মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় অনেক নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরে গেছে, অসংখ্য মানুষ দগ্ধ ও আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারি এবং বার্ন ইনস্টিটিউটের চারপাশের শোকাহত পরিবেশ এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা করেছে। এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু মেনে নেওয়া যেকোনো পরিবারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। এই পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
তবে ইসলাম ধর্মে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুগুলোকে একটি বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণকারী মুমিন মুসলমানকে শহিদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে, বা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন, তাদের জন্য নবিজির (সা.) সুসংবাদ রয়েছে।
আগুনে পুড়ে নিহতরা শহিদ: হাদিস শরিফে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তি শহিদ হিসেবে গণ্য হন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জাবের (রা.) তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তার বাবা জাবের (রা.)-কে রোগশয্যায় দেখতে গেলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন নারীরা কেঁদে কেঁদে বলছে, আমরা মনে করেছিলাম, তুমি আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর রাস্তায় শহিদ না হলে তোমরা কাউকে শহিদ মনে করো না? এমন হলে তো তোমাদের শহিদের সংখ্যা অতি অল্পই হবে। আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহিদ, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহিদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহিদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহিদ, কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি শহিদ, নিউমোনিয়া জাতীয় কঠিন পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহিদ, যে নারী গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সেও শহিদ... (আবু দাউদ, ৩১১১)।
অন্য আরেকটি হাদিসে বর্ণিত জাবের বিন আতিক (রা.) বলেন , তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবি (সা.) তাকে দেখতে আসেন। জাবের (রা.)-এর পরিবারের কেউ কেউ বলল, আমরা আশা করতাম যে সে আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাহলে আমার উম্মতের শহিদ সংখ্যা তো খুব কম হয়ে যাবে। আল্লাহর পথে নিহত হলে শহিদ, মহামারিতে নিহত হলে শহীদ, যে নারী গর্ভাবস্থায় মারা যায় সে শহিদ এবং পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে ও ক্ষয়রোগে মৃত্যুবরণকারীও শহিদ। (ইবনে মাজাহ, ২৮০৩)
এই হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহতায়ালা কতটা দয়ালু। মানুষের মৃত্যু অবধারিত এবং যখন তার নির্ধারিত সময় আসে, তখন এক মুহূর্ত আগেও বা পরেও তা পরিবর্তন হয় না। কিন্তু যদি কারো মৃত্যু কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা যেমন অগ্নিদগ্ধ হয়ে বা কোনো কঠিন রোগের কারণে হয়, আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে শাহাদাতের মতো অত্যন্ত সম্মানজনক মর্যাদা দান করেন। এই মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় যে সকল মুসলিম শিশু আগুনে পুড়ে শাহাদাত বরণ করেছে, আল্লাহতায়ালা তাদেরকে শহিদি মর্যাদা দান করুন।
আমরা দোয়া করি, মহান আল্লাহতায়ালা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত সকল মুসলিমকে শহিদি মর্যাদা দান করুন, তাদের পরিবার-পরিজনকে ধৈর্যধারণের তাওফিক দিন এবং উত্তম প্রতিদান দিন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক