কোরআন ও হাদিসের বহু জায়গায় জিনদের অস্তিত্বের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। অতীত ও বর্তমানের অসংখ্য মানুষ নানাভাবে জিনের অস্তিত্ব টের পেয়েছে। অনেকে অবশ্য বুঝে উঠতে পারেনি যে, সেগুলো জিন ছিল। কেউ তাদের ভেবেছে আত্মা, কেউ অদৃশ্য মানব, কেউ ভিনগ্রহের প্রাণী; কেউ আবার এ রকম কোনো কিছু। জিনদের অস্তিত্বের চাক্ষুষ একটি প্রমাণ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ চোখে তাদের দেখেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদের কোরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছেন। (সুরা জিন, আয়াত: ১ ও ৬)। এ ছাড়া তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে খাবার চেয়েছে। (মুসলিম, হাদিস: ৪৫০)
জিনদের আছে প্রযুক্তিগত জ্ঞান। আছে নির্মাণকাজে বেশ সক্ষমতা। ধারণা করা হয়, এ ব্যাপারে তাদের জ্ঞান মানুষের থেকেও বেশি। স্থাপত্য নির্মাণের জন্য তাদের আছে বিশেষ যন্ত্রপাতি। সুলাইমান (আ.) জিনদের দিয়ে এমন সব বিরাট বিরাট কাজ করিয়েছেন, যেগুলো বেশ শক্তি, বুদ্ধি ও নির্মাণশিল্পে বিশেষ দক্ষতা ছাড়া সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘সুলাইমানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করত এবং তার জন্য প্রবাহিত করেছিলাম তামার ঝরনা। আর ছিল এমন জিন, যারা তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে তার সামনে কাজ করত। তাদের কেউ যদি আমার আদেশ থেকে বিমুখ হতো, তা হলে তাকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি ভোগ করাতাম। তারা সুলাইমানের ইচ্ছামতো নির্মাণ করত উঁচু ভবন, ভাস্কর্য, হাউসের মতো বৃহদাকার পাত্র ও চুল্লির ওপর বিশাল ডেকচি। হে দাউদের পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করো। আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ১২-১৩)
এসব কাজের জন্য প্রয়োজন নির্মাণশিল্পে বিশেষ দক্ষতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও সামর্থ্য। ইমাম বাগাবি (রহ.) বলেন, ‘জিনদের মাধ্যমে যেসব নির্মাণকাজ সম্পাদিত হয়েছে, মাসজিদুল আকসা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। উচ্চতায় এক মানুষ পরিমাণ কাজ করার পর দাউদ (আ.) মারা যান। পরে তার ছেলে সুলাইমানকে আল্লাহ এই কাজের দায়িত্ব দেন। জিনজাতি সুলাইমান (আ.)-এর অধীনে থাকায় তিনি সবাইকে একত্রিত করে আলাদা আলাদা কাজে নিয়োগ দেন। পুরো পৃথিবী থেকে আনা সোনা-রুপা, হিরা-জহরত, মণিমুক্তা ও সাদা পাথরে মসজিদটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, ঘোর অমাবস্যার রাতেও তা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় জ্বলজ্বল করত। বুখতেনসর সেখানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগ পর্যন্ত তেমনই ছিল। এ ছাড়াও সুলাইমান (আ.) জিনদের দিয়ে ইয়েমেনে পাথরের অনেক বড় বড় দালানকোঠা নির্মাণ করেছিলেন।’ (তাফসিরুল বাগাবি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৬৭৩-৬৭৪)
জিনেরা শুধু (আ.)-এর জন্যই নয়; বরং তারা নিজেদের বা অন্যান্য মানুষের জন্যও স্বেচ্ছায় এমন অনেক কাজ করেছে, যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমেও করা দুষ্কর। অনেকেই মিশরের পিরামিড বা ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জের মতো কীর্তিগুলোকে জিনদের তৈরি বলে দাবি করেছেন। অবশ্য এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।
হাদিসে আছে, ‘শয়তান সমুদ্রে তার সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে। সেখানে থেকেই সে তার সৈন্যবাহিনী পাঠায়।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৮১৩)। বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ঘটনাগুলো নিশ্চিতভাবে দাবি করে, সমুদ্রে কোনো বিশেষ শক্তির প্রভাব রয়েছে। আর ইবলিস সেই শক্তির উৎস হওয়াটাও অযৌক্তিক নয়।
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক