জাদু-টোনা এমন নিকৃষ্ট ও অভিশপ্ত কাজ—যা কুফরি, শিরক ও মিথ্যার অবলম্বনে করা হয়। কুফরি ও শিরকের মাধ্যমে জিন ও শয়তানকে আয়ত্তে এনে তাদের সাহায্যে মানুষের ক্ষতিসাধন করা হয়। সংসারে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব এবং ঘৃণা সৃষ্টি করে। এ জাতীয় জাদু-টোনা কুফরি ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। কোরআনে অনিষ্টকর বিদ্যা বলা হয়েছে জাদু-টোনাকে। এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রী, মা-ছেলে, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি ও তাদের পারস্পরিক সৌহার্দ নষ্ট করা হয়।
আল্লাহতায়ালা বলেন, তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধন করত এবং কোনো উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে ব্যক্তি তা ক্রয় করে (চর্চা করে), পরকালে তার কোনো অংশ নেই। তা কত নিকৃষ্ট, যার বিনিময়ে তারা স্বীয় আত্মাকে বিক্রি করেছে—যদি তারা জানত। (সুরা বাকারা, ১০২)
এমনিভাবে জ্যোতিষশাস্ত্র বা চর্চাও ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ। যার মাধ্যমে বা হাতের রেখার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। কেননা ভবিষ্যতের নিশ্চিত জ্ঞান শুধু আল্লাহতায়ালারই আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে চায়, ৪০ দিন পর্যন্ত তার নামাজ কবুল হয় না। (মিশকাত, ৩৯৩)
এর পরের হাদিসেই এসেছে, জ্যোতিষী হলো গণক আর গণক হলো জাদুকর। (মিশকাত, ৩৯৪) এ জন্য রাশিচক্র ও জ্যোতিষীবিদ্যা এবং গণকদের করা ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের পরিপন্থি। কুফরি ও শিরকি জাতীয় কাজ। সে জন্য আমাদের করণীয় হলো, রাশিচক্র ও জ্যোতিষীবিদ্যায় বিশ্বাস স্থাপন না করা। এবং গণকদের থেকে দূরে থাকা। আল্লাহতায়ালা আমাদের এ সমস্ত কুফরি ও শিরকি কাজ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক