নারী এবং পুরুষের শারীরিক গঠন ও শক্তি-সামর্থ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ বিধান। এই পার্থক্য নিয়ে প্রখ্যাত দার্শনিক ড. দুফার্নি তার এনসাইক্লোপিডিয়ায় লিখেছেন যে, স্বাভাবিক শক্তি-সামর্থ্যের তিন ভাগের দুই ভাগ পুরুষের এবং এক ভাগ নারীর। এর ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, অঙ্গসঞ্চালন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরা কিছুটা দুর্বল।
তবে, এই দুর্বলতাকে কোনোভাবেই নারীর সামগ্রিক যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি নারীদের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে, যা তাদের অসাধারণ করে তোলে। তারা জন্মগতভাবেই পরিশ্রমী, কষ্টসহিষ্ণু এবং অল্পে তুষ্ট। সংসার ও সন্তান প্রতিপালনে তাদের নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ অতুলনীয়। প্রখ্যাত দার্শনিক লুমব্রুজের মতে, গর্ভাবস্থা এবং সন্তান প্রসবের মতো চরম কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা থেকেই বোঝা যায়, নারীরা কতটা ধৈর্যশীল ও কষ্টসহিষ্ণু। এই অসাধারণ ধৈর্য ও মানসিক শক্তি তাদের প্রকৃতির এক অমূল্য উপহার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম বিপদের মুহূর্তে যখন শক্তিশালী পুরুষও দিশাহারা হয়ে পড়ে, তখন নারীর আসল শক্তি প্রকাশ পায়। ঘর-সংসার সামলানো, সন্তানকে আগলে রাখা এবং স্বামীকে সাহস জোগানো— এ সবকিছু তারা একাই সামলে নেয়। এ পরিস্থিতিতে তাদের ধৈর্য, স্থৈর্য এবং কষ্টসহিষ্ণুতা পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়।
নারীর এই সংবেদনশীল এবং আবেগপ্রবণ স্বভাবকে অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়। তাদের সামান্য কারণে মান-অভিমান, হাসা, আনন্দিত হওয়া বা ক্ষুব্ধ হওয়া এগুলো তাদের প্রকৃতিরই অংশ। তাই পুরুষের উচিত, তাদের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ করা। তাদের প্রতি কোনো ধরনের জুলুম বা নির্যাতন করা ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, কষ্ট দেওয়ার জন্য তাদের আটকে রেখো না। যে এমনটা করল সে নিজের ওপর জুলুম করল। আল্লাহর বিধানের সঙ্গে তোমরা মশকরা করো না। (সুরা বাকারা, ২৩১) এই আয়াতটি তালাক প্রসঙ্গে নাজিল হলেও, এর অর্থ ব্যাপক। এটি সব ধরনের জুলুম-নির্যাতন থেকে নারীকে রক্ষা করার বার্তা দেয়।
একইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন স্ত্রীকে দাস-দাসির মতো প্রহার না করে, পরে দিনের শেষে আবার তার সঙ্গে উপগত হবে। (বুখারি) এই হাদিসটি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসলাম নারীর প্রতি সম্মান এবং ভালোবাসা প্রদর্শনের ওপর কতটা গুরুত্ব আরোপ করে। নারীর প্রতি জুলুম বা অসম্মানজনক আচরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দয়ালু হওয়া প্রতিটি পুরুষের কর্তব্য। শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাদের খাটো করে দেখা নয়, বরং তাদের ধৈর্য, ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের মতো গুণগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোই আমাদের সবার দায়িত্ব।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক