প্রশ্ন: আমার বাড়ির নিরাপত্তার জন্য একটি কুকুর পোষা খুব জরুরি। কিন্তু আমি শুনেছি, আশ্বিন মাসে কুকুর প্রায়ই পাগল হয়ে যায়। যদি সেটিকে খাসি করে দেওয়া হয়, তাহলে এমনটা হয় না। এই পরিস্থিতিতে আমি কুকুরটিকে খাসি করতে চাই। ইসলামি শরিয়তে এর কোনো অনুমতি আছে কী না?
উত্তর: আপনার প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুলে ধরেছে। ইসলামে প্রাণীর প্রতি দয়া ও তাদের কষ্ট না দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। আপনার বাড়ির নিরাপত্তার জন্য কুকুর পোষা জায়েজ। আর যদি সেই কুকুরকে খাসি করার মাধ্যমে তার মধ্যে আক্রমণাত্মক বা হিংস্র আচরণ বন্ধ হয়, যা আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাহলে এমনটি করার অনুমতি রয়েছে।
ইসলামি ফিকাহশাস্ত্র অনুযায়ী, যদি কোনো প্রাণীর ক্ষতি বা অনিষ্ট প্রতিরোধের জন্য তার অঙ্গহানি বা খাসি করা জরুরি হয়ে পড়ে, তাহলে তা করা জায়েজ। এক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো, এই কাজটি যেন কোনো অহেতুক কারণে না হয়, বরং একটি বৈধ ও জরুরি প্রয়োজনে করা হয়।তবে, এই কাজটি করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রাণীটি অহেতুক বেশি কষ্ট না পায়। যতদূর সম্ভব, কষ্ট কমানোর জন্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
[তথ্যসূত্র: ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া (৫/৩৫৭), হেদায়া (ফাতহুল কাদীরসহ) (৮/৪৯৭), এবং আদ্দুররুল মুখতার (৬/৩৮৮)]