ইসলামি ধারার লেখকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম। ২০১২ সালে এর যাত্রা শুরু। সদস্য সংখ্যা প্রায় পাঁচশ। তরুণ লেখকদের সংঘবদ্ধ ও পরিচর্যা করা এর প্রধান কাজ। এযাবৎ পাঁচ হাজার তরুণ লেখককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তারা। ফোরামের বানানরীতি এখন মাদরাসার পাঠ্য।
শুরুর গল্প
তখন ২০১১ সাল। এর মধ্যে কওমি মাদরাসার অনেকে লেখালেখিতে জড়িয়েছেন। কেউ কেউ সম্পাদনায় যুক্ত হয়েছেন। কয়েকজন তরুণ লেখক ভাবলেন, সবার একটা সংঘবদ্ধতা প্রয়োজন। ২০১২ সালের ২৬ মে ২০ তরুণ লেখক বসলেন রাজধানীর পুরানা পল্টনে। সংগঠন করলেন। নাম রাখলেন বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম। সাতজনের আহ্বায়ক কমিটিও করলেন। লেখক লাবিব আব্দুল্লাহ আহ্বায়ক এবং লেখক ও সাংবাদিক জহির উদ্দিন বাবর হলেন সদস্য সচিব। ততদিনে অনেক তরুণ লেখক সংগঠনের ফরম পূরণ করে সদস্য হন। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সাংবাদিক ও লেখক মুফতি এনায়েতুল্লাহ সভাপতি ও জহির উদ্দিন বাবর হন সাধারণ সম্পাদক। এভাবে নানা দক্ষ হাতের নেতৃত্বে সংগঠন প্রায় এক যুগ পার করে। বর্তমানে ২৭ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে সভাপতি লেখক ও কবি মুনীরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ও সাংবাদিক আমিন ইকবাল। সদস্য আছে প্রায় ৫০০। মুনীরুল ইসলাম বললেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি ধারার তরুণ লেখকদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।’
প্রেরণা যুগিয়েছে সাধুবাদ
সংগঠন করার পর সাধুবাদই পেয়েছেন তারা। কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। শুরুতে আর্থিক টানাপোড়েন ছিল। এখন বড় আয়োজন করতেও বেগ পেতে হয় না। সে সময় মানুষের সাধুবাদ প্রেরণা যুগিয়েছে।
‘লেখক ফোরাম আমাদের আত্মার সঙ্গে মিশে গেছে। আমরা ফোরামকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি। পরবর্তীরা ফোরামকে অন্তরে ধারণ করে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যাবেন আশা করি। ফোরামের সঙ্গে জড়িত সবাইকে জাজাকাল্লাহ।’
—মুনীরুল ইসলাম, সভাপতি
‘লেখক ফোরাম সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চাকারীদের নিরাপদ ঠিকানা। এর সদস্য ও দায়িত্বশীলরা পরিচর্যা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লেখালেখিতে সমৃদ্ধ হচ্ছেন। ফোরাম এক সময় বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।’
—আমিন ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক
যা করে লেখক ফোরাম
নানামুখী কর্মসূচি আছে লেখক ফোরামের। ইসলামি ধারার তরুণ লেখকদের সংঘবদ্ধ ও পরিচর্যা করাই এর অন্যতম কাজ। আমিন ইকবাল বললেন, ‘এ পর্যন্ত সারা দেশে ৫ হাজারের মতো তরুণ লেখকের অংশগ্রহণে ৫০টির বেশি প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছি। এর মধ্যে অন্তত ১০০ তরুণ নানা কাজে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।’ লেখকদের গ্রন্থ সম্মাননা ও সাংবাদিকদের রিপোর্টিংয়ে পুরস্কার দিচ্ছে তারা। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মারক প্রকাশ করছে। সাহিত্যসভার আয়োজন করছে। সদস্যদের নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। সহযোগিতা করছে সংকটে পড়া লেখকদেরও।
আরও পড়ুন: ইবাদতমুখর হোক প্রতিটি ঘর
লেখক ফোরামের ‘বানানরীতি’ এখন পাঠ্য
লেখক ফোরামের বেশ কিছু স্থায়ী কাজ আছে। এর অন্যতম লেখক ফোরাম ভাষা ও বানানরীতি। ২০২১ সালে প্রকাশিত হয় এটি। বিশেষ করে আরবি, ফার্সি ও উর্দু শব্দের বানানরীতি কী হতে পারে, এর সমাধানই দেওয়া হয়েছে এতে। মুনীরুল ইসলাম বললেন, ‘কয়েকটা মাদরাসায় নাহবেমির-হেদায়াতুন্নাহু (সেভেন-এইটে) জামাতে (ক্লাস) এটি পড়ানো হচ্ছে। ইসলামি ধারার লেখক ও অনেক ইসলামি প্রকাশনী এটি ফলো করছে। ইসলামি লেখকদের বানানরীতি হলেও কাজে দেবে সবার।’ আমিন ইকবাল যুক্ত করলেন, ‘ইসলামি লেখক অভিধান আসবে শিগগিরই।’
স্বপ্ন
ফোরামের সদস্যদের ইসলামি ভাবধারার লেখক হতে হয়। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী ও পোশাক-আশাকে শালীন না হলে এর সদস্য হওয়া যায় না। মাদরাসাপড়ুয়া লেখকরাই এখানে প্রাধান্য পান। সাংবাদিকতায় দক্ষ লোক তৈরি করে ইসলামি ধারার মিডিয়া হাউস প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব মিলনায়তন ও পাঠাগার করতে চায় লেখক ফোরাম।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক