বর্তমান সময়ে ফিটনেস নিয়ে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কেউ জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন, কেউ আবার সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম করেন। তবে ভারতের এমন একটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে ফিটনেস কোনো শখ নয়; বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দক্ষিণ দিল্লির আসোলা-ফতেহপুর বেরি গ্রামটি আজ পরিচিত ‘বাউন্সারদের গ্রাম’ এবং ‘ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাম’ হিসেবে। এখানকার বাসিন্দাদের জীবনযাপন, কঠোর অনুশাসন এবং শরীরচর্চার প্রতি নিবেদনই এই পরিচিতি এনে দিয়েছে।
ফিটনেসই দৈনন্দিন জীবনের অংশ
আসোলা-ফতেহপুর বেরির অধিকাংশ তরুণ সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা ধরে শরীরচর্চা করেন। গ্রামজুড়ে রয়েছে একাধিক আখড়া ও জিম, যেখানে সব সময় তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। স্থানীয়দের কাছে জিম শুধু ব্যায়ামের জায়গা নয়, অনেকটা মন্দিরের মতোই সম্মানের স্থান।
এখানে আধুনিক জিমের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মাটির কুস্তিরও ব্যাপক চর্চা রয়েছে। শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য তরুণরা নানা ধরনের কঠিন প্রশিক্ষণ নেন। কেউ মোটরসাইকেল তুলে ব্যায়াম করেন, কেউ ট্র্যাক্টর টেনে শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন করেন। আবার অনেককে সহযোদ্ধাকে কাঁধে নিয়ে ট্রেনিং করতে দেখা যায়।
শৈশব থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি
গ্রামটিতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শরীরচর্চা ও কুস্তির প্রতি উৎসাহিত করা হয়। পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের মোবাইল ফোন বা টেলিভিশনের পরিবর্তে আখড়ামুখী করতে বেশি আগ্রহী।
স্থানীয় প্রবীণদের বিশ্বাস, কঠোর অনুশাসন ও নিয়মিত পরিশ্রমই একজন মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। ফলে গ্রামের তরুণরা নির্দিষ্ট রুটিন মেনে জীবনযাপন করেন।
বিশেষ খাদ্যাভ্যাস
আসোলা-ফতেহপুর বেরির কুস্তিগীর ও শরীরচর্চাকারীদের খাদ্যতালিকাও বেশ পরিচিত। অধিকাংশই নিরামিষ খাবার গ্রহণ করেন। তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকে দুধ, দই, ঘি, বিভিন্ন ধরনের শুকনো ফল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।
এ ছাড়া গ্রামের অনেকেই মদ্যপান ও ধূমপান থেকে দূরে থাকেন। তাদের বিশ্বাস, সুস্থ শরীর ও শক্তিশালী মন গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্ন ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন বলা হয় ‘বাউন্সার ফ্যাক্টরি’?
এই গ্রামকে অনেকেই ‘বাউন্সার ফ্যাক্টরি’ বলে থাকেন। কারণ গ্রামের বিপুলসংখ্যক তরুণ নিরাপত্তা পেশার সঙ্গে যুক্ত। প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই একজন বা একাধিক যুবক দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন নাইট ক্লাব, হোটেল, বার এবং বড় অনুষ্ঠানে বাউন্সার বা বডিগার্ড হিসেবে কাজ করেন।
শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস এবং শৃঙ্খলার কারণে তাদের চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৫ সালে বিজয় তানওয়ার নামে এক কুস্তিগীর প্রথম বাউন্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে গ্রামের আরও অনেক তরুণ এই পেশায় যুক্ত হন এবং একসময় এটি গ্রামের অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়।
অনুপ্রেরণার প্রতীক
আসোলা-ফতেহপুর বেরি আজ শুধু একটি গ্রাম নয়; এটি কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং আত্মনিয়োগের একটি উদাহরণ। এখানকার তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছেন, সঠিক লক্ষ্য, নিয়মিত অনুশীলন এবং দৃঢ় মনোবল থাকলে গ্রামে বসেও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করা সম্ভব।
ফিটনেস, অনুশাসন এবং অধ্যবসায়ের অনন্য সমন্বয়ের কারণে গ্রামটি বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছেও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে এবং অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। সূত্র: নিউজ১৮
অমিয়/