আদিকাল থেকেই জিন ও শয়তান মানুষের জন্য এক অদৃশ্য শত্রু। তারা নানা উপায়ে মানুষকে ক্ষতি করে, পথভ্রষ্ট করে ও ঈমানহারা করার চেষ্টা করে। তাদের প্রতারণার কিছু ধরন কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
জিনরা আমাদের দেখতে পায় কিন্তু আমরা তাদের দেখতে পাই না। আল্লাহতায়ালা ইবলিস ও তার দলবল সম্পর্কে বলেন, ‘নিশ্চয় সে (শয়তান) ও তার দলবল তোমাদেরকে যেমনভাবে দেখতে পায়, সেভাবে তোমরা তাদের দেখতে পাও না।’ (সুরা আরাফ, ২৭)। মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে ‘সে’ দ্বারা ইবলিস এবং ‘দলবল’ দ্বারা তার অনুসারী জিনদের বোঝানো হয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জিনরা মানুষকে যতটা স্পষ্ট দেখে, মানুষ ততটা দেখতে পায় না। দৃষ্টিশক্তির এই ভিন্নতার কারণে জিনদের পক্ষে আমাদের ক্ষতি করা সহজ হয়ে যায়। তবে আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন, সে তাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে।
যাদের মনে সন্দেহ ও কুপ্রবৃত্তির আধিক্য থাকে, সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রবল হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ওয়াসওয়াসার পরিমাণ সন্দেহ ও কুপ্রবৃত্তির সমানুপাতিক। অন্তর যা ভালোবাসে, শয়তান সে বিষয়েই কুমন্ত্রণা দেয় এবং যা ঘৃণা করে, তা থেকে দূরে থাকার প্ররোচনা দেয়। তাই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উচিত দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা। এতে অন্তর আলোকিত হবে এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
যখন বান্দা আল্লাহর জিকির থেকে উদাসীন থাকে, তখন জিনরা ক্ষতি করার সুযোগ পায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি পরম দয়াময়ের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে, আমি তার জন্য এক শয়তান নিযুক্ত করে দিই এবং সে হয়ে যায় তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী।’ (সুরা যুখরুফ, ৩৬)।
ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, শয়তান মানুষের অন্তরকে গ্রাস করে ফেলে। আল্লাহর স্মরণে থাকলে শয়তান পিছু হটে যায়, আর গাফেল থাকলে ওয়াসওয়াসা দেয়।
জিনরা আক্রান্ত হলে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে। ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, জিনদের ওপর ভুলক্রমে প্রস্রাব বা গরম পানি পড়লে তারা মানুষের ক্ষতি করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। জিনরা সাপের রূপ ধরে লোকালয়ে আসে। তাই নবি (সা.) সাপ দেখলে তিনবার সতর্ক করতে বলেছেন। কিছু জিন আবর্জনায় বাস করে এবং সেখানে কিছু ছুড়লে তারা কষ্ট পেতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে জিনদের কষ্ট দেওয়া হারাম। যদি তারা বিনা কারণে ক্ষতি করে, তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে শরিয়তসম্মত উপায়ে আত্মরক্ষা করতে হবে।
পুরুষ বা নারী জিনরা কখনো মানুষের প্রেমে পড়ে কামাসক্ত হতে পারে। ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, কামনা ও লালসার বশে তারা মানুষকে আছর করতে পারে। মানুষ যেভাবে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়, জিনরাও তেমন অনুভব করতে পারে এবং ভালোবেসে বিভিন্ন জিনিস এনে দিতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে জিন তাকে শাস্তি দেয়, এমনকি হত্যাও করতে পারে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক