আজ ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।
দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে মানুষকে সচেতন করে তোলা।
২০২৬ সালের দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “একসাথে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি: নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন, নীরব ঘাতককে পরাজিত করুন!”
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় “নীরব ঘাতক”। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে এ রোগ শরীরে বাসা বাঁধলেও তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। অথচ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ২০০৫ সালে World Hypertension League দিবসটির সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে রক্তচাপ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক র্যালি, আলোচনা সভা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর তথ্যমতে, বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেকেই জানেন না যে তারা এ রোগে ভুগছেন। আবার অনেকেই রোগ শনাক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে।
বাংলাদেশেও উচ্চ রক্তচাপ বর্তমানে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। শুধু বয়স্ক নয়, তরুণদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
তারা বলছেন, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য সংস্থা ও সামাজিক সংগঠন বিনামূল্যে রক্তচাপ পরীক্ষা, সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজভিত্তিক উদ্যোগও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা ১৮ বছর বয়সের পর থেকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন।