প্রিয় নবি মুহাম্মাদ (সা.)-এর দাম্পত্য জীবন মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আদর্শ। তাঁর জীবনে দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতিটি দিক ছিল সুশৃঙ্খল, সৌহার্দপূর্ণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাম্পত্য জীবনের মূল ভিত্তি ছিল কোরআনের নির্দেশনা এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য আবরণ, আর তোমরা তাদের জন্য আবরণ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য সুরক্ষা ও মানসিক প্রশান্তির উৎস। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ আদর্শ তাঁর জীবনে বাস্তবায়ন করেছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি অসীম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করতেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের প্রতি উত্তম আচরণ করে। আর আমিই আমার পরিবারের প্রতি সর্বোত্তম আচরণকারী।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রতি অত্যন্ত নম্র ছিলেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় তাঁর স্ত্রী উম্মে সালমার পরামর্শ গ্রহণ করে তিনি সাহাবিদের মনোবল বৃদ্ধি করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রতিটি স্ত্রীর অধিকার ছিল সমান। তিনি সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতেন। তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে উত্তম সময় কাটাতেন এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা করতেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যদি নারীদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে না পারার ভয় কর, তবে একটির বেশি বিয়ে করো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩)।
দাম্পত্য জীবনে কখনো ছোটখাটো মতবিরোধ দেখা দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ধৈর্য ধারণ করতেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতেন। তিনি নিজে ঘরের কাজ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘তিনি পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং যখন নামাজের সময় হতো, তখন নামাজ পড়তে চলে যেতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৬০৪৮)। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ দিতেন এবং তাদের শিক্ষার মাধ্যমে উম্মাহর নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেন।
লেখক: মুহাদ্দিস, মারকাযুল হিকমাহ আবুবকর সিদ্দিক (রা.) মাদরাসা, ডেমরা