ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান বরিশাল বিভাগ এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশর দিনব্যাপী নৌ-বিহার আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে মাতোয়ারা ‘প্রচেষ্টা’র এক দিন জিয়াউর রহমান জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬ হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬ ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’

মসজিদ পরিচিতি ⁠ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১০:৩০ পিএম
⁠ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ
রাতে দৃষ্টিনন্দন তাকওয়া মসজিদের ছবি । সংগৃহীত

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর মধ্যে ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ অন্যতম। এটি তার অনন্য স্থাপত্যশৈলী এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মসজিদটি ধানমন্ডি ১২/১১ নম্বর সড়কে অবস্থিত এবং এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ধানমন্ডি লেক, যা মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করে।

এই মসজিদের স্থাপত্যের চেয়ে এর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এই মসজিদটি মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি একটি আদর্শ সমাজ গঠন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও ইসলামিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এখানকার ইমাম-মুসল্লি ও এলাকাবাসী আত্মার আত্মীয়তে পরিণত হয়েছে।

অন্য মসজিদের মতো দৈনন্দিন কার্যক্রম, যেমন-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সার্বিক নিরাপত্তা, ভোজনশালা ইতাদি তো আছেই। পাশাপাশি আছে বিভিন্ন আধুনিক কার্যক্রম। যাকে মৌলিকভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদের কার্যক্রমকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. শিক্ষামূলক কার্যক্রম

২. সেবামূলক কার্যক্রম

শিক্ষা কার্যক্রম

মুসল্লিদের দ্বীন শিক্ষার কথা মাথায় রেখে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় মৌলিক ইসলামি জ্ঞানচর্চার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ। যেমন- প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের আগে দুই মিনিটে একটি করে মাসয়ালা শোনানো এবং ফজর নামাজের পর প্রতিদিন পবিত্র কোরআনের সংক্ষিপ্ত তাফসির করা, মুসল্লিদের বিশুদ্ধ ঈমান-আকিদা ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের সুবিধার্থে বয়স্ক কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা, স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোরদের অনাবাসিক মাদরাসার ব্যবস্থা করা, যাতে তারা এখানে বিশুদ্ধ কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারে। আরও আছে মাদরাসায় পড়তে ইচ্ছুক শিশু-কিশোরদের জন্য মক্তব ও হিফজ বিভাগ।

মসজিদ যেহেতু একটি ইসলামি সমাজ পরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র, তাই এখান থেকে সমাজসেবামূলক কিছু প্রকল্পও পরিচালিত হয়। যেমন- মাত্র ১০ টাকায় চিকিৎসাসেবা, প্রতিদিন একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সকাল-সন্ধ্যা দুবেলা রোগী দেখেন। মাত্র ১০ টাকার টিকিট সংগ্রহের মাধ্যমে চিকিৎসা ও ওষুধ সেবা পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রায় এক শ জন রোগী এখান থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে থাকেন।

পাশাপাশি শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণ, অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন ইত্যাদি বিতরণসহ বিভিন্ন রকম সহায়তা করা হয়। বিশেষ করে যারা নও-মুসলিম হন, তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা মসজিদ থেকেই করার চেষ্টা করা হয়। গরিব ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য আছে বৃত্তির ব্যবস্থা।

এ ছাড়া কোনো মুসলিম মারা গেলে তার লাশ সৎকারের জন্য মসজিদের পক্ষ থেকে আছে মৃতদেহ গোসলের কক্ষ। যেখানে ন্যূনতম ফি প্রদানের মাধ্যমে মৃতদেহ গোসল থেকে শুরু করে কাফন-দাফনে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।


এ মসজিদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, মুসল্লিদের জন্য এখানকার দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, যে কেউ যেকোনো সময় এখানে এসে নামাজ/ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে এবং খুশির দিনে যেমন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের স্মরণ করে, তেমনি বিপদের সময়ও সহযোগিতার জন্য ২৪ ঘণ্টাই ইমাম সাহেবের দ্বারস্থ হওয়ার জন্য মসজিদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

 

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক 

 

তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশ এখন আগুনঝরা। বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বইছে তাপপ্রবাহ; কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। রাস্তায় বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে আছেন। এমন সময়ে একজন মুমিনের কর্তব্য কেবল গরমে হাঁসফাঁস করা নয়; বরং ঈমান, সবর ও সতর্কতা মিলিয়ে নিরাপদভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করা উচিত।

ইসলাম তাপকে নিছক প্রাকৃতিক বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে না, দেখে এক গভীর স্মারক হিসেবে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘বলো, জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও কঠিন উত্তপ্ত, যদি তারা বুঝত!’ (সুরা তাওবা, ৮১)। দুনিয়ার সামান্য রোদের এই অসহনীয় তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; আখিরাতের কঠিন উত্তাপের কথা। তাই গরম যেন আমাদের গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং বেশি বেশি ইস্তিগফারের তাগিদ দেয়।

আবার পানির অপরিহার্যতা স্মরণ করিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি পানি থেকেই প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, ৩০)। গরমে শরীরের পানিশূন্যতাই সবচেয়ে বড় বিপদ, তাই পানির এই নিয়ামতের কদর করা ঈমানি দায়িত্ব। পানাহারে আল্লাহর নির্দেশ হলো সংযম, তিনি এরশাদ করেছেন, ‘খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ, ৩১)।

তীব্র গরমে নামাজ নিয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন স্বস্তির নির্দেশনা। তিনি বলেছেন, ‘গরম যখন প্রচণ্ড হয়, তখন (জোহরের) নামাজ ঠাণ্ডার সময়ে আদায় করো; কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের নিশ্বাস থেকে।’ (বুখারি, ৫৩৩-৫৩৪; মুসলিম, ৬১৫)। অর্থাৎ দুপুরের তীব্র রোদে কষ্ট করে নয়, একটু দেরিতে; যখন তাপ কমে আসে, তখন জোহর পড়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এ যেন গরমকালে মুসল্লির জন্য রহমতস্বরূপ ব্যবস্থা।


তাপপ্রবাহে নিরাপদ থাকতে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান মিলিয়ে পরামর্শগুলো মেনে চলা যায়–

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি বা খাবার-স্যালাইন পান করুন। অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়, তাই স্যালাইন বিশেষ উপকারী। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পানীয় ছিল মিষ্টি ও ঠাণ্ডা পানীয় (তিরমিজি, ১৮৯৫)।

তীব্র গরমে ডাবের পানি, লেবু-পানি বা ঠাণ্ডা পানি যে শরীর ও মনকে স্বস্তি দেয়, নবিজি (সা.)-এর এই পছন্দে তারই ইঙ্গিত আছে। আর পানি পানের পদ্ধতিও তিনি শিখিয়েছেন–এক নিশ্বাসে ঢকঢক করে নয়, বরং কয়েক নিশ্বাসে ধীরে ধীরে পান করতেন (মুসলিম, ২০২৮)। গরমে হঠাৎ অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি একসঙ্গে গলায় ঢালার চেয়ে এ পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ।

দ্বিতীয়ত, রোদ এড়িয়ে চলুন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত সূর্য সবচেয়ে প্রখর থাকে। এ সময় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো; বের হলে ছাতা, টুপি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘক্ষণ এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন, যাতে শরীরের একাংশ রোদে আর একাংশ ছায়ায় থাকে; তিনি একে শয়তানের বসার স্থান বলেছেন (আবু দাউদ, ৪৭৮৮)। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এর একটি হিকমত হলো রোদের তাপে কষ্ট পাওয়া এড়ানো। অর্থাৎ দুপুরের প্রখর রোদকে নবিজি (সা.) নিজেই এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।

তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। ইসলাম পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে আরামদায়ক পোশাকের অনুমতি দেয়। সুতির, হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় তাপ শোষণ কম করে এবং বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। আনাস ও উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল ‘কামিস’ (লম্বা, ঢিলেঢালা জামা) (আবু দাউদ, ৪০২৫; তিরমিজি, ১৭৬২) 
উষ্ণ আবহাওয়ায় তার পরিধেয় ছিল মূলত ঢিলেঢালা ও আবৃত পোশাক, যা শরীরকে রোদ থেকে রক্ষা করত আর বাতাস চলাচলেও বাধা দিত না। 

চতুর্থত, হালকা খাবার খান। ভারী, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও বেশি ভাজাপোড়া খাবার গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায়। মৌসুমি ফল, শসা, লেবু-পানি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম-সন্তান পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমাই তার জন্য যথেষ্ট। তবু যদি বেশি খেতেই হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাসের জন্য রাখুক।’ (তিরমিজি, ২৩৮০; ইবনে মাজাহ, ৩৩৪৯) । ভারী ও অতিরিক্ত খাবার গরমে হজমে চাপ ফেলে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে–এই পরিমিতির সুন্নাহই তখন সবচেয়ে উপকারী।

পঞ্চমত, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমিভাব বা অজ্ঞান হওয়া–এসব দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে নিয়ে শরীরে পানি দিন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, তাই তা পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করো।’ (বুখারি, ৩২৬৩; সহিহ মুসলিম, ২২০৯) শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে পানি দিয়ে শীতল করার এই নির্দেশনা সরাসরি হিটস্ট্রোক মোকাবিলার সঙ্গে মিলে যায়–আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অজ্ঞানভাব দেখা দিলে দ্রুত শরীর ঠাণ্ডা করার পরামর্শ দেয়।

তীব্র গরমে শুধু নিজে বাঁচলেই হবে না, অন্যকে বাঁচানোও ঈমানের দাবি। সাহাবি সাদ ইবনু উবাদা (রা.) যখন তার প্রয়াত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন কোন সদকা সর্বোত্তম। তিনি উত্তর দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৬৮৪; আবু দাউদ, ১৬৭৯) 
এরপর সাদ (রা.) মদিনায় একটি কূপ খনন করে দিয়েছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে রাস্তার পাশে তৃষ্ণার্ত পথিক, রিকশাচালক বা শ্রমিকদের জন্য একটু ঠাণ্ডা পানি বা স্যালাইনের ব্যবস্থা করা–এ এক মহৎ সদকা।

এমনকি অবলা প্রাণীর তৃষ্ণা মেটানোও আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। নবিজি (সা.) সেই ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে তৃষ্ণার্ত এক কুকুরকে কূপ থেকে পানি তুলে পান করিয়েছিল, আর তাতেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবন্ত প্রাণের সেবায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি, ২৩৬৩; মুসলিম, ২২৪৪)। তাই বাড়ির ছাদে বা উঠানে পাখি ও প্রাণীর জন্য এক পাত্র পানি রেখে দেওয়াও এক নীরব ইবাদত। এই তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য দ্বিমুখী পরীক্ষা–সবরের পরীক্ষা এবং প্রজ্ঞার পরীক্ষা। গরমকে গালি না দিয়ে বরং একে আখিরাতের স্মারক হিসেবে নিয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করি, সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের নির্দেশনা মেনে নিজেকে নিরাপদ রাখি, আর তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়াই। 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ

ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগে এসে আমাদের লাইফস্টাইল ও বিনোদনের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। কনসার্ট, পার্টি, ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন আর নাইটলাইফ আজ আমাদের কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে মানবতার মুক্তির দূত রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সময়ের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা আজকের সমাজের চিত্রকে হুবহু ফুটিয়ে তোলে। বুখারি শরিফের ৫৫৯০ নম্বর বর্ণনায় তিনি বলেন, অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু দল আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মাদক এবং গান-বাজনার বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য হালাল বা বৈধ মনে করবে।

বর্তমান সময়ে বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল আর গান ছাড়া আমাদের যেকোনো উৎসব যেন জমেই না। অথচ সাহাবিদের জীবনে আত্মিক পবিত্রতা রক্ষার তাগিদ ছিল। হাদিসে এসেছে, একবার চলার পথে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে হযরত ইবনু উমর (রা.) তার দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে যান এবং নাফে-কে জিজ্ঞেস করেন কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে কি না। নাফে না বললে তিনি আঙুল বের করে বলেন, একদা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে থাকা অবস্থায় এমন শব্দ শুনে রাসুল (সা.) ঠিক একইভাবে কানে আঙুল দিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছিলেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়, গান-বাজনার কলুষতা থেকে কানকে বাঁচিয়ে রাখা কতটা জরুরি।

আজকের দিনে সমাজের একশ্রেণির বিত্তশালী মানুষ বিলাসবহুল পার্টি আর উইকএন্ড নাইটে মেতে ওঠেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, উম্মতের কিছু দল রাতে আমোদ-প্রমোদ ও ভোগবিলাসে মত্ত থাকবে, আর সকালে তাদের আকৃতি শূকর ও বানরে রূপান্তরিত হবে (সিলসিলায়ে সহিহাহ, ১৬০৪)। এর মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য হলো,তাদের চাল-চলন, পোশাক ও সংস্কৃতি হবে বিজাতিদের মতো; হালাল-হারামের কোনো তোয়াক্কা থাকবে না। তাদের ঘরে কুকুর ও মূর্তির ছড়াছড়ি থাকবে এবং ব্যভিচার হয়ে পড়বে এক সাধারণ বিষয়।

বর্তমান সমাজে মদের আধুনিক সব নাম দিয়ে তাকে আভিজাত্যের অনুষঙ্গ বানানো হচ্ছে। হযরত আবু মালিক আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে এবং তার নাম রাখবে ভিন্ন। আর সমাজ বা রাষ্ট্রের একশ্রেণির নেতাকে গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বরণ ও সম্মান করা হবে। এই চরম নৈতিক স্খলনের কারণে আল্লাহতায়ালা তাদের ভূমিকম্পের মাধ্যমে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রকে বানর ও শূকরে পরিণত করবেন (ইবনে মাজাহ, ৪০২০)।

আধুনিকতা ও অন্ধ অনুকরণের জোয়ারে আমরা যেন আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। সাময়িক আনন্দ আর অপসংস্কৃতির এই কর্দমাক্ত পথ পরিহার করে নৈতিক ও পবিত্র জীবন গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি জানেন, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটি কেমন ছিল এবং সেটি কোন দেশ থেকে আসত? আর যখনই তিনি কোনো নতুন পোশাক গায়ে দিতেন, তখন তিনি এমন একটি কাজ করতেন যা আমাদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামে পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম নয়, বরং পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় মার্জিত পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করতেন তবে তাঁর একটি বিশেষ চাদরের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের তালিকায় সবচেয়ে প্রিয় ছিল ‘হিবারা’ সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট সর্বাধিক প্রিয় কাপড় ছিল হিবারা (ইয়ামানে তৈরি এক বিশেষ চাদর)’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮১৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৬২)

তৎকালীন আরব বিশ্বে ইয়েমেনের তৈরি পোশাকের বিশেষ খ্যাতি ছিল সুতি বা কাতান কাপড়ের ওপর লাল, নীল কিংবা সবুজ রঙের ডোরাকাটা কারুকার্যময় বিশেষ চাদরকে ‘হিবারা’ বলা হতো এটি যেমন ছিল আরামদায়ক, তেমনই দেখতেও ছিল অত্যন্ত মার্জিত আকর্ষণীয়

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও মার্জিত পোশাক পরিধান করেছিলেন হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, একদা রাসুল (সা.) (অসুস্থতার কারণে) উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর কাঁধে ভর করে বাইরে বের হলেন সময় তাঁর দেহে পরা ছিল একটি ইয়ামেনি নকশি কাপড় তার পর তিনি লোকদের নামাজের ইমামতি করেন (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৩৭৮৭) এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি পরিপাটি সুন্দর পোশাক পরিধান করাকে পছন্দ করতেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো নতুন পোশাক (যেমন- পাগড়ি, জামা বা চাদর) লাভ করতেন, তখন তিনি আনন্দের সঙ্গে সেটির নাম উচ্চারণ করতেন এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এক চমৎকার দোয়া পাঠ করতেন হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন কাপড় পরিধানের পর বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাসাওতানিহি, আসআলুকা মিন খাইরিহি ওয়া খাইরি মা সুনিআ লাহ, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিআ লাহ

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা যেহেতু তুমিই আমাকে তা পরিধান করিয়েছ আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আরও কল্যাণ চাচ্ছি যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরি করা হয়েছে তার আর আমি তোমার শরণাপন্ন হচ্ছি এর যাবতীয় অনিষ্ট হতে এবং যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে তার অনিষ্ট হতে (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১১২৬৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাকের এই পছন্দ অভ্যাস থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে রুচিশীলতা পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কতখানি অপচয় না করে সাধ্যের মধ্যে সুন্দর মার্জিত পোশাক পরিধান করা এবং নতুন পোশাকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত সুন্দর একটি সুন্নাহ

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২০ জুন ২০২৬, শনিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
মৌসুমি ফল আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত
ছবি: সংগৃহীত

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ যেন ফলের এক অফুরন্ত ভান্ডার। বছরজুড়ে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় বাজারের ফলের ডালি। প্রতিটি মৌসুম নিয়ে আসে নতুন স্বাদ, নতুন পুষ্টি। এই বৈচিত্র্য নিছক প্রকৃতির খেলা নয়, বরং মহান আল্লাহর অপার দয়ার নিদর্শন।

পবিত্র কোরআনে ফলকে আল্লাহ বারবার তার নেয়ামত হিসেবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেছেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তা দিয়ে উৎপন্ন করেন শস্য, জলপাই, খেজুর, আঙুর এবং সব ধরনের ফল।’ (সুরা নাহল, ১১)। অন্যত্র মানুষকে নিজের খাবারের প্রতি দৃষ্টি দিতে বলে আল্লাহ আঙুর, খেজুর, বাগান ও ফলের কথা উল্লেখ করে এরশাদ করেছেন, ‘এসব তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর জীবনোপকরণস্বরূপ।’ (সুরা আবাসা, ২৪-৩২)। প্রতিটি মৌসুমি ফল তাই আল্লাহরই দান, যা চিন্তাশীল মানুষকে তার কুদরতের কথা স্মরণ করায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে মৌসুমি ফল খেতেন এবং তা উপভোগ করতেন। বর্ণিত আছে, তিনি তরমুজ পাকা খেজুরের সঙ্গে খেতেন (আবু দাউদ, ৩৮৩৬; তিরমিজি, ১৮৪৩)। তিনি শসা খেতেন পাকা খেজুরের সঙ্গে (বুখারি, ৫৪৪০; মুসলিম, ২০৪৩) বিশেষভাবে, মৌসুমের প্রথম ফল হাতে পেলে নবিজি (সা.) আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া করে এই দোয়া পড়তেন–আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি সামারিনা, ওয়া বারিক লানা ফি মাদিনাতিনা...—হে আল্লাহ! আমাদের ফলে বরকত দিন, আমাদের শহরে বরকত দিন...। এরপর তিনি ফলগুলো উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুর হাতে তুলে দিতেন (মুসলিম, ১৩৭৩)। এ থেকে শেখা যায়, নতুন ফল পেলে কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার সুন্নাহ।

নেয়ামত ভোগের পর শুকরিয়া আদায় ঈমানের দাবি। আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি তা খাও এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।’ (সুরা বাকারা, ১৭২)। আর শুকরিয়ার প্রতিদান বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি দিয়েছেন, এরশাদ করেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞ হও, অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম, ৭)। তাই প্রতিটি মৌসুমি ফল মুখে দেওয়ার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ আর শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে আমরা যেন স্মরণ করি–এ স্বাদ, এ পুষ্টি সবই আল্লাহর দান। আল্লাহ আমাদের তার নেয়ামতের কদর করার ও যথাযথ শুকরিয়া আদায়ের তওফিক দিন। আমিন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক