উমরা সংশ্লিষ্ট কিছু পরিভাষা রয়েছে। পরিভাষাগুলো জেনে নিলে উমরা পালন সহজ হয়। প্রয়োজনীয় কিছু পরিভাষার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো—
ইহরাম: কিছু কিছু ফকিহ বলেছেন, হজ বা উমরার নিয়ত করে তালবিয়া পড়াকে ইহরাম বলা হয়। কাপড় পরা মূলত ইহরামের প্রস্তুতি গ্রহণ। আবার অনেকে বলেছেন, সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরিধান করে নিয়ত করাকে ইহরাম বলা হয়।
তালবিয়া: হজ ও উমরা পালনার্থীরা ইহরাম গ্রহণের পর থেকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...’ বলে যে পবিত্র ধ্বনি উচ্চারণ করেন, তাকে তালবিয়া বলা হয়।
মিকাত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বায়তুল্লাহর চারদিকে কিছু সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। হজ বা উমরা পালনের উদ্দেশ্যে এসব স্থান থেকে অথবা এসব স্থানের আগে থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। মূলত ইহরাম বাঁধার জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোকে ইসলামি পরিভাষায় মিকাত বলা হয়। হজ-উমরা আদায়কারীর জন্য ইহরাম ছাড়া মিকাত অতিক্রম করা জায়েজ নয়। বাংলাদেশ থেকে বিমানের যাত্রীদের জন্য মিকাত হলো ‘কারনুল মানাজিল’ ও ‘জাতু ইর্ক’ এর মধ্যবর্তী স্থান। বর্তমানে বিমান জেদ্দা এয়ারপোর্টে অবতরণের প্রায় আধঘণ্টা আগে মিকাতের এ স্থানটি অতিক্রম করে থাকে।
তাওয়াফ: কাবাঘরের সাথে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদের কোণ থেকে শুরু করে পুরো কাবাঘরকে বিশেষ নিয়মে সাতবার চক্কর দেওয়াকে তাওয়াফ বলে।
ইজতিবা: পুরুষের জন্য তাওয়াফের শুরুতে ইহরামের চাদর ডান বগলের নিচ দিয়ে বের করে বাম কাঁধের ওপর রাখাকে ইজতিবা বলে।
ইসতিলাম: সরাসরি হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া অথবা হাত দিয়ে স্পর্শ করে হাতে চুমু দেওয়া কিংবা দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারায় চুমু খাওয়াকে ইসতিলাম বলা হয়। অনেক ফকিহ, রুকনে ইয়ামানি হাত দিয়ে স্পর্শ করাকেও ইসতিলাম বলেছেন।
রমল: যে তাওয়াফের পর সাঈ করতে হয়; সে তাওয়াফের প্রথম তিন চক্কর কাঁধ হেলিয়ে-দুলিয়ে ছোট ছোট পায়ে একটু দ্রুত হাঁটাকে রমল বলা হয়। এ বিধান শুধু পুরুষের জন্য।
সাঈ: তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর সাফা ও মারওয়ার মাঝে বিশেষ নিয়মে সাতবার চক্কর দেওয়াকে সাঈ বলা হয়।
হলক: তাওয়াফ শেষে পুরুষের জন্য চুল মুণ্ডানো বা ছোট্ট করা এবং নারীদের চুলের অংশ কাটাকে হলক বলা হয়।
দম: উমরা ও হজের আমলে বিশেষ কোনো শরয়ি ত্রুটি হলে কিংবা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কোনো কাজ করে ফেললে; হেরেম এলাকায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি ছাগল-দুম্বা বা উট-গরুর সাত ভাগের এক ভাগ জবাই করাকে দম বলা হয়।
বাদানা: উমরা বা হজের আমলে কোনো ভুলের কারণে পুরো একটি গরু বা উট জবাই করার বিধানকে ইসলামি পরিভাষায় বাদানা বলে।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক