আল্লাহু আকবার বলে সিজদা থেকে ধীরস্থিরভাবে উঠে বসতে হবে। এক বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময় তাকবির বলতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৮০৩)
সিজদা থেকে উঠে বাম পা বিছিয়ে ডান পা দাঁড় করিয়ে বাম পায়ের ওপর বসতে হবে। দুই হাত দুই হাঁটুতে রাখতে হবে। এবং ডান পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতে হবে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন আর ডান পা দাঁড় করে রাখতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯৯৭)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘নামাজের একটি সুন্নত হলো, বসার সময় ডান পা দাঁড় করে রেখে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার ওপর বসা এবং ডান পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখা।’ (নাসায়ি, হাদিস: ১১৫৮)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ আদায়ের সময় যখন বসতেন, তখন দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৯৬)
দুই সিজদার মাঝখানে সিজদার সমপরিমাণ সময় বসতে হবে। দোয়া পাঠ করা উত্তম। সিজদাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) যতক্ষণ থাকতেন, দুই সিজদার মধ্যখানেও তিনি ততক্ষণ বসতেন এবং এ সময় বিভিন্ন দোয়া করতেন। বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, ‘নামাজে দাঁড়ানো (কিয়াম) ও বসা (বৈঠক) অবস্থা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রুকু, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো, সিজদা, দুই সিজদার মধ্যখানের বসার সময় ছিল সমপরিমাণ।’ (বুখারি, হাদিস: ৭৯২)
আরও পড়ুন: নামাজে কখন তাশাহুদ পড়তে হয়?
হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদা থেকে মাথা উঠিয়ে বসতেন এবং সিজদায় থাকা পরিমাণ সময় দুই সিজদার মাঝখানে বসতেন। আর এ সময় তিনি দুইবার রব্বিগ ফিরলি পড়তেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৭৪)
দুই সিজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও কিছু দোয়া পাঠ করতেন, তিনি বলতেন—
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়া আফিনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমাকে নিরাপত্তা দান করুন। আমাকে হিদায়াত দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৭৪৩)
আল্লাহু আকবার তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদা করতে হয়। আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সিজদা করার ইচ্ছা করতেন, তখন তাকবির বলতেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তাকবির বলতেন। পুনরায় সিজদা করার সময়ও তাকবির বলতেন। পুনরায় সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় তাকবির বলতেন। প্রত্যেক রাকাতে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি এভাবে করতেন। দ্বিতীয় রাকাতে বসার পর ওঠার সময়ও তিনি তাকবির বলতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৭৮৯, ৮০৩)
হুজাইফা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়েছি। তিনি রুকুতে সুবহানা রব্বিয়াল আজিম ও সিজদায় সুবহানা রব্বিয়াল আলা বলতেন।’ (তিরমিজি, ১/৩৬)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক