কথা-বার্তা ও কাজকর্মে ইসলামিক পরিভাষাগুলো ব্যবহার করা ভালো। সওয়াবের কাজ। এক্ষেত্রে উদাসীনতা মোটেই কাম্য নয়। দ্বীনদার ব্যক্তির উচিত ইসলামি পরিভাষাগুলো জেনে নেওয়া। ইসলামি পরিভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলো ব্যবহার সমূহ কল্যাণ বয়ে আনে। এ রকম একটি শব্দ হচ্ছে ‘মাশাআল্লাহ’।
মাশাআল্লাহ একটি দোয়াজাতীয় বাক্য। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে, ‘আল্লাহতায়ালা যা চান।’ কোনো ভালো জিনিস, পার্থিব লাভ, ধনদৌলত অর্জন ও উন্নতির পর এটা বলা হয়। এ জন্য যখন কেউ অন্যের ভালো কোনো বিষয় ও উন্নতি দেখবেন, তখন তার উচিত মাশাআল্লাহ বলা। এর মাধ্যমে ওই জিনিসটি অন্যের বদনজর থেকে সুরক্ষা থাকে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ভালো কিছু দেখলে মাশাআল্লাহ বলার কথা বলেছেন। ভালো কিছু পেলে এর বিনিময়ে মাশাআল্লাহ বলার বিষয়টি আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, “তুমি যখন নিজ বাগানে প্রবেশ করেছিলে, তখন তুমি কেন বললে না, ‘মাশাআল্লাহ লাকুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহ যা চান তাই হয়। আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নেই)।” (সুরা কাহফ, আয়াত: ৩৯)
আরেক আয়াতে আছে, ‘(হে নবি,) কোনো কাজ সম্পর্কেই কখনও বলো না ‘আমি এ কাজ আগামীকাল করব’। (তবে বলো) আল্লাহ যদি চান (তবে করব)। আর কখনো ভুলে গেলে নিজ প্রতিপালককে স্মরণ করো এবং বলো, আমি আশা করি আমার প্রতিপালক এমন কোনো বিষয়ের প্রতি আমাকে পথনির্দেশ করবেন, যা এর চেয়েও হেদায়েতের বেশি নিকটবর্তী হবে।’ (সুরা কাহফ, আয়াত: ২৩-২৪)
সালফে সালেহিনের কেউ কেউ বলেন, কোনো পছন্দনীয় বস্তু দেখার পর যদি—
বাংলা উচ্চারণ: ‘মাশাআল্লাহ লাকুউওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’।
বাংলা অর্থ: আল্লাহ যা চান তাই হয়, আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নেই
বলে দেওয়া হয়, তবে কোনো বস্তু তার ক্ষতি করে না। অর্থাৎ পছন্দনীয় বস্তুটি নিরাপদ থাকে বা তাতে চোখ লাগার মতো ক্ষতি হয় না। কিন্তু আমি বলি, তিনি আল্লাহই আমার প্রতিপালক এবং আমি কাউকেও আমার প্রতিপালকের শরিক করি না। তুমি যখন ধনে ও সন্তানে তোমার তুলনায় আমাকে কম দেখলে, তখন তোমার বাগানে প্রবেশ করে তুমি কেন বললে না—মাশাআল্লাহ, লা-হাওলা ওলা কুউওয়াতা ই-ল্লাবিল্লা (আল্লাহ যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই) সম্ভবত, আমার প্রতিপালক আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তোমার বাগানে আকাশ থেকে আগুন বর্ষণ করবেন; যার ফলে তা মসৃণ ময়দানে পরিণত হবে। অথবা ওর পানি ভূগর্ভে অন্তর্হিত হবে এবং তুমি কখনো ওকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তার ফল-সম্পদ পরিবেষ্টিত হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল; যখন তা মাচানসহ পড়ে গেল। সে বলতে লাগল, হায়, আমি যদি কাউকেও আমার প্রতিপালকের শরিক না করতাম।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ৩২-৪৩)
কোরআনে বর্ণিত এই ঘটনায় আল্লাহর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, বাগানে প্রবেশ করার সময় অবাধ্যতা ও অহংকার প্রদর্শন না করে এইভাবে বললেই ভালো হতো—
বাংলা উচ্চারণ: ‘মাশাআল্লাহ লাকুউওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’।
বাংলা অর্থ: আল্লাহ যা চান তাই হয়, আল্লাহর তৌফিক ছাড়া কারও কোনো ক্ষমতা নেই)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, ‘আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি মূল্যবান সম্পদের সন্ধান দেব না? সেটা হলো, ‘লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৩৮৪)
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর