হাফসা বিনতে রাশেদ বলেন, মারওয়ান মুহলামি ছিলেন আমাদের প্রতিবেশী। তিনি আল্লাহতায়ালার পথে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং আবেদ ছিলেন। তিনি ইন্তেকাল করলে আমি অত্যন্ত দুঃখ পাই। লোকেরা যেমন স্বপ্ন দেখে, আমিও তাকে স্বপ্নে দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, আবু আবদুল্লাহ, আপনার প্রতিপালক আপনার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন, মহান প্রতিপালক জান্নাত দান করেছেন। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কী হলো? তিনি বললেন, আমাকে আসহাবে ইয়ামিনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কী হলো? তিনি বললেন, আমাকে মোকাররাবিনদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, সেখানে আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে কার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে? তিনি বললেন, সেখানে আমি হাসান বসরি, ইবনে সিরিন এবং মাইমুনকে দেখেছি।
বসরার শ্রেষ্ঠ মহিলা উম্মে আবদুল্লাহ বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন আমি একটি উত্তম বাড়িতে প্রবেশ করেছি। এরপর গিয়েছি একটি বাগানে। মাশাআল্লাহ বাগানটি ছিল অত্যন্ত সুন্দর। হঠাৎ আমি একজন লোককে দেখতে পেলাম, যিনি সোনার খাটের ওপর বসা ছিলেন হেলান দিয়ে। তার চারদিকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকরা পরিবেষ্টন করে রেখেছে যাদের হাতে ছিল পান পাত্র। আমি এসব সৌন্দর্য দেখে আশ্চর্য হচ্ছিলাম। হঠাৎ একজন লোককে স্বাগত জানিয়ে আনা হলো। জিজ্ঞেস করা হলো, ইনি কে? তিনি বললেন, মারওয়ান মুহলামি এসেছেন। তিনি স্বর্ণের খাটের ওপর জাঁকজমকপূর্ণভাবে বসে গেলেন।
উম্মে আবদুল্লাহ বলেন, সঙ্গে সঙ্গে আমার ঘুম ভেঙে গেল, আর এই মুহূর্তেই আমি দেখতে পেলাম, মারওয়ান মুহলামির জানাজা বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্বপ্নে কিয়ামত হতে দেখলে কী হয়?
শায়খ আবু সাদ বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাত দেখল কিন্তু জান্নাতে প্রবেশ করতে দেখল না; এটা স্বপ্নদ্রষ্টার জন্য নেক আমলের অথবা নেক আমলের ইচ্ছা পোষণের আলামত। এই ধরনের স্বপ্ন ন্যায়পরায়ণ লোকের হয়ে থাকলে, বুঝতে হবে সে অত্যাচারী নয়। কারও মতে, যে ব্যক্তি স্বপ্নে সরাসরি জান্নাত দেখবে, তার মনের আশা পূর্ণ হবে এবং দুশ্চিন্তা দূর হবে।
যদি দেখে, জান্নাতে প্রবেশ করতে চাচ্ছে, কিন্তু বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, তাহলে সে হজ ও জিহাদের ইচ্ছা করার পর বাধাপ্রাপ্ত হবে অথবা হঠকারীভাবে অনবরত যে গুনাহ করে আসছে, তা থেকে তওবার ইচ্ছা করার পর বাধা পাবে। যদি দেখে, জান্নাতের দরজা থেকে কোনো একটি দরজা তার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাহলে মাতা-পিতার কোনো একজন মারা যাবে। আর যদি দুটি দরজাই বন্ধ করে দিতে দেখলে, উভয়েই মারা যাবে।
যদি দেখে, জান্নাতের সব দরজাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কোনো একটি দরজাও খোলা হচ্ছে না, এর ব্যাখ্যা হলো, মাতা-পিতা তার প্রতি অসন্তুষ্ট। যদি যেকোনো দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারছে দেখে, তাহলে এর ব্যাখ্যা হলো, মাতা-পিতা তার প্রতি সন্তুষ্ট। জান্নাতে প্রবেশ করতে দেখলে, সে দুনিয়া-আখিরাতে শান্তি ও নিরাপত্তা পাবে। কেননা, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করো।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ৪৬)
স্বপ্নদ্রষ্টাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে দেখলে বুঝতে হবে স্বপ্নদ্রষ্টার আয়ু শেষ হয়েছে এবং মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। কারও মতে, স্বপ্নদ্রষ্টা শিক্ষা অর্জন করবে এবং পাপ থেকে এমন লোকের হাতে তওবা করবে, যিনি জান্নাতের রাস্তায় পৌঁছে দেবেন। কারও মতে, যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে দেখল, দুঃখ-কষ্টের পর তার মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে। কেননা, জান্নাত দুঃখ-কষ্টের দ্বারাই পরিবেষ্টিত। কারও মতে, ওই স্বপ্নদ্রষ্টা মর্যাদাসম্পন্ন লোকদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে এবং সামাজিকভাবে মানুষের সঙ্গে সুন্দর সদ্ব্যবহার করবে। আল্লাহতায়ালার ফরজগুলো প্রতিষ্ঠা করবে।
যদি দেখে, স্বপ্নদ্রষ্টাকে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য বলা হচ্ছে, কিন্তু সে প্রবেশ করছে না, তাহলে ওই স্বপ্ন তার দীন পরিত্যাগ করার লক্ষণ। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ দিয়ে উট প্রবেশ করে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৪০)
যদি দেখে, তাকে বলা হচ্ছে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাহলে স্বপ্নদ্রষ্টা উত্তরাধিকার সম্পত্তি পাবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এটা ওই জান্নাত, তোমরা কর্মের বিনিময়ে যার উত্তরাধিকারী হয়েছ।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৭২)
নিজেকে জান্নাতুল ফেরদাউসে দেখলে, সে ইলম ও হেদায়াত পাবে। যদি দেখে, মুচকি হাসি অবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করেছে, তাহলে সে বেশি বেশি আল্লাহতায়ালার জিকির করবে।
তরবারি কোষমুক্ত করে জান্নাতে প্রবেশ করেছে দেখলে, সে সৎ কাজের আদেশ এবং খারাপ কাজে নিষেধ করবে এবং স্বপ্নদ্রষ্টা নিয়ামত, সুনাম ও পুরস্কার পাবে। জান্নাতে ‘তুবা’ নামক গাছের নিচে বসে আছে দেখলে, স্বপ্নদ্রষ্টা দুনিয়া-আখেরাতে কল্যাণ লাভ করবে। কারণ আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ এবং সুন্দর প্রত্যাবর্তনস্থল।’ (সুরা রাদ, আয়াত: ২৯)
(স্বপ্নের ব্যাখ্যাবিদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বিখ্যাত বই তাফসিরুল আহলাম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে সংক্ষেপিত)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক