কোনো ভালো কাজ করার ইচ্ছা করলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে আল্লাহর দরবারে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রার্থনা করার নাম সালাতুল ইসতেখারা বা ইসতেখারার নামাজ। ইসতেখারার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করে যে, আমি যা করতে চাই তাতে যদি আমার কল্যাণ থাকে, তা হলে তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং বরকত দান করুন। আর যদি তাতে কল্যাণ না থাকে, তা হলে তা থেকে আমাকে বিরত রাখুন এবং যাতে আমার কল্যাণ, তাই আমাকে দান করুন। এটাই হলো ইসতেখারার মূল বিষয়।
ইসতেখারার জন্য করণীয় কাজ দুটি। স্বাভাবিক নিয়মে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা এবং হাদিসে বর্ণিত ইসতেখারার প্রসিদ্ধ দোয়াটি পড়া। অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। নামাজ পড়ে দোয়া করার সময় ও সুযোগ পাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে একটি সংক্ষিপ্ত দোয়া নবিজি (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন। দোয়াটি হলো─
বাংলা উচ্চারণ─আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখ তারলি।
বাংলা অর্থ─হে আল্লাহ, আমাকে কল্যাণ দান করুন এবং আমার জন্য আপনিই কোন বিষয়টি অবলম্বন করা উচিত, তা নির্বাচন করে দিন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৬)
এরপর যেদিকে মন যায়, ভালো মনে হয়; আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেই কাজ শুরু করা। এভাবে আমল করলেই ইসতেখারা হয়ে যায়। এটাই ইসতেখারার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি।
আরও পড়ুন: ব্যবসার টাকা অন্যের কাছে থাকলে জাকাত দিতে হবে?
কিন্তু কিছু মানুষ নিজে থেকে ইসতেখারার নামাজের বিভিন্ন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। এমন কয়েকটা কাজ এখানে উল্লেখ করা হলো─
১. ইসতেখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজের নিয়ত বাঁধা। তারপর সুরা ফাতিহা তেলাওয়াত শুরু করে‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম’ পর্যন্ত পৌঁছে আর তিলাওয়াত না করে এই আয়াতই বারবার পড়তে থাকা। যে কাজের জন্য ইসতেখারা করা হচ্ছে তা যদি কল্যাণকর হয়, তা হলে উল্লিখিত আয়াত পুনরাবৃত্তি করতে করতে এক সময় মুসল্লি নিজে নিজেই ডান দিকে ঘুরে যাবে আর ক্ষতিকর হলে বাম দিকে ঘুরে যাবে। ডান দিকে ঘুরে গেলে কল্যাণকর হবে, বাম দিকে গেলে অকল্যাণকর।
এটা নিতান্তই একটি মনগড়া পদ্ধতি। এ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। এর সঙ্গে সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই। মাওলানা রশিদ আহমদ লুধিয়ানবি (রহ.) এটাকে সুন্নাহ বর্জন এবং নামাজের সঙ্গে মশকরা বলে উল্লেখ করেছেন। (খুতুবাতুর রশিদ, মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানবি, ১/৪৫-৪৮)
২. অনেকে মনে করেন, ইসতেখারা শেষ করে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। ঘুমের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত স্বপ্নে দেখা যাবে। এটা একবারেই অলিক ধারণা। ইসতেখারার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঘুমের বা স্বপ্নের কোনো সম্পর্ক নেই। তা ছাড়া স্বপ্নের ব্যাখ্যা খুবই জটিল একটি শাস্ত্র। কখনো বিভিন্ন কারণে একই স্বপ্নের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা হয়, সঠিক ব্যাখ্যা নির্ধারণ করা যথেষ্ট কঠিন ব্যাপার। যা সবার দ্বারা সম্ভব নয়। এ ছাড়া আমাদের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন শরিয়তের দলিলও নয়। সুতরাং ইসতেখারা করে ঘুমানোর এবং ঘুমে স্বপ্নে দেখা প্রয়োজনীয় কিছু নয়। অন্তর যেদিকে ঝুঁকবে, আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেটা শুরু করা।
৩. একজনের ইসতেখারা আরেকজনের দ্বারা করানোর ব্যাপারটি হাস্যকর। সুন্নাহবিবর্জিত কাজ। নিজের জন্য ইসতেখারা নিজেকেই করতে হবে। অন্য কারও দ্বারা করালে তা হবে না। ইসতেখারা খুবই সহজ একটা ইবাদত। যিনি নামাজ জানেন, তিনি ইসতেখারাও জানেন আলহামদুলিল্লাহ।
লেখক: শিক্ষক, মাদরাসাতুল হেরা, ঢাকা