছিলেন। এর অন্যতম কারণ ছিল- সুন্দরবন ঘিরে যত অপরাধী বাহিনী ছিল তার সব বাহিনীর সদস্যই আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অস্ত্র জমাসহ সব অন্যায় কর্মকাণ্ড থেকে এ বাহিনী এতদিন দূরে ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পরেই সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অনেকাংশে কমে যায়। আর সে সুযোগটিই তারা নিয়ে এখন জেলে আর মৌয়ালদের অপহরণ করে বড় অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছাড়ছেন অপরাধীরা। তবে সুন্দরবনের কোস্টগার্ড আর পুলিশের সহযোগিতায় কিছু অপহরণকৃত মানুষ রক্ষা পেলেও বেশির ভাগ অপহরণকৃত মানুষকেই মুক্তিপণ দিয়েই ছাড়া পেতে হচ্ছে। এটা বড় ধরনের একটা সমস্যা হিসেবে এখন জেলে, মৌয়ালদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। অপহরণকারীরা একই বিকাশ দিয়ে বারবার অপহরণকারীদের চাহিদা মোতাবেক টাকা আদায় করলেও কেন মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে তাদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কেস্টগার্ড। সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। গত ৪ ও ৫ মে সুন্দরবনের গোয়ালবুনিয়া, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদীর খাল ও মালঞ্চ নদের চালতে বেড়ের খাল থেকে ২০ জেলে এবং মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে ৭ লাখ টাকার মুক্তিপণের বিনিময়ে তারা ছাড়া পান। তাই সরকারকে বনজীবীদের রক্ষায় সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের শেকড় একেবারে উপড়ে ফেলতে হবে। তাহলে জেলেরা নির্বিঘ্নে সুন্দরবনে নামতে পারবেন।
হাজি মো. রাসেল ভূঁইয়া
খলিফাবাড়ী, সিপাহীপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
[email protected]