একজন মুমিনের হৃদয়ে ইবলিসের মৃত্যুর ধারণা স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী। নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু বিদ্যমান, মহান আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল- এই বিশ্বাস প্রতিটি মুমিনের অন্তরে দৃঢ়ভাবে স্থাপিত। আল্লাহতায়ালার সুস্পষ্ট বাণী, ‘পৃথিবীর সবকিছুই ধ্বংসশীল, কেবল আপনার মহিমাময় ও মহানুভব পালনকর্তার মুখমণ্ডলই টিকে থাকবে’ (সুরা রাহমান, ২৬-২৭) এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে।
তবে পশ্চিমা বিশ্বে, বিশেষত শয়তানবাদ বা স্যাটানিজমের অনুসারীদের কাছে ইবলিসের মৃত্যুর ধারণা সম্পূর্ণ বিপরীত। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘চার্চ অব স্যাটান’ প্রতিষ্ঠার পর এই মতবাদ প্রকাশ্যে আসে এবং বর্তমানে অনেক পশ্চিমা দেশে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত ‘ধর্ম’ হিসেবে বিবেচিত হয়। শয়তানের অনুসারীরা বিশ্বাস করে যে ইবলিস আল্লাহর মতোই অবিনশ্বর এবং মৃত্যুর পর তারা এক পরম সুখের রাজ্যে প্রবেশ করবে। তাদের কাছে উপাস্য হওয়ার প্রধান শর্তই হলো অবিনশ্বরতা।
এই প্রেক্ষাপটে ইবলিসের নিজের দাবিও প্রণিধানযোগ্য। অভিশপ্ত ও জান্নাত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ইবলিস মহান আল্লাহর কাছে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চেয়েছিল, যাতে তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে না হয়। আল্লাহতায়ালা তার সেই আবেদন মঞ্জুর করে বলেন, ‘তোকে অবকাশ দেওয়া হলো এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত’ (সুরা সোয়াদ: ৭৯-৮১)।
প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন যে, ইবলিস কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকার প্রার্থনা করেছিল। তবে আল্লাহ তাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন। সেই নির্দিষ্ট সময়কাল হলো ইসরাফিলের (আ.) প্রথম ফুৎকার পর্যন্ত, যা বিশ্ব ধ্বংসের সংকেত। ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বলেন, প্রথম ফুৎকারের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হবে এবং দ্বিতীয় ফুৎকারের মাধ্যমে পুনরায় জীবন দান করা হবে। এই দুটি ফুৎকারের মধ্যবর্তী সময়কাল হবে চল্লিশ বছর। এই চল্লিশ বছর ইবলিস মৃত অবস্থায় থাকবে।
অতএব, ইবলিসও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কারণ, সৃষ্টি কখনোই স্রষ্টার সমতুল্য হতে পারে না। আল্লাহই একমাত্র অবিনশ্বর। শয়তান যতই নিজেকে চিরন্তন দাবি করুক, বাস্তবতা হলো, সে সৃষ্ট এবং ধ্বংসশীল।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক