মুখের মাধ্যমে প্রতিনিয়তই মারাত্মক সব গুনাহ করি আমরা। মুখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারলে জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজ হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাকে তার দুই চোয়ালের মাঝের অঙ্গ অর্থাৎ জবান এবং দুই পায়ের মাঝের অঙ্গের (সঠিক ব্যবহারের) জামানত দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৪) । রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তুমি তোমার জবানের নিয়ন্ত্রণ করো।’ (জামে তিরমিজি, ২৪০৬) মুখ দ্বারা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় যেসব গুনাহ ও গর্হিত কাজ হয়, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
গালি দেওয়া: একজন খাঁটি মুমিন ব্যক্তি কখনোই কাউকে গালি দিতে পারে না। অন্যের ওপর চড়াও হতে পারে না। কথার আঘাতে কষ্ট দিতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন (অন্যের) দোষ চর্চাকারী হয় না, লানতকারী, অশ্লীল ও গালিগালাজকারী হয় না (বাজে কথা বলে না)।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৭৭)
একজন মুসলমান আরেক মুসলমানকে গালি দেওয়া কেমন গুনাহ সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরি।’ (বুখারি, ৪৮)
গিবত করা: গিবত বা পরচর্চা মারাত্মক গুনাহ। বাস্তবেই যদি কারও দোষ থেকে থাকে, তবুও অগোচরে তার দোষ চর্চা করা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, কোনো কোনো অনুমান গুনাহ। তোমরা কারও গোপন ত্রুটির অনুসন্ধানে পড়বে না এবং একে অন্যের গিবত করবে না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? এটাকে তো তোমরা ঘৃণা করে থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা হুজুরাত, হাদিস: ৪৯)
মিথ্যা বলা: মিথ্যা বলা শুধুই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ নয়; বরং মানবিক দিক থেকেও অপরাধ। ধার্মিক-অধার্মিক সবার কাছেই এটি মারাত্মক অন্যায় এবং গর্হিত কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় মিথ্যা পাপের পথে নিয়ে যায়। আর পাপ জাহান্নামে নিয়ে ফেলে। ব্যক্তি মিথ্যা বলতেই থাকে, মিথ্যার খোঁজে থাকে; একপর্যায়ে আল্লাহর খাতায় মহা মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।’ (বুখারি, হাদিস: ৬০৯৪)
অশ্লীলতা প্রচার করা: নিজেকে অশ্লীলতার সঙ্গে জড়িত রাখা এবং খারাপ কাজ করা যেমন গুনাহ, তেমনি অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার করাও মারাত্মক গুনাহ। এমন ব্যক্তিদের জন্য দুনিয়া-আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তির কথা বলেছেন আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯)
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক