রমজান মাস আমলের বসন্তকাল। ইবাদতের স্বর্ণমৌসুম। এ মাসের অন্যতম আমল দান-সদকা। গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। কারণ রোজা ফরজ করা হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। আর এ কল্যাণ তখনই অর্জিত হবে, যখন রোজাদার দানের হাত প্রসারিত করবে। এ মাসে যেকোনো আমলেরই রয়েছে ১০ গুণ সওয়াব। তাই অন্য ১১ মাসের তুলনায় এ মাসে অধিক দান-সদকা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদার ও দানশীল ছিলেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি দানশীল আমি আর কাউকে দেখিনি।’ (মুসলিম, ২৩০৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন রমজান মাসে দান ও বদান্যতার হাত সম্প্রসারিত করতে। হাদিসে এ মাসকে ‘সহানুভূতির মাস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান, ৩৬০৮)
রমজানের রোজা ফরজ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, গরিব-দুঃখী মানুষের কষ্ট অনুভব করা। যারা প্রাচুর্যের মাঝে জীবনযাপন করেন, তারা সারা বছর ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা না বুঝলেও রমজানে কিছুটা বোঝেন। এই বুঝ তখনই সার্থক হবে, যখন তারা গরিব-অসহায়দের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন।
রমজান মাসে আল্লাহতায়ালা প্রতিটি নফল কাজের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই প্রত্যেক রোজাদারের উচিত নিজের সাধ্য অনুযাযী অনাথ, আর্ত, সহায়-সম্বলহীন ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দানের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘আল্লাহর পথে ব্যয় করো, নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর তোমরা মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, ১৯৫)
আমাদের সমাজে এমন অনেক অসহায়-নিঃস্ব লোক আছে, যারা সাহরি ও ইফতারে সামান্য খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খায়। বছরের অন্য সময় কোনোরকম চলে গেলেও রমজানে তাদের দুর্ভোগ ও দুর্দশা বেড়ে যায়। এ ধরনের মানুষদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে রোজাদারের অন্তরে দানশীলতা ও বদান্যতার গুণাবলি সৃষ্টি হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘‘আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি দান করতে থাকো, আমিও তোমাকে দান করব।’’ (বুখারি, ৫৩৫২)
অন্য সময় তো দান করতেনই, রমজান এলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দান-খয়রাত আরও বহুগুণ বেড়ে যেত। ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ছিলেন। রমজানে তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন। রমজানে জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। জিবরাইলের (আ.) সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি মুক্ত বায়ুর চেয়েও বেশি কল্যাণময় দানশীল হতেন। (বুখারি, ৩২২০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সমগ্র মানবের মধ্যে সর্বাধিক উদার ও দানশীল ছিলেন। রমজান মাসে যখন জিবরাইল (আ.) নিয়মিত আসতে শুরু করতেন, তখন তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বেড়ে যেত। (বুখারি, ১৯৩৬)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, সবচেয়ে উত্তম সদকা কী?’ তিনি বললেন, ‘রমজান মাসের সদকা।’ ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্র রমজান মাসে বিপুল পরিমাণে দান করতেন। (তিরমিজি, ২৩৫১)। এক বর্ণনায় এসেছে, রমজান মাসে প্রবাহিত বাতাসের মতো তাঁর দানশীলতা বেড়ে যেত।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক