ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

সাক্ষাৎকার বিশ্বমানের হজ ও ওমরা সেন্টার করতে চাই : এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিম

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৭ এএম
বিশ্বমানের হজ ও ওমরা সেন্টার করতে চাই : এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিম
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর প্রেসি‌ডেন্ট এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিম। ছবি : সংগৃহীত

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর প্রেসিডেন্ট এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিম। এর আগে তিনি দুইবার এ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও একবার মহাসচিব ছিলেন। কুমিল্লার এ কৃতিসন্তান পড়াশোনা করেছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। একাধারে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আল-রশিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০১ সাল থেকে জড়িত আছেন হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে। বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ, সুন্দর ও আদর্শ হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করার নেপথ্য কারিগর তিনিই। হজ ব্যবস্থাপনা, হাজিদের করণীয়-বর্জনীয়, হাবের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা ও ব্যক্তিজীবনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মিরাজ রহমান ও রায়হান রাশেদ   

খবরের কাগজ: টানা তৃতীয়বারের মতো হাবের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, অনুভূতি কী? 
তসলিম: টানা তিনবার (২০১৯ থেকে বর্তমান) আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছি—প্রতিবারই পূর্ণ প্যানেলে জয় পেয়েছি। আর এর আগে একবার মহাসচিব (২০১৭-২০১৯) নির্বাচিত হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহতায়ালার রহমত, হাজিদের দোয়া এবং হাব সদস্যদের ভালোবাসা এবং আস্থায় এটা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের ৯৫% হাজিদের হজকেন্দ্রিক সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞটি হাবের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। পৃথিবীতে হাব-ই একমাত্র সংগঠন, যার অধীনে এত অধিকসংখ্যক মানুষ বেসরকারিভাবে হজে যায়। আমিসহ আমার নির্বাচিত সহকর্মীরা হাবের মাধ্যমে অর্পিত হজকেন্দ্রিক দায়িত্বকে ইবাদত মনে করে পালন করি। তাই হাব সদস্যরা আমাদের ওপর এ গুরুদায়িত্ব অর্পণে আস্থা রাখেন। 

খবরের কাগজ: আপনার নেতৃত্বে হাবে সংঘটিত হয়েছে এমন কিছু কাজের কথা বলুন, যা এর আগে হয়নি। 
তসলিম: বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা ছিল। হজযাত্রীদের কষ্টের অনেক বিষয় ছিল। অনেক অনিয়ম ছিল। সততা, নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের ঘাটতি ছিল। আমরা এগুলো চিহ্নিত করে আন্তরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। সারাজীবনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হাজিরা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হতেন এবং এজেন্সি মালিকরা বঞ্চিত হতেন নৈতিক ও যৌক্তিক অনেক অধিকার থেকে। উভয় পক্ষীয় সমস্যার সমাধানের একটি সেতুবন্ধন তৈরিতে কাজ করেছি। যেমন—হজযাত্রীদের ব্যবহার অনুপযোগী একটি ব্যাগ নিতে বাধ্য করা হতো। এ ব্যাগের পেছনে ছিল অনৈতকতার চর্চা। হাজিদের থেকে বেশি টাকা নিয়ে কম টাকায় ব্যাগ সরবরাহের ব্যাপারটি গোটা হজ ব্যবস্থাপনার আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল। অনৈতিক এ বাণিজ্য বন্ধে আমি এক প্রকার যুদ্ধ করেছি। আল্লাহ আমার সহায় হয়েছেন এবং এটি বন্ধ হয়েছে। সরকার ব্যাগ-ব্যবস্থা চালু করেছিল ভালোর জন্য, কিন্তু কিছু সুযোগসন্ধানী এর অপব্যবহার করেছিল। 
হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। টাকার লেনদেন করতে হতো। সেটাও আমরা বন্ধ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এখন রিপ্লেসমেন্টের জন্য কারও কাছে যেতে হয় না। এজেন্সিগুলো নিজ অফিসে বসেই অনলাইনে এটা করতে পারেন।  
এ ছাড়া ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনারই সুফল হিসেবে হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রাক-নিবন্ধনের পদ্ধতিটি সহজ হয়েছে। আগে হজের তিন মাস আগে নিবন্ধন, প্রাক-নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি মাত্র ৭ দিনের জন্য খুলে দেওয়া হতো। এটা নিয়ে তৈরি হতো ব্যাপক জটিলতা। আমরা এটিকে সহজ করেছি। সারা বছর নিবন্ধনের সুযোগ রেখেছি। 

খবরের কাগজ: আপনি একজন সফল ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ। এ পথচলার অনুপ্রেরণা কে?
তসলিম: সফলতা আপেক্ষিক বিষয়। সফলতার শেষ নেই। আমি যতটুকু কাজ বা যা-ই করেছি, যা-ই বুঝেছি, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি—এসবের মূল প্রেরণা আমার আব্বা মাওলানা রশিদ আহমদ। তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন আলেম, লেখক ও পণ্ডিত ছিলেন। শিক্ষকতা করেছেন, করেছেন ব্যবসাও। তিনি ছিলেন নিভৃতচারী একজন সমাজসেবক। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আমার জীবনের পাথেয়। আমি তার কাছ থেকেই সবকিছু শিখেছি। আব্বার পরে আম্মা এখন পর্যন্ত আমার অনুপ্রেরণার উৎস। আমি তার কাছে এখনো বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হই। তিনি আমাকে গাইড করেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের সবকিছু জুড়ে আছে আব্বা-আম্মার দোয়া ও প্রভাব। পাশাপাশি আমার শিক্ষকদের অবদানও অনস্বীকার্য। 

খবরের কাগজ: জীবনে চলার পথে যখন এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন—কি সিদ্ধান্ত নেবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না, তখন কী করেন?
তসলিম: ব্যক্তিগত জীবনে আমি এমন পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকি। সহজে ভেঙে পড়ি না। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। বেশি বিপদে বা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে, আমি সিজদায় পড়ে যাই। সিজদায় লুটিয়ে পড়ে রাব্বুল আলামিনের কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফরিয়াদ জানাই।

খবরের কাগজ: হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
তসলিম: বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়ার যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমন জাহান্নামে যাওয়ার মাধ্যমও হতে পারে এটি। আমি এখানে কাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, হজযাত্রীদের খাদেম হয়ে থাকা। খাদেম হিসেবে থাকার এ নিয়তের বরকতেই আমি হাবের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছি। এ পদে থাকি আর না থাকি— হজযাত্রীদের খাদেম হিসেবে আশকোনা হজক্যাম্পে এক বোতল পানি নিয়ে হলেও এ সেবায় আমি আজীবন থাকতে চাই। 
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত মুসলিম দেশের আদলে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনাকে আমি আদর্শ ও মডেল হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নীত করতে চাই। বিশেষভাবে হজ ও ওমরাযাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের হজ ও ওমরা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্বপ্ন। প্রত্যেক হজ ও ওমরাযাত্রী হজ বা ওমরা পালনে যাওয়ার আগে এ সেন্টার থেকে বাস্তবসম্মত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেকে প্রস্তুত করবেন। এমন ব্যবস্থাপনা ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশে রয়েছে।   
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—যদি এ রকম একটি হজ ও ওমরা সেন্টার করা যায়, তা হলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানদের উপকার হবে। এটি হবে সদকায়ে জারিয়া। যুগের পর যুগ হাজিরা এখান থেকে সেবা পাবেন এবং সঠিকভাবে হজ ও ওমরা পালন করবেন। এ ছাড়া যারা ধনাঢ্য আছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব— তারাও যেন এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন। 

খবরের কাগজ: হজ পালনেচ্ছু প্রত্যেক বাংলাদেশির কোন কোন বিষয়ে প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি?
তসলিম:  হজ একটি ধৈর্যের যাত্রা। কষ্টমিশ্রিত আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হজ এক প্রকারের জিহাদ। সুতরাং হজের কষ্টগুলো মেনে নিতে হবে। প্রায় ৩০/৪০ লাখ মানুষকে একই সময় একই স্থানে একই আমল করতে হয়—এর ব্যবস্থাপনা করাটা খুব সহজ নয়।­ সুতরাং এখানে ধৈর্যধারণের কোনো বিকল্প নেই। আরও মনে রাখতে হবে, এটা কোনো সাধারণ সফর নয়। লৌকিকতা, দাম্ভিকতা কিংবা আভিজাত্য প্রকাশের সফর নয় এটি। এ সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেকে সংযত রাখতে হবে।   

খবরের কাগজ:  সোস্যাল মিডিয়ার অনেক পোস্টে দেখা যায়— বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের খরচ অনেক বেশি। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি...
তসলিম:  সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া বা অন্যান্য অনেক দেশ থেকে ২ লাখ, ৩ লাখ টাকায় হজে যাওয়া যায়। অনেকে লেখেন, বাংলাদেশ থেকে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তারা সরকার, কর্তৃপক্ষ বা হাবকে দোষারোপ করেন। মানুষের এই জানাটা ভুল। কোনো দেশ থেকেই এত কম টাকায় হজে যাওয়ার সুযোগ নেই। এসব প্রচারণায় তথ্যগত অনেক ঘাটতি রয়েছে। এটাকে আমি নিছক অপপ্রচার ছাড়া অন্য কিছু বলতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার সচেতনতা কামনা করি।  
তবে বাংলাদেশের হজের প্যাকেজ আরও কম হওয়া উচিত। হজের খরচ কমানোর জন্য হাব সবসময় সব ধরনের চেষ্টা করে থাকে। সরকারও করছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ও করছে। এ ক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করব—বিমান ভাড়া আরেকটু কমানো সম্ভব হলে, হজ প্যাকেজ আরও কমানো সম্ভব।  
এ ছাড়া আমরা সৌদি আরবের প্যাকেজও কমনোর চেষ্টা করছি। আশার কথা হলো—২০২৩ সালের হজের প্যাকেজ থেকে ২০২৪ সালের হজের প্যাকেজ ৯০ হাজার টাকা কমেছে। অথচ ২৩ থেকে ২৪ সালে কিন্তু কোনো সেবা বা খাদ্যের দাম কমেনি। 

খবরের কাগজ: আপনার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আল-রশিদ ফাউন্ডেশন নিয়ে কিছু বলুন...
তসলিম:  আল-রশিদ ফাউন্ডেশন মূলত একটি সমাজসেবামূলক সংস্থা। অসহায়, গরিব এবং দুস্থ মানুষদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা হয় এ সংস্থা থেকে। আল-রশিদ ফাউন্ডেশনের নানা কর্মমুখী অর্জন রয়েছে। করোনা মহামারী চলাকালে এ সংস্থা নিজস্ব অর্থায়নে সারা বাংলাদেশের মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মৃতের পরিবহন, গোসল ও দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছে।

 

প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোনো বড় দুর্ঘটনা বা কষ্টের খবর শোনার ঠিক প্রথম কয়েক সেকেন্ড আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান? আপনার সেই তাৎক্ষণিক আচরণই বলে দেবে আপনি আসলেই পরকালের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য কি না!

মানুষের জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখ, কষ্ট বা বিপদ আসা এক অনিবার্য বাস্তবতা কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে ইসলামের রয়েছে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা সম্প্রতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য আত্মিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রিয় নবিজি (রাসুল)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (রাসুল) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত ধৈর্য হলো কষ্টের প্রথমাবস্থায় বা প্রথম ধাক্কাতেই’ (বুখরি)

এই বাণীর পটভূমি বিশ্লেষণ করলে এক গভীর মানবিক সত্য উন্মোচিত হয় সাধারণত যেকোনো বড় বিপদ, স্বজন হারানো বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হলে মানুষ শুরুতে চিৎকার, কান্নাকাটি বা ভাগ্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে এর পর দিন, মাস বা বছর কেটে গেলে সময়ের নিয়মে ক্ষতের তীব্রতা কমে আসে এবং মানুষ বাধ্য হয়েই শান্ত হয় কিন্তু হাদিসের গভীর দর্শন অনুযায়ী, সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি মেনে নেওয়াকে প্রকৃতসবরবা ধৈর্য বলা হয় না

আসল পরীক্ষাটি হয় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন কষ্টের খবরটি প্রথম কান বা বুকে এসে আঘাত করে সেই প্রথম মুহূর্তটিতে যে ব্যক্তি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থেকে নিজের মুখ মনকে সংযত রাখে, ইসলাম তাকেই প্রকৃত ধৈর্যশীল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়

এই হাদিসটি আমাদের প্রচলিত জীবনবোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয় এটি শেখায় যে, ধৈর্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের নাম নয়, বরং এটি হলো আকস্মিক বিপদে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আধুনিক মনোবিজ্ঞানও বলছে, যেকোনো ট্রমার প্রথম কয়েক মুহূর্তের মানসিক প্রতিক্রিয়া মানুষের পরবর্তী সুস্থতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যার সমাধান ইসলাম বহু আগেই দিয়ে রেখেছে

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম
ছবি: সংগৃহীত

আজকের এই আধুনিক যুগে হাজারও মতবাদ, দর্শন আর মনগড়া জীবনরীতির ভিড়ে মানুষ প্রায়ই সঠিক পথের দিশা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মুক্তির আসল চাবিকাঠি কোথায়? হযরত জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত বা আদর্শ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর হেদায়াত। তিনি সতর্ক করেন, দ্বীনের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি বা মনগড়া উদ্ভাবনই হলো নিকৃষ্টতম কাজ, যা মানুষকে নিশ্চিত পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় এবং যার শেষ পরিণতি জাহান্নাম (মুসলিম, ১৪১; সুনানে নাসাঈ, ১৫৭৮)।

সমাজে কিছু মানুষের মানসিকতা ও কাজ স্রষ্টার কাছে চরম ঘৃণিত রূপ নেয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। তারা হলো–হারাম বা নিষিদ্ধ এলাকায় অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি, ইসলামের ভেতর জাহেলি যুগের কুসংস্কার বা রীতিনীতি চালুর আকাঙ্ক্ষাকারী এবং স্রেফ অন্যায়ভাবে রক্তপাতের উদ্দেশ্যে অন্যের রক্ত কামনা করা ব্যক্তি (বুখারি, ১৪২)।

মানুষের মুক্তি ও অবাধ্যতার সমীকরণ বোঝাতে ফেরেশতারা এক অলৌকিক উপমা দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) যখন নিদ্রিত ছিলেন (যার চক্ষু নিদ্রিত হলেও অন্তর ছিল জাগ্রত), তখন ফেরেশতারা বলেন, যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন শেষে একজন আহ্বায়ক পাঠালেন; যে সাড়া দিল সে খেতে পারল, আর যে দিল না সে বঞ্চিত হলো। এই উপমার ব্যাখ্যায় তারা বলেন, গৃহটি হলো জান্নাত, আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ এবং নির্মাতা স্বয়ং আল্লাহ। অতএব, মুহাম্মাদ (সা.)-এর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য, আর তিনিই মানুষের মধ্যে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী (বুখারি, মিশকাত ১৪৪)।

অনেকেই মনে করেন, সংসার বা স্বাভাবিক জীবন ত্যাগ করে কেবল বৈরাগ্য সাধনেই বুঝি পরম ধর্ম। একবার তিনজন ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাপ শুনে নিজেদের আমলকে কম মনে করে একজন সারা রাত নামাজ পড়া, একজন আজীবন রোজা রাখা এবং অন্যজন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। রাসুল (সা.) তাদের এই অতি-ধার্মিকতার ভুল ভেঙে দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু হওয়া সত্ত্বেও রোজা রাখি ও ছাড়ি, সালাত পড়ি ও ঘুমাই এবং বিয়েও করেছি। অতএব, যে আমার সুন্নাত বা জীবনপদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার শরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারি, মুসলিম, ১৪৫)।

সাহাবি হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় বিদায়ী খুতবা দিলেন যে সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেল। তিনি ভবিষ্যৎ মতভেদের যুগে নিজের সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দেন (আবু দাউদ, ১৬৫)। একইভাবে হযরত আলি (রা.) বর্ণিত হাদিসে মদিনার পবিত্র ভূমিতে কোনো মনগড়া প্রথা বা বিদ‘আত চালু করা অথবা বিদ‘আতিকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানতের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)।

দ্বীনের নামে নিজস্ব মনগড়া রীতি বা বিজাতিদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং রাসুল (সা.)-এর দেখানো সুন্নাহর সরল পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০ লাখ কওমি শিক্ষার্থী বাজেট বৈষম্যের শিকার। ছবি: সংগৃহীত

এবারের জাতীয় বাজেটেও কওমি শিক্ষাধারার জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখায় বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কওমি মাদরাসায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। এই বৈষম্য দূর করে কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যে গতকাল ২১ জুন তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সাধারণ আলেম সমাজের ব্যানারে কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ আলেম সমাজের মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান। বৈঠকে কওমি অঙ্গনের তরুণ আলেম, গবেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাঁদের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও নীতিগত বক্তব্য তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি অর্থনৈতিক ও বাজেট বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ২০২৬ সালে কওমি শিক্ষার্থীরা সেই একই ধরনের কাঠামোগত বঞ্চনার শিকার। দেশের মোট জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটে কওমি ধারার জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ না থাকা তাদের মৌলিক নাগরিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। 

বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামি অর্থনীতিবিদ ও গবেষক আলেম মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম। তিনি বলেন, ওলামায়ে কেরামদের মধ্যে যারা ইসলামী দল করেন, তারা এক সময় বাজেট নিয়ে কথাই বলতেন না। এখন অবশ্য কথা বলেন, কিন্তু বাজেট নিয়ে তাঁদের উপস্থাপন অনেকটা বামপন্থীদের মতো। 

এবারের বাজেটে রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনকে আলাদা করার উদ্যোগ, করবহির্ভূত আয়ে গুরুত্বারোপ ও বাজেট বক্তব্য বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করার বিষয়গুলোকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে তিনি কওমি শিক্ষার অনুপুস্থিতি ও ২০০৫-০৬ সালের সাথে তথ্যগত তুলনার বিভ্রান্তি তুলে ধরেন। 

উসুলে হাশতেগানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসা স্বকীয়তা বজায় রেখে এবং হস্তক্ষেপ মুক্ত অবস্থায় সরকারি বরাদ্দ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তাবনা দাঁড় করাতে পারলে ভালো হবে। বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে প্রথম আলোর ধর্ম বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক, ইসলামিক সোশ্যাল ফাইন্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় জাকাত তহবিল থেকে রাজস্ব খাতে সরকারের পক্ষে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা সম্ভব। ইসলামি অর্থনীতির এই শক্তিশালী খাতটি রাষ্ট্রীয় মূলধারার অর্থনীতিতে সন্নিবেশ হতে পারে। তবে এই তহবিলকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখাটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রচিন্তক আলেম মুসা আল হাফিজ বলেন, তিনি সামষ্টিক বাজার পরিস্থিতি ও তরুণদের দূরদর্শিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এক্ষেত্রে ভর্তুকি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। কওমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পুরো রাষ্ট্র, বাজেটের প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনীতি বুঝতে পারছি কিনা, এটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে অনুষ্ঠানের মূল সমন্বয়ক ও মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান কওমি তরুণদের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্রে শিক্ষার ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু নাগরিক অধিকারে কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে না।
তিনি ঘোষণা করেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অধিকারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এই গোলটেবিল বৈঠক থেকে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দেওয়া হবে।

সাধারণ আলেম সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইমাম সমাজ বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দীন ওয়াকফ সম্পত্তির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা নাজেহাল। এই সম্পত্তির আধুনিকায়ন এবং আমানতদারির সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে মাদ্রাসার প্রয়োজন পূরণ তো হবেই, সরকারও রাজস্ব পাবে। কওমি মাদ্রাসার জন্য সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি পরিহার করে এখন বরাদ্দের জোরালো দাবি তুলতে হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব সানাউল্লাহ খান রাষ্ট্রের সাথে কওমি অঙ্গনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারেনি কওমি অঙ্গণ। সম্পর্ক তৈরি না হলে রাষ্ট্র কখনো কওমি মাদ্ নিয়ে ভাববে না। এতিম মানেই কওমি মাদ্রাসা, এই সংকীর্ণ চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী সনদের প্রায়োগিক কার্যকারিতা নিশ্চিতের দাবি তুলে বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে কোনো কাজে আসছে না। এই স্বীকৃতি যাতে কর্মক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজে লাগে, রাষ্ট্রকে সেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় বাজেট সম্পর্কে প্রথমবারের মতো কওমি তরুণরা বক্তব্য রাখছেন, বিষয়টা প্রশংসার। সাধারণ আলেম সমাজের দাবির সাথে তিনি একমত পোষণ করেন।

লেদার ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সদস্য সচিব মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ কওমি তরুণদের বড় পরিসরে ব্যবসার মূলধারায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ব্যবসা করি, তখন আমরা এটাকে আটা, মধু বা কালোজিরার মধ্যে সীমাবদ্ধ করি। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইসলামী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি গঠনের প্রচেষ্টার কথা জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাধারণ আলেম সমাজের সভাপতি মাছুম বিল্লাহ মাহমুদী, সাধারণ সম্পাদক আকিফ আবদুল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের আহ্বায়ক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহদী, অনলাইন একটিভিস্ট জাওয়াদ আহমাদ, বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. মাকছুদুর রহমান প্রমুখ এবং সাধারণ আলেম সমাজের নেতৃবৃন্দ। 

বৈঠক থেকে কওমি তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে আইটি, কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার জন্য স্বকীয়তা রক্ষা করে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য নিয়মতান্ত্রিক চাপ সৃষ্টির প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ব্যাটারী ঘাট এলাকায় অবস্থিত শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার উদ্যোগে অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় মাদরাসা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান ও যুগ্ম-আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন। উদ্বোধক ছিলেন হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিদাউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মদিনায় দীর্ঘ ৩০ বছর কুরআনের খেদমতে নিয়োজিত থাকা হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক তৈয়ব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আদর্শ ও শিক্ষিত নারী সমাজ গঠনে দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই। শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসা কন্যা সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

উদ্বোধকের বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক বলেন, দ্বীনি শিক্ষা মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের মূল ভিত্তি। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য কেবল ফলাফলে নয়, বরং আদর্শবান ও যোগ্য শিক্ষার্থী গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত। তিনি মাদরাসার ধারাবাহিক শিক্ষাগত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক তৈয়ব বলেন, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসা গত ১৫ বছর ধরে কন্যা সন্তানদের জন্য মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষা প্রদান করে আসছে। মাদরাসাটি ধারাবাহিকভাবে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেআসছে।

এ বছর বেফাকের মেধাতালিকায় স্থান অর্জনকারী দুই শিক্ষার্থীকে রৌপ্য ব্রেসলেট প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে মাদরাসাকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পর্যন্ত উন্নীত করা, স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা এবং ফারেগ শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি, কম্পিউটার, সেলাই ও রান্না বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজীবন সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করা হয় হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন, হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম এবং মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হককে। এছাড়া শিক্ষা সম্মাননা-২০২৬ প্রদান করা হয় ন্যাশনাল কালচারাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এনসিএসবি)-এর চেয়ারম্যান আলহাজ মো. সেলিম আহম্মেদ, পাওয়ার প্লাস ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ রিয়াজুল করিম এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আবেদ আলীকে।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষা কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। অভিভাবকরাও মাদরাসার কার্যক্রমের প্রশংসা করে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন।

আলোচনা শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং দেশ, জাতি ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২২ জুন ২০২৬, সোমবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২৩ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন