ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা গাজীপুরে নিষিদ্ধ আ. লীগের বিক্ষোভ মিছিল প্রযুক্তির অপচ্ছায়া সড়কে ‘এআই ক্যামেরা’ ও অভিনব ডিজিটাল ডাকাতি

প্রভিডেন্ট ফান্ডের সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ইসলাম কি বলে?

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫, ১০:০০ এএম
আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৮ এএম
প্রভিডেন্ট ফান্ডের সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ইসলাম কি বলে?
টাকা সঞ্চয়ের ছবি। সংগৃহীত

সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কর্মীদের জন্য সিপিএফ (কন্ট্রিবিউশন প্রভিডেন্ট ফান্ড) নামে পরিচিত। সাধারণত কর্মীদের মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ এই ফান্ডে জমা রাখা হয়, যা কর্মজীবীরই প্রাপ্য। সরকার বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এই টাকা এক প্রকার আমানত হিসেবেই থাকে। তাই একজন কর্মীর মৃত্যুর পর তার এই মূল বেতনের অংশটুকু ত্যাজ্যসম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশ তাদের শরিয়তসম্মত হিস্যা অনুযায়ী এর মালিক হবেন।

তবে জটিলতা দেখা দেয় ফান্ডের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে। উভয় প্রকার ফান্ডেই মূল বেতনের সঙ্গে সুদ হিসেবে কিছু অতিরিক্ত টাকা যোগ হয়। উপরন্তু, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সিপিএফে বেতনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কিছু টাকা কন্ট্রিবিউশন (এককালীন প্রদেয়) হিসেবেও জমা করা হয়। প্রশ্ন হলো, এই সুদ ও কন্ট্রিবিউশনের টাকা ওয়ারিশরা ভোগ করতে পারবেন কি না?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিজীবীদের জিপিএফের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আলেমগণের অভিমত হলো, সরকার সুদের নামে যে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করে, তা প্রকৃত অর্থে শরিয়তসম্মত সুদ নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কার বা অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। তাই এই টাকাও মৃত কর্মীর মালিকানা হিসেবে তার ওয়ারিশরা ভোগ করতে পারবেন এবং তা মিরাসে বণ্টনযোগ্য হবে।

অন্যদিকে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সিপিএফে সুদের নামে যে টাকা জমা হয়, আলেমগণের মতে তা প্রকৃত অর্থেই সুদ। এই টাকা ওয়ারিশরা ভোগ করতে পারবেন না। এই অর্থ সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া সাদাকা করে দিতে হবে। এর কারণ হলো, এই টাকা কর্মীর কর্তিত বেতন ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কন্ট্রিবিউশনকে সুদি কারবারে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা। তবে, কন্ট্রিবিউশন হিসেবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে টাকা জমা করা হয়, তা কর্মীর প্রতি অনুগ্রহ বা উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে এই কন্ট্রিবিউশনের টাকা মূল বেতনের মতোই ভোগ করা যাবে এবং ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে- সরকারি চাকরিজীবীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ): সরকারের বর্তমান নীতিমালা বহাল থাকা পর্যন্ত ফান্ডে জমাকৃত মূল বেতন এবং সুদের নামে প্রাপ্ত অতিরিক্ত পুরো টাকাই মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ওয়ারিশদের মাঝে তাদের হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন হবে। (উল্লেখ্য, সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডের ঐচ্ছিক অংশের সুদের ব্যাপারে আলেমগণের মাঝে মতভিন্নতা রয়েছে; কেউ কেউ এটিকে প্রকৃত সুদ মনে করেন এবং সাদাকা করার কথা বলেন।)

বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড (সিপিএফ): এখানে কর্মীদের জমাকৃত মূল টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কন্ট্রিবিউশন ওয়ারিশদের মাঝে নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন হবে। তবে সুদের নামে যে টাকা জমা হয়, তা সাওয়াবের নিয়ত ছাড়া সাদাকা করে দিতে হবে। ওয়ারিশরা এই অংশ ভোগ করতে পারবেন না।

মিরাসের এই বিধানগুলো জানা থাকলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করা সহজ হবে এবং ওয়ারিশরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়।
বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে!
ছবি: সংগৃহীত

খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামল। ইয়েমেন থেকে প্রতিবার হজযাত্রী বা সাহায্যকারী দল মদিনায় এলে উমর (রা.) ভিড়ের ভেতর একজন মানুষকে খুঁজতেন। নাম তার উওয়াইস আল-কারনি। অপরিচিত, গরিব, সাধারণ এক রাখাল। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জীবনে একবারও দেখতে পাননি–কারণ ইয়েমেনে তার এক অসুস্থ বৃদ্ধা মা ছিলেন, যাকে ছেড়ে তিনি হিজরত করতে পারেননি। মায়ের সেবাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইবাদত।

অথচ এই অপরিচিত মানুষটি সম্পর্কেই রাসুলুল্লাহ (সা.) আগেই বলে গিয়েছিলেন–ইয়েমেন থেকে উওয়াইস নামে এক ব্যক্তি আসবে, যে তার মায়ের প্রতি অত্যন্ত অনুগত; সে যদি আল্লাহর নামে কসম করে, আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করে দেন। নবিজি (সা.) বলেছিলেন, সম্ভব হলে তার কাছে নিজেদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া চেয়ে নিও। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলিম জাহানের খলিফা উমর (রা.) নিজে এই অখ্যাত যুবকের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, আমার জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চেয়ো। (মুসলিম, ২৫৪২)

মানুষের জীবনে মায়ের অবদান অপরিসীম, অপরিশোধ্য। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। (নির্দেশ এই যে) তুমি আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা লুকমান, ১৪)
লক্ষ করুন, আল্লাহ এখানে নিজের শুকরিয়ার পাশেই মা-বাবার শুকরিয়াকে যুক্ত করেছেন এবং মা সন্তানকে কষ্ট সয়ে গর্ভে ধারণ করেছে, কষ্ট সয়েই জন্ম দিয়েছে। এই কষ্টের কারণেই মায়ের অধিকার বাবার চেয়েও বহুগুণ বেশি।

একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার উত্তম সঙ্গ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ লোকটি বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ আবার জিজ্ঞেস করলে আবারও বললেন, ‘তোমার মা।’ চতুর্থবার বললেন, ‘এরপর তোমার বাবা।’ (বুখারি, ৫৯৭১; মুসলিম, ২৫৪৮)। তিনবার ‘মা’ আর একবার ‘বাবা’–এ যেন স্রষ্টার নির্ধারিত মর্যাদার নিক্তি।

মাকে অবহেলা করার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। যে সন্তান এই নিয়ামতকে অবহেলা করে, তার পরিণতি ভয়াবহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার বললেন, ‘তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক! তার নাক ধুলায় মলিন হোক!’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে সে, হে আল্লাহর রাসুল?’ তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা অথবা তাদের একজনকে বার্ধক্যে পেল, অথচ (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ (মুসলিম, ২৫৫১)

বৃদ্ধ মা যখন সবচেয়ে অসহায়, ঠিক তখনই যদি সন্তান মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে খোলা জান্নাতের দরজাও তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিরকের পরই সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহের মধ্যে গণ্য করেছেন (বুখারি)। আর সবচেয়ে ভীতিকর বার্তা এই যে, এর শাস্তি কেবল আখিরাতে নয়–দুনিয়াতেই নেমে আসে। 
আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সব গুনাহের শাস্তি আল্লাহ যতটা ইচ্ছা কিয়ামত পর্যন্ত পিছিয়ে দেন, কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি তিনি বান্দার জন্য মৃত্যুর আগে, এ দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করে দেন।’ (মুস্তাদরাকে হাকিম, ৪/১৫৬)

লেখিকা: আলেমা ও গৃহিণী

 

২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২১ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২১ জুন ২০২৬, রবিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

এশা

৮.০৮ মিনিট

 

ফজর (২২ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আকাশ এখন আগুনঝরা। বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বইছে তাপপ্রবাহ; কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। রাস্তায় বের হওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে আছেন। এমন সময়ে একজন মুমিনের কর্তব্য কেবল গরমে হাঁসফাঁস করা নয়; বরং ঈমান, সবর ও সতর্কতা মিলিয়ে নিরাপদভাবে জীবনযাপনের চেষ্টা করা উচিত।

ইসলাম তাপকে নিছক প্রাকৃতিক বিড়ম্বনা হিসেবে দেখে না, দেখে এক গভীর স্মারক হিসেবে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘বলো, জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও কঠিন উত্তপ্ত, যদি তারা বুঝত!’ (সুরা তাওবা, ৮১)। দুনিয়ার সামান্য রোদের এই অসহনীয় তাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; আখিরাতের কঠিন উত্তাপের কথা। তাই গরম যেন আমাদের গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং বেশি বেশি ইস্তিগফারের তাগিদ দেয়।

আবার পানির অপরিহার্যতা স্মরণ করিয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘আমি পানি থেকেই প্রতিটি জীবন্ত বস্তু সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, ৩০)। গরমে শরীরের পানিশূন্যতাই সবচেয়ে বড় বিপদ, তাই পানির এই নিয়ামতের কদর করা ঈমানি দায়িত্ব। পানাহারে আল্লাহর নির্দেশ হলো সংযম, তিনি এরশাদ করেছেন, ‘খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ, ৩১)।

তীব্র গরমে নামাজ নিয়েও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন স্বস্তির নির্দেশনা। তিনি বলেছেন, ‘গরম যখন প্রচণ্ড হয়, তখন (জোহরের) নামাজ ঠাণ্ডার সময়ে আদায় করো; কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের নিশ্বাস থেকে।’ (বুখারি, ৫৩৩-৫৩৪; মুসলিম, ৬১৫)। অর্থাৎ দুপুরের তীব্র রোদে কষ্ট করে নয়, একটু দেরিতে; যখন তাপ কমে আসে, তখন জোহর পড়ার অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এ যেন গরমকালে মুসল্লির জন্য রহমতস্বরূপ ব্যবস্থা।


তাপপ্রবাহে নিরাপদ থাকতে সুন্নাহ ও বিজ্ঞান মিলিয়ে পরামর্শগুলো মেনে চলা যায়–

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি বা খাবার-স্যালাইন পান করুন। অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়, তাই স্যালাইন বিশেষ উপকারী। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পানীয় ছিল মিষ্টি ও ঠাণ্ডা পানীয় (তিরমিজি, ১৮৯৫)।

তীব্র গরমে ডাবের পানি, লেবু-পানি বা ঠাণ্ডা পানি যে শরীর ও মনকে স্বস্তি দেয়, নবিজি (সা.)-এর এই পছন্দে তারই ইঙ্গিত আছে। আর পানি পানের পদ্ধতিও তিনি শিখিয়েছেন–এক নিশ্বাসে ঢকঢক করে নয়, বরং কয়েক নিশ্বাসে ধীরে ধীরে পান করতেন (মুসলিম, ২০২৮)। গরমে হঠাৎ অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি একসঙ্গে গলায় ঢালার চেয়ে এ পদ্ধতি অনেক বেশি নিরাপদ।

দ্বিতীয়ত, রোদ এড়িয়ে চলুন। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩-৪টা পর্যন্ত সূর্য সবচেয়ে প্রখর থাকে। এ সময় খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো; বের হলে ছাতা, টুপি বা ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘক্ষণ এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন, যাতে শরীরের একাংশ রোদে আর একাংশ ছায়ায় থাকে; তিনি একে শয়তানের বসার স্থান বলেছেন (আবু দাউদ, ৪৭৮৮)। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এর একটি হিকমত হলো রোদের তাপে কষ্ট পাওয়া এড়ানো। অর্থাৎ দুপুরের প্রখর রোদকে নবিজি (সা.) নিজেই এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।

তৃতীয়ত, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। ইসলাম পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে আরামদায়ক পোশাকের অনুমতি দেয়। সুতির, হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় তাপ শোষণ কম করে এবং বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। আনাস ও উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল ‘কামিস’ (লম্বা, ঢিলেঢালা জামা) (আবু দাউদ, ৪০২৫; তিরমিজি, ১৭৬২) 
উষ্ণ আবহাওয়ায় তার পরিধেয় ছিল মূলত ঢিলেঢালা ও আবৃত পোশাক, যা শরীরকে রোদ থেকে রক্ষা করত আর বাতাস চলাচলেও বাধা দিত না। 

চতুর্থত, হালকা খাবার খান। ভারী, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও বেশি ভাজাপোড়া খাবার গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায়। মৌসুমি ফল, শসা, লেবু-পানি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে।
মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম-সন্তান পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমাই তার জন্য যথেষ্ট। তবু যদি বেশি খেতেই হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ নিশ্বাসের জন্য রাখুক।’ (তিরমিজি, ২৩৮০; ইবনে মাজাহ, ৩৩৪৯) । ভারী ও অতিরিক্ত খাবার গরমে হজমে চাপ ফেলে শরীরকে আরও ক্লান্ত করে–এই পরিমিতির সুন্নাহই তখন সবচেয়ে উপকারী।

পঞ্চমত, হিটস্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন। মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমিভাব বা অজ্ঞান হওয়া–এসব দেখা দিলে দ্রুত ছায়াযুক্ত শীতল স্থানে নিয়ে শরীরে পানি দিন এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, তাই তা পানি দিয়ে ঠাণ্ডা করো।’ (বুখারি, ৩২৬৩; সহিহ মুসলিম, ২২০৯) শরীর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে গেলে পানি দিয়ে শীতল করার এই নির্দেশনা সরাসরি হিটস্ট্রোক মোকাবিলার সঙ্গে মিলে যায়–আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অজ্ঞানভাব দেখা দিলে দ্রুত শরীর ঠাণ্ডা করার পরামর্শ দেয়।

তীব্র গরমে শুধু নিজে বাঁচলেই হবে না, অন্যকে বাঁচানোও ঈমানের দাবি। সাহাবি সাদ ইবনু উবাদা (রা.) যখন তার প্রয়াত মায়ের পক্ষ থেকে সদকা করতে চাইলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন কোন সদকা সর্বোত্তম। তিনি উত্তর দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৬৮৪; আবু দাউদ, ১৬৭৯) 
এরপর সাদ (রা.) মদিনায় একটি কূপ খনন করে দিয়েছিলেন। আজকের প্রেক্ষাপটে রাস্তার পাশে তৃষ্ণার্ত পথিক, রিকশাচালক বা শ্রমিকদের জন্য একটু ঠাণ্ডা পানি বা স্যালাইনের ব্যবস্থা করা–এ এক মহৎ সদকা।

এমনকি অবলা প্রাণীর তৃষ্ণা মেটানোও আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। নবিজি (সা.) সেই ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে তৃষ্ণার্ত এক কুকুরকে কূপ থেকে পানি তুলে পান করিয়েছিল, আর তাতেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবন্ত প্রাণের সেবায় সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি, ২৩৬৩; মুসলিম, ২২৪৪)। তাই বাড়ির ছাদে বা উঠানে পাখি ও প্রাণীর জন্য এক পাত্র পানি রেখে দেওয়াও এক নীরব ইবাদত। এই তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য দ্বিমুখী পরীক্ষা–সবরের পরীক্ষা এবং প্রজ্ঞার পরীক্ষা। গরমকে গালি না দিয়ে বরং একে আখিরাতের স্মারক হিসেবে নিয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করি, সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের নির্দেশনা মেনে নিজেকে নিরাপদ রাখি, আর তৃষ্ণার্ত মানুষ ও প্রাণীর পাশে দাঁড়াই। 

লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ

ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে?

একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগে এসে আমাদের লাইফস্টাইল ও বিনোদনের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। কনসার্ট, পার্টি, ওয়েস্টার্ন ফ্যাশন আর নাইটলাইফ আজ আমাদের কাছে আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে মানবতার মুক্তির দূত রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সময়ের নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যা আজকের সমাজের চিত্রকে হুবহু ফুটিয়ে তোলে। বুখারি শরিফের ৫৫৯০ নম্বর বর্ণনায় তিনি বলেন, অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু দল আসবে যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মাদক এবং গান-বাজনার বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য হালাল বা বৈধ মনে করবে।

বর্তমান সময়ে বাদ্যযন্ত্রের কোলাহল আর গান ছাড়া আমাদের যেকোনো উৎসব যেন জমেই না। অথচ সাহাবিদের জীবনে আত্মিক পবিত্রতা রক্ষার তাগিদ ছিল। হাদিসে এসেছে, একবার চলার পথে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনতে পেয়ে হযরত ইবনু উমর (রা.) তার দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে যান এবং নাফে-কে জিজ্ঞেস করেন কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে কি না। নাফে না বললে তিনি আঙুল বের করে বলেন, একদা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে থাকা অবস্থায় এমন শব্দ শুনে রাসুল (সা.) ঠিক একইভাবে কানে আঙুল দিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছিলেন। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়, গান-বাজনার কলুষতা থেকে কানকে বাঁচিয়ে রাখা কতটা জরুরি।

আজকের দিনে সমাজের একশ্রেণির বিত্তশালী মানুষ বিলাসবহুল পার্টি আর উইকএন্ড নাইটে মেতে ওঠেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) সতর্ক করেছেন, উম্মতের কিছু দল রাতে আমোদ-প্রমোদ ও ভোগবিলাসে মত্ত থাকবে, আর সকালে তাদের আকৃতি শূকর ও বানরে রূপান্তরিত হবে (সিলসিলায়ে সহিহাহ, ১৬০৪)। এর মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য হলো,তাদের চাল-চলন, পোশাক ও সংস্কৃতি হবে বিজাতিদের মতো; হালাল-হারামের কোনো তোয়াক্কা থাকবে না। তাদের ঘরে কুকুর ও মূর্তির ছড়াছড়ি থাকবে এবং ব্যভিচার হয়ে পড়বে এক সাধারণ বিষয়।

বর্তমান সমাজে মদের আধুনিক সব নাম দিয়ে তাকে আভিজাত্যের অনুষঙ্গ বানানো হচ্ছে। হযরত আবু মালিক আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আমার কিছু উম্মত মদ পান করবে এবং তার নাম রাখবে ভিন্ন। আর সমাজ বা রাষ্ট্রের একশ্রেণির নেতাকে গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র দিয়ে বরণ ও সম্মান করা হবে। এই চরম নৈতিক স্খলনের কারণে আল্লাহতায়ালা তাদের ভূমিকম্পের মাধ্যমে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং তাদের স্বভাব-চরিত্রকে বানর ও শূকরে পরিণত করবেন (ইবনে মাজাহ, ৪০২০)।

আধুনিকতা ও অন্ধ অনুকরণের জোয়ারে আমরা যেন আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। সাময়িক আনন্দ আর অপসংস্কৃতির এই কর্দমাক্ত পথ পরিহার করে নৈতিক ও পবিত্র জীবন গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক