চীনের এক নারী ভুলভাবে করা কসমেটিক অস্ত্রোপচারের কারণে গত কয়েক বছর ধরে চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছেন না। এমনকি ঘুমানোর সময়ও তার চোখ খোলা থাকে। পাশাপাশি সারাক্ষণ চোখ দিয়ে পানি পড়া, মানসিক চাপ এবং অনিদ্রার মতো জটিল সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়াংসু প্রদেশের সুজৌ শহরের বাসিন্দা ওয়াং নামের ওই নারী ২০২০ সালে একটি বিউটি ক্লিনিকে ‘ডাবল আইলিড’ বা দ্বৈত চোখের পাতার অস্ত্রোপচার করান। এ জন্য তিনি প্রায় ১২ হাজার ইউয়ান খরচ করেন।
অস্ত্রোপচারের পরপরই তার চোখে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, চোখের পাতা অস্বাভাবিকভাবে উল্টে যায় এবং চোখে তরল জমতে থাকে। পরে জরুরি তাকে বড় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, অস্ত্রোপচারের সময় তার অশ্রুগ্রন্থি (ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড) ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো অপারেশনই ভুল পদ্ধতিতে করা হয়।
পরে আবার অস্ত্রোপচার করা হলেও তার চোখের পাতা আর স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়নি। ফলে ঘুমের সময়ও চোখ খোলা থাকে এবং নিয়মিত চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, যিনি অস্ত্রোপচার করেছিলেন তার কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ ছিল না। এমনকি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটিরও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ওয়াং জানান, এই ঘটনার পর তার স্বাভাবিক জীবন প্রায় ভেঙে পড়েছে। চেহারার পরিবর্তনের কারণে তিনি মানুষের সামনে যেতে সংকোচ বোধ করতেন। কর্মজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি হতাশা ও অনিদ্রায় ভুগেছেন। ২০২২ সালে স্থানীয় ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক অবস্থাকে স্থায়ী অক্ষমতার একটি স্তর হিসেবে মূল্যায়ন করে।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ক্ষতিপূরণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং আইনি জটিলতা নতুন করে শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আদালতের এক রায় নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা এখনও আলোচনায় রয়েছে।
এই ঘটনা আবারও চীনের কসমেটিক সার্জারি খাতের নিরাপত্তা, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার করার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
অমিয়/