আল্লাহতায়ালা বান্দাকে পরীক্ষা হিসেবে কখনো দুঃখ-কষ্ট বা বিপদ-আপদ দেন। তখন ভেঙে পড়া যাবে না। হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্য ধরতে হবে। ধৈর্য ধরতে পারলে জীবন সুন্দর হবে। সফলতার পথ সুগম হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বহু জায়গায় ধৈর্যশীল বান্দার জন্য অগণিত পুরস্কারের সুসংবাদ এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা করো।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ২০০)
সফলতা অর্জন করতে আমরা বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই সফলতার পথে ধৈর্য অপরিহার্য। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাহায্য করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। ধৈর্যের চেয়ে বেশি প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কখনো তোমাদের দান করা হবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪৭০)
মহান আল্লাহ দুনিয়াতে বান্দাকে ধনসম্পদ, জীবন এবং ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। আল্লাহর প্রতি বান্দা কতটা ভরসা করেন, তা তখন প্রমাণিত হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফসলের ক্ষতির দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫)। তাই জীবনের কঠিন মুহূর্তেও ধৈর্য ধরতে হবে এবং নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
দুনিয়ায় যারা ধৈর্য ধারণ করবে, মহান আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে, এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে ফোটে, এর দ্বারাও।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৬৪০)
দুনিয়ার জীবন মুমিনের জন্য পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত মহান আল্লাহ বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করবেন। কোরআনে আছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি জেনে নিই তোমাদের মধ্যে কে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীল এবং আমি তোমাদের কার্যাবলি পরীক্ষা করি।’ (সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৩১)
দুনিয়ার কৃতকর্মের দ্বারা পরকালে জান্নাত ও জাহান্নাম নির্ধারণ করা হবে। ধৈর্যশীল বান্দারা পুরস্কার হিসেবে পরকালে পাবে জান্নাত। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার কাছে জান্নাত ছাড়া অন্য কোনো পুরস্কার নেই, যখন আমি দুনিয়ায় তার প্রিয়তম কাউকে কেড়ে নিই এবং সে নেকির নিয়তে ধৈর্য ধারণ করে।’ (বুখারি, হাদিস: ১২৫২)
লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়