চীনের আনহুই প্রদেশের শেং হাইলিন ৬০ বছর বয়সে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক মা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৬। বহু বছর পর তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন একটি আলোকচিত্র সিরিজ আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতার পর।
২০০৯ সালে শেং হাইলিনের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মারা যান তার একমাত্র মেয়ে ও জামাতা। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর মানসিক আঘাতে ভেঙে পড়েন তিনি। দীর্ঘ শোক ও একাকীত্ব কাটিয়ে ওঠার জন্য পরে আবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তখন তার বয়স ছিল ৬০। এত বেশি বয়সে গর্ভধারণকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছিলেন অনেক চিকিৎসক। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের একটি সামরিক হাসপাতাল তাকে আইভিএফ চিকিৎসা দিতে সম্মত হয়।
২০১০ সালের মে মাসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশু দুটির নাম রাখা হয় ঝিঝি ও হুইহুই। ওই সময় ঘটনাটি চীনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। কারণ দেশটিতে তখনও দীর্ঘদিনের এক-সন্তান নীতির প্রভাব ছিল এবং এত বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনা ছিল অত্যন্ত বিরল।
বর্তমানে শেং হাইলিন চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতা। তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। তিনি প্রায়ই সন্তান হারানো বাবা-মায়েদের মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন এবং নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
তবে বয়সের কারণে সন্তানদের বড় করা তার জন্য সহজ ছিল না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়েদের লালন-পালনের খরচ চালাতে তিনি বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্যবিষয়ক বক্তৃতা দিয়েছেন। এমনকি শিশুদের দেখাশোনার জন্য আলাদা সহকারীও রাখতে হয়েছিল।
শেং হাইলিন বলেন, ‘আমার মেয়েদের কান্নার শব্দ আমাকে আমার প্রয়াত মেয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। ওরাই আমাকে আবার বেঁচে থাকার সাহস দিয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন বেশি বয়সেও সন্তান নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে এতে মা ও শিশুর জন্য উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অকাল প্রসবসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি থেকে যায়। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
অমিয়/