খাদিজা (রা.) ছিলেন রাসুল (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। যিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মহানবি হয়রত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছ থেকে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য কোনো পুরুষের হয়নি। কারণ, আল্লাহতায়ালা সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দিয়েছিলেন খাদিজা (রা.)-কে। শুধু প্রথম ইসলাম গ্রহণই নয়, বরং খাদিজা (রা.) সর্বপ্রথম ওজু করেছিলেন, সালাত আদায় করেছিলেন, প্রথম দান করেছেন- এমনকি তিনিই রাসুল (সা.)-এর একমাত্র স্ত্রী, যিনি সন্তান জন্মদানের গৌরব অর্জন করেছিলেন। তিনিই প্রথম উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে দুনিয়াতে বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন।
আল্লাহতায়ালা খাদিজা (রা.)-কে পাঠিয়েছিলেন নিয়ামতস্বরূপ। কারণ, রাসুল (সা.)-এর সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি সাহস যুগিয়েছিলেন। যখন মক্কার কাফেররা রাসুল (সা.)-এর ওপর উৎসব ও উপাসনায় অংশগ্রহণ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিল, তখন খাদিজা (রা.)-এর কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন পেয়েছিলেন উপাসনা না করার জন্য। খাদিজা (রা.)-এর এক প্রতিবেশী এক রাতে মুহাম্মদ (সা.)কে বলতে শুনলেন, ‘হে খাদিজা! আল্লাহর কসম, আমি কখনো লাত উজ্জার পূজা করব না। আল্লাহর কসম, কখনোই তাদের অর্চনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ তখন খাদিজা (রা.) বলেন, ‘দূর হোক লাত উজ্জা। লাত উজ্জার বিষয়ে আলোচনাই করবেন না।’ (মুসনাদে আহমদ : ১৭৪৮৭)
প্রথম ওহি অবতীর্ণের আগে রাসুল (সা.) অস্বাভাবিক কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করেন। ‘রাসুল (সা.) নবুয়ত লাভের পূর্বে ছয় মাস সত্য স্বপ্ন দেখেছেন।’ এসব ঘটনা রাসুল (সা.) খাদিজা (রা.)-কে বর্ণনা করলে তিনি তাকে সমর্থন করেন এবং সাহস জোগান। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মাঝে মাঝে রাসুল (সা.) একটি আলো দেখতেন অথবা সালাম ধ্বনি শুনতেন।’ রাসুল (সা.) খাদিজা (রা.)-কে বলেন, ‘হে আবদুল্লাহর সন্তান! আল্লাহতায়ালা কখনো আপনাকে অমঙ্গল করবেন না।’ অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা) খাদিজা (রা.)-কে বললেন, ‘আমি যা স্বপ্নে দেখি তা সত্যে পরিণত হয়।’ খাদিজা (রা.) বলেন, ‘এটা ভালো সংবাদ, আপনার সাথে ভালো বৈ খারাপ কিছু ঘটতে পারে না।’
বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম যুহরী (রহ.) বলেন, ‘রুকাইয়ার জন্মের সময় থেকে মুহাম্মদ (সা.) নির্জনতা পছন্দ শুরু করেন, হেরা গুহায় যাওয়া শুরু করেন।’ অর্থাৎ সে সময় বিভিন্ন কারণে কোরাইশদের সঙ্গ তার পছন্দ হচ্ছিল না। সে সময় রাসুল (সা.) হেরা গুহায় বহু রাত কাটিয়েছেন। খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.)কে খাবার প্রস্তুত করে দিতেন। খাবার শেষ হলে তিনি মক্কায় ফিরে আসতেন, কাবা শরিফ তাওয়াফ করতেন। অতঃপর খাদিজা (রা.)-এর ঘরে ফিরে যেতেন। খাদিজা (রা.) অনেক সময় খাবার নিয়ে হেরা গুহায় রাসুল (সা.)-এর কাছে যেতেন। কখনো কখনো তিনি হেরা গুহায় রাসুল (সা.)-এর সাথে অবস্থান করেছেন।
হেরা গুহা থেকে খাদিজা (রা.)-এর বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই ঘণ্টার পথ। খাদিজা (রা.)-এর ঘর ছিল কাবার পাশে। সেখান থেকে তিনি মরুভূমির প্রায় দুই ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে হেরা গুহায় পৌঁছাতেন। রাসুল (সা.) এমন কঠিন মুহূর্তে খাদিজা (রা.)কে তার পাশে পেয়েছেন। আর খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.)-এর ওপর আস্থা রেখেছেন, তাকে প্রেরণা দিয়েছেন। এটাই খাদিজা (রা.)-এর অনিন্দ্য বৈশিষ্ট্য।
লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়