রোজা রাখার নিয়তে শেষরাতে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তাকে আরবিতে সাহুর বা সুহুর বলা হয়। এর শাব্দিক অর্থ হলো, রাতের শেষ সময়ের খাবার। সে আলোকে শেষ রাতের খাবারকে সাহুর, সুহুর বা সাহরি বলা যায়। কিন্তু বাংলা ভাষাভাষী অধিকাংশ মানুষ এটিকে সেহেরি বলেন বা লেখেন— যা মোটেও ঠিক নয়। কারণ সেহের শব্দের অর্থ জাদু। (আল মুজামুল ওয়াফি, ৬৩৮, আদ-দুররল মানযুদ ফি শরহে আবি দাউদ, ৪/৩৬৯)
ঘরে যখন যা উপস্থিত থাকত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহরিতে তা খেতেন। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর খাদ্য তালিকায় সাধারণত গোশত, রুটি, জায়তুন বা এর তেল, খেজুর, দুধ ও মধু থাকত। তবে তিনি সাহরিতেও খেজুর খেতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিনের উত্তম সাহরি শুকনো খেজুর।’ (আবু দাউদ : হাদিস নং- ২৩৪৫)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘উত্তম সাহরি খেজুর এবং উত্তম তরকারি সিরকা। আল্লাহতায়ালা সাহরি গ্রহণকারীদের প্রতি দয়া করুন।’ (কানযুল উম্মাল : হাদিস নং- ২৩৯৮৩)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি গ্রহণ করো এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও, একটি খেজুর দিয়ে হলেও, আঙুরের কিছু দানা দিয়ে হলেও। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীর ওপর রহমত বর্ষণ করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস নং- ১১১০১)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেরিতে মানে সময়ের শেষ ভাগে সাহরি খেতে পছন্দ করতেন। জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাহরি গ্রহণ করি। অতঃপর তিনি নামাজের (ফজরের) জন্য দাঁড়ান। আমি জানতে চাইলাম, আজান ও সাহরির মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বলেন, ৫০ আয়াত তথা ৫০ আয়াত তেলাওয়াত করতে যতটুকু সময়ের প্রয়োজন হয়।’ (বুখারি : হাদিস নং- ১৯২১)
আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহরির সময় আমাকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘হে আনাস! আমি রোজা রাখতে আগ্রহী। আমাকে কিছু আহার করাও। আমি তার সামনে শুকনো খেজুর ও একটি পাত্রে পানি উপস্থিত করলাম। বেলালের (প্রথম) আজানের পর তিনি সাহরি গ্রহণ করেছিলেন।’ (নাসায়ি : হাদিস নং- ২১৬৭।)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘সব নবিকে তাড়াতাড়ি ইফতার করতে এবং বিলম্বে সাহরি খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আল-মুয়জামুল আওসাত, ২/৫২৬।)
রোজা রাখার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত। শরয়ি কোনো ওজর ছাড়া সাহরি ত্যাগ করা ঠিক হবে না। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন। তখন তিনি সাহরি খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সাহরি হলো বরকত, আল্লাহ তোমাদেরকে তা দান করেছেন। অতএব, তোমরা তা ত্যাগ করো না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৫/৩৭০)
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম, খবরের কাগজ