মানুষ হত্যা মহাপাপ। শরিয়ত নির্দেশিত হুকুম ছাড়া কাউকে হত্যা করা হারাম। আল্লাহতায়ালা প্রতিটি অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেগুলোর স্পষ্ট বিধান পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রের আইন এবং রাষ্ট্রের বিচারপতির বিচার অনুযায়ী অপরাধীর শাস্তি কার্যকর করা যায়। কিন্তু কেউ নিজ হাতে আইন তুলে নিয়ে কারও বিচার করতে পারে না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এ কারণেই আমি বনি ইসরাইলের প্রতি এই নির্দেশ দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য প্রাণের বিনিময় ছাড়া কিংবা তার দ্বারা ভূপৃষ্ঠে কোনো ফিতনা-ফ্যাসাদ বিস্তার ছাড়া, তা হলে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে ফেলল।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৩২)
অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে জেনেশুনে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম, যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি গজব নাজিল করবেন ও তাকে অভিসম্পাত করবেন। আর আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৯৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় গুনাহ চারটি—এক. আল্লাহতায়ালার সঙ্গে কাউকে শরিক করা, দুই. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, তিন. মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং চার. মিথ্যা কথা বলা।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৮৭১)।
আরও পড়ুন : হিজাজ থেকে আগুন প্রকাশ কি কিয়ামতের আলামত?
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা আল্লাহর কাছে পৃথিবী ধ্বংস হওয়া অপেক্ষাও গুরুতর।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৮৬)। এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, কোনো মুসলমানকে অন্যয়ভাবে হত্যা করা কতটা মারাত্মক অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা পৃথিবী ধ্বংস হওয়া অপেক্ষা গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দার থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। আর সব কিছুর আগে মানুষের হত্যার বিচার হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস: ৩৯৯১)। তাই কেউ যদি অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, তা হলে কিয়ামতের দিন সবার প্রথমে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে—কেন মানুষ হত্যা করেছিল।
অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করা মারাত্মক গুনাহ। হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে করলে হয় প্রকাশ্য হত্যা, আর গোপনে করলে হয় গুপ্তহত্যা। উভয় হত্যাকাণ্ডের শাস্তি একই—মৃত্যুদণ্ড। প্রকাশ্যে বা গোপনে যেভাবেই হোক, হত্যাকারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। যদি সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে দুনিয়ার আদালতে এর ন্যায়বিচার করতে হবে। নতুবা তাকে আখেরাতের আদালতে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। আখেরাতে তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
, , , ,