বিয়ে মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে বিয়ে থেকে বিমুখ থাকবে, সে আমার উম্মত নয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)
বিয়ের দ্বারা নারী-পুরুষের মধ্যে মধুর বন্ধন স্থাপন হয়। এ বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে কিছু শরিয়তসম্মত নির্দেশনা রয়েছে। এখানে কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
পাত্র কেমন হওয়া উচিত
সৎ ও দ্বীনদার হওয়া: বিয়ের পাত্র নির্বাচনে সৎ, দ্বীনদার ও দানশীল ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আবু হাতিম মুজানি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ছেলের দ্বীনদারিতা এবং চরিত্র দেখে তোমাদের পছন্দ হয়, সেই ছেলে যদি তোমাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তা হলে তোমরা নির্দ্বিধায় তার সঙ্গে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে পড়িয়ে দাও। আর যদি তা না করো, তা হলে অচিরেই জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৫)
সমতা (কুফু) এক হওয়া: বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রীর সঙ্গে পাত্রের কুফু এক হওয়া। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করাই কুফুর উদ্দেশ্য। কেননা কুফু এক না হলে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য লেগেই থাকবে। এমনকি এ মনোমালিন্য বিয়েবিচ্ছেদও ঘটাতে পারে। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বার্থে উত্তম নারী গ্রহণ করো এবং সমতা (কুফু) বিবেচনায় বিয়ে করো। আর বিয়ে দিতে সমতার প্রতি লক্ষ্য রাখো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৯৬৮)
পাত্রী কেমন হওয়া উচিত
দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দেওয়া: বিয়ের পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেয়ের শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অর্থসম্পদের প্রতি লক্ষ না রাখা; বরং ধার্মিকতা ও সৎ চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নারীদের (সাধারণত) চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা উচিত। যথা— ১.তার ধনসম্পদ, ২. বংশমর্যাদা, ৩. রূপসৌন্দর্য, ৪. ধার্মিকতা। তবে তুমি দ্বীনদার (ধার্মিক) নারীকে বিয়ে করে সফল হও! অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৫০৯০)
কুমারী নারীকে বিয়ে করা: বিয়ের ক্ষেত্রে কুমারী নারীকে নির্বাচিত করা। যদিও রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-কে ছাড়া অন্য সবাইকে বিধবা অবস্থায় বিবাহ করেছেন। তবে তিনি সাহাবায়ে কেরামকে কুমারী নারী বিবাহ করতে উদ্বুদ্ধ করেছন। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বললেন, ‘তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বলি, হ্যাঁ! তিনি বললেন, কুমারী না অকুমারী? বললাম, অকুমারী। তিনি বললেন, তুমি কোনো কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? তার সঙ্গে তুমি অন্য রকম আনন্দ করতে পারতে, সেও তোমার সঙ্গে অন্য রকম আনন্দ করতে পারত।’ (বুখারি, হাদিস: ২৯৬৭)
বেশি সন্তান প্রসবে সক্ষম নারীকে বিয়ে করা: পাত্রীর গুণকীর্তন করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে বেশি সন্তান প্রসবকারিণী নারীকে বিবাহ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অধিকসংখ্যক প্রসবে সক্ষম নারীকে বিবাহ করো। কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে অন্যান্য উম্মতের সামনে গর্ব করব।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৮৪৬) এসব বিষয় মাথায় রেখে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করতে হবে।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক