ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান হাতিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওসি প্রত্যাহার জয় দিয়ে শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্থায় প্রত্যাহার খুলশী থানার ওসি আরিফুল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের ২৫ মে থেকে বছরব্যাপী 'নজরুল বর্ষ' পালনের ঘোষণা কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সোহেল-স্বপ্নার আপিল আজ ইন্টারন্যাশনাল বাথ ডে রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়েকে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ব্রাজিল-মরোক্কো ম্যাচের সেরা ৭ ছবি চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.) নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র!
Nagad desktop

নবিজি (সা.) এর চোখে সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম
নবিজি (সা.) এর চোখে সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ
অবৈধভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও স্বাভাবিকতা বজায় রাখা ইসলামি শরিয়তের একটি মৌলিক নীতি। মজুতদারির মতো আরেকটি অর্থনৈতিক অপকর্ম রয়েছে, যা কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে— তা হলো মধ্যস্বত্বভোগ বা দালালি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই প্রথাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতা নিশ্চিত করা।

শহরে দালালির প্রচলিত চিত্র
সাধারণত এই নিষেধাজ্ঞাটি শহরে ব্যক্তি যেন গ্রাম্য লোকের পণ্য নিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করে না দেয়— এই বাক্যে বর্ণিত হয়েছে। এই লেনদেনের চিত্রটি ছিল অত্যন্ত সরল, কিন্তু এর প্রভাব ছিল মারাত্মক। যেমন- একজন গ্রাম্য কৃষক বা বিক্রেতা তার পণ্য (যেমন শস্য বা ফল) নিয়ে শহরের বাজারে আসে, উদ্দেশ্য বাজারের স্বাভাবিক দামে তা বিক্রি করা। কিন্তু পথিমধ্যে শহরের এক মধ্যস্বত্বভোগী (দালাল) তার সঙ্গে দেখা করে এবং প্রস্তাব দেয়: তোমার পণ্য আমার কাছে দাও, আমি কিছুক্ষণ পর আরও বেশি দামে এগুলো বেচে দেব।

যদি গ্রাম্য লোকটি নিজে বিক্রি করত, তবে পণ্যটি বাজারে তার স্বাভাবিক দামে বিক্রি হতো এবং শহরবাসীরা সাশ্রয়ী দামে তা কিনতে পারত। কিন্তু দালাল প্রবেশ করার কারণে, গ্রাম্য বিক্রেতা স্বল্পশ্রমে বেশি দাম পাচ্ছে ঠিকই, তবে পণ্যটির চূড়ান্ত মূল্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে সামষ্টিক কল্যাণ বড়
নবিজি (সা.) এই দালালিকে এতটাই অপছন্দ করেছেন যে, তা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বেও স্থান পায়নি। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে, শহুরে ব্যক্তি যেন গ্রাম্য লোকের পক্ষ হয়ে (অধিক লাভে তার পণ্য) বিক্রি না করে; যদিও সে (গ্রাম্য ব্যক্তি) তার ভাই বা পিতা হোক। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) এই হাদিস দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মুনাফার চেয়ে সমাজের সামষ্টিক কল্যাণ এবং জনগণের সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য প্রাপ্তির অধিকার ইসলামের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর পক্ষে দালালি করে বাজার অস্থিতিশীল করা শরিয়তে বৈধ নয়।

প্রাকৃতিক জোগান-চাহিদার ওপর ছেড়ে দাও
দালালির নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবসার ময়দানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শহরে কোনো ব্যক্তি যেন গ্রাম্য লোকের পক্ষ হয়ে পণ্য বিক্রি না করে। তোমরা লোকদেরকে (আপন অবস্থায়) ছেড়ে দাও; মহান আল্লাহ তাদের এক দলকে অপর দলের মাধ্যমে রিজিক দান করবেন। (সহিহ মুসলিম)


নবিজি (সা.)-এর এই কালজয়ী উক্তিটিই ইসলামি অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করেছে। এর অর্থ হলো:

১. কৃত্রিম হস্তক্ষেপের নিষেধাজ্ঞা: বাজার, দ্রব্যমূল্য এবং পণ্যের আদান-প্রদানকে স্বাভাবিক চক্র ও প্রাকৃতিক জোগান-চাহিদার ওপর ছেড়ে দিতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের কৃত্রিম হস্তক্ষেপ, নিয়ন্ত্রণ বা দালালি থাকতে পারবে না।

২. রিজিকের নিশ্চয়তা: দালালকে না পেলেও গ্রাম্য বিক্রেতা তার প্রাপ্য রিজিক বাজারে পেয়ে যাবেন। আর ক্রেতারাও ন্যায্য দামে পণ্যটি পাবে। আল্লাহ একদলকে আরেক দলের মাধ্যমে রিজিক দেবেন— এটিই বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম।
তাউস (র.) যখন ইবনু আব্বাস (রা.)-কে এই হাদিসের অর্থ জিজ্ঞেস করলেন, তখন ইবনু আব্বাস (রা.) সংক্ষিপ্ত ও সুস্পষ্ট জবাব দেন, সে যেন তার পক্ষে দালাল না হয়।

নাসিহাহ (সদুপদেশ) এবং দালালির পার্থক্য
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বোঝা জরুরি। শহুরে দালালির মাধ্যমে উচ্চ মুনাফা অর্জন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু শহুরে কোনো ব্যক্তি যদি দালালদের মতো পারিশ্রমিক গ্রহণ করা ব্যতিরেকেই গ্রাম্য বিক্রেতাকে বাজারের সঠিক হালচাল বা ন্যায্য মূল্য জানিয়ে দেয়— তবে তা বৈধ, বরং প্রশংসনীয়।
কারণ, এটি হচ্ছে নাসিহাহ বা সদুপদেশ ও কল্যাণ কামনা, যা দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নবিজি (সা.) বলেছেন, দ্বীন হলো সদুপদেশ ও কল্যাণ কামনা। (সহিহ মুসলিম: ৫৫)


তাই দালালির মাধ্যমে অবৈধভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো ব্যবসায়ীকে সঠিক মূল্য জানিয়ে সহযোগিতা করা এবং তাকে ঠকে যাওয়া থেকে বাঁচানো— ইসলামে তেমনই বরকতপূর্ণ কাজ। ইসলামি অর্থনীতিতে, সদুপদেশ দিয়ে সহায়তা করা বৈধ, কিন্তু মুনাফার লোভে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা বা মধ্যস্বত্বভোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি ঘটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.)
ছবি: সংগৃহীত

সত্যের সন্ধানে পারস্য থেকে মদিনায় আসা এক ক্রীতদাস। কোন তিনটি অলৌকিক চিহ্ন দেখে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে ইনিই শেষ নবি? হজরত সালমান ফারসি (রা.) ছিলেন একজন সত্যসন্ধানী সাহাবি। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের জ্ঞান থেকে তিনি জানতেন, শেষ নবির তিনটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকবে–তিনি সদকা (দান) খাবেন না, হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে ‘মোহরে নবুওয়াত’ বা নবি হওয়ার বিশেষ সিলমোহর থাকবে।

মদিনায় হিজরতের পর সালমান (রা.) কাঁচা খেজুরের একটি পাত্র নিয়ে নবিজি (সা.)-এর সামনে এসে বললেন, ‘এগুলো সদকা।’ রাসুল (সা.) সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা খাও, আমরা সদকা খাই না।’ সালমান (রা.) মনে মনে বললেন, ‘এটি প্রথম নিদর্শন।’ পরের দিন তিনি আবার খেজুর এনে বললেন, ‘এটি আপনার জন্য হাদিয়া।’ তখন রাসুল (সা.) নিজে খেলেন এবং সাহাবিদেরও খেতে বললেন। সালমান (রা.) ভাবলেন, ‘এটি দ্বিতীয় নিদর্শন।’

এরপর সালমান (রা.) নবিজি (সা.)-এর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁর পিঠের মোহরটি দেখার জন্য। রাসুল (সা.) তাঁর মনের ইচ্ছা বুঝতে পেরে পিঠের চাদরটি সামান্য সরিয়ে দিলেন। সালমান (রা.) সেখানে নবুওয়াতের অলৌকিক চিহ্নটি দেখতেই কেঁদে ফেললেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। (মুসনাদে আহমাদ, ২৩৪৭; মুসনাদুল বাজজার, ৪৪০৭)

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-কে যখন এই মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন, ‘তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের ওপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।’ (জামেউস সগির, ৮৯৩৯; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৯৩)
অন্য এক বর্ণনায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রা.) বলেন, নবিজি যখন তাঁর চাদর সরিয়েছিলেন, তখন তিনি দুই কাঁধের মাঝে সেই মোহরটি দেখেন। তাঁর ভাষায় ‘তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙুলীর মতো (উঁচু) এবং এর চারপার্শ্বে আঁচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল।’ (সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, ১১৪৩২)

সালমান (রা.) এক ইহুদির দাস ছিলেন। তাঁর মুক্তির শর্ত ছিল একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ এবং মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান তৈরি করা, যেখানে ফল না আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। রাসুল (সা.) নিজ হাতে সেই বাগানের চারা রোপণ করলেন। কেবল একটি চারা হজরত ওমর (রা.) রোপণ করেছিলেন। অলৌকিকভাবে সে বছরই সব গাছে খেজুর এল, শুধু ওমরের (রা.) রোপণ করা গাছটি ছাড়া।

 নবিজি (সা.) কারণ জানতে পেরে সেই চারাটি উপড়ে আবার নিজ হাতে রোপণ করলেন এবং অলৌকিকভাবে সে বছরই তাতে ফল চলে এল। এভাবেই সালমান (রা.) দাসত্ব থেকে মুক্তি পান। নবিজি (সা.)-এর এই অবয়ব ও অলৌকিকতা কেবল সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং তা ছিল সত্যের এক জীবন্ত দলিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৪ জুন ২০২৬, রবিবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৫ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ঘটনা যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায়
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা ইসলামের অন্যতম মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা—ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের সুনির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে। কিন্তু মানুষ যখন চরম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে এই ঐশী বিধানকে অমান্য করে, তখনই নেমে আসে বিপর্যয়। সুরা আল-কালামে বর্ণিত ‘বাগানওয়ালাদের’ ঐতিহাসিক ঘটনাটি তেমনই এক চিরন্তন শিক্ষার স্মারক।

ইয়েমেনের সানা নগরীর কাছে এক আল্লাহভীরু ব্যক্তির একটি বিশাল ফলের বাগান ছিল। তিনি নিয়মিত বাগানের আয়ের একটি বড় অংশ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেরা সেই বাগানের মালিক হয়। কিন্তু পিতার উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছেলেদের স্পর্শ করেনি। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তারা চরম কৃপণ ও অদহংকারী হয়ে ওঠে।

একদিন ভাইয়েরা মিলে এক গোপন বৈঠক করল। লোভের বশবর্তী হয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিল—পিতার মতো তারা আর গরিবদের একটি কণাও দেবে না। এক ভাই বাধা দিতে চাইলেও বাকিরা তা শুনল না। তারা পরিকল্পনা করল, ভোরের আলো ফোটার আগেই বাগানের সব ফসল কেটে ঘরে তুলে ফেলবে, যাতে কোনো অভাবী মানুষ টের পেয়ে কিছু চেয়ে না বসে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষরাতে তারা বাগানের দিকে রওনা হলো। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তারা স্তম্ভিত হয়ে গেল! তাদের অবাধ্যতা ও কৃপণতার শাস্তিস্বরূপ রাতের অন্ধকারে আল্লাহর নির্দেশে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে গেছে। পুরো বাগানটি আগুনে পুড়ে কালো ছাই হয়ে পড়ে আছে। যে সম্পদ নিয়ে তারা অহংকার করেছিল, নিমেষেই তা ধ্বংস হয়ে গেল।

সর্বস্ব হারিয়ে ভাইদের ভুল ভাঙল। তারা বুঝতে পারল, সম্পদ একা ভোগ করার জিনিস নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার। তারা নিজেদের অন্যায়ের জন্য আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তওবা করল। আল্লাহ অত্যন্ত দয়াময়; তিনি তাদের ক্ষমা করলেন এবং পরবর্তী সময়ে বাগানটিকে আবার সুমিষ্ট ফলে ভরিয়ে দিলেন।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত পেয়ে যারা অহংকার করে এবং গরিবের হক নষ্ট করে, তাদের পতন অনিবার্য। অসহায়দের ভালোবাসা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দরিদ্র মুমিনরা ধনীদের চেয়ে পাঁচ শ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই সম্পদ জমিয়ে রাখা নয়, বরং তা বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রকৃত বরকত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি?

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি?
ছবি: সংগৃহীত

রক্তের নদী, জ্বলন্ত তন্দুর আর সোনা-রুপার শহর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চোখে দেখা পরকালের সেই শিহরিত করা দৃশ্যপট আজ আমাদের কী বার্তা দিচ্ছে? রাসুল (সা.) প্রায়ই সাহাবিদের জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছ কি? কিন্তু এক সকালে তিনি নিজেই শোনালেন এক অভূতপূর্ব সফরের কথা। জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.)-এর সঙ্গে রাতের আঁধারে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন এক ভিন্ন জগতে, যেখানে উন্মোচিত হয়েছিল মানুষের ইহকালীন পাপ ও পুণ্যের পরকালীন প্রতিচ্ছবি।

সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত গভীর সেই সফরের দৃশ্যগুলো আমাদের চেনা পৃথিবীর চেনা অপরাধেরই এক ভয়ঙ্কর রূপক:
আল্লাহর রাসুল (সা.) দেখলেন, এক ব্যক্তি কাত হয়ে শুয়ে আছে আর ভারী পাথর দিয়ে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হচ্ছে। অপরাধ? সে কোরআন শিখেও তা আমল করেনি এবং ফরজ নামাজ ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকত।

অপর এক ব্যক্তির চোয়াল, নাক ও চোখ লোহার আঁকড়া দিয়ে টেনে মাথার পেছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছিল। আধুনিক যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মুহূর্তের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, এই শাস্তি ছিল ঠিক সেই মিথ্যুকদের জন্য, যাদের মিথ্যা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ত।
একটি সংকীর্ণ মুখের জ্বলন্ত তন্দুর চুলার ভেতর উলঙ্গ নারী-পুরুষের আর্তনাদ দেখালেন ফেরেশতাদ্বয়। তারা হলো দুনিয়ার ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর দল।

রক্তের নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা এক ব্যক্তির মুখে তীরের লোক ক্রমাগত পাথর ছুড়ে মারছিল। সে ছিল দুনিয়ার সুদখোর।
এই ভয়ঙ্কর শাস্তির খণ্ডচিত্র পার হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) পৌঁছালেন এক শান্তিময় সবুজ বাগানে। সেখানে দীর্ঘকায় নবি ইব্রাহিম (আ.)-এর চারপাশে খেলা করছিল নিষ্পাপ শিশুরা, যাদের মধ্যে মুশরিকদের সন্তানরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সফরের শেষ প্রান্তে সোনা ও রুপার ইটের তৈরি এক অপরূপ শহরে অর্ধেক সুন্দর আর অর্ধেক কুৎসিত দেহের কিছু মানুষকে ধপধপে সাদা নদীতে ডুব দিয়ে পূর্ণ সুন্দর হতে দেখা গেল–যারা দুনিয়ায় ভালো-মন্দ আমল মিশ্রিত করেছিল এবং আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য নির্ধারিত জান্নাতি প্রাসাদটি দেখিয়ে বললেন, দুনিয়ার অবশিষ্ট আয়ু পূর্ণ হলেই আপনি এখানে প্রবেশ করবেন।
এই হাদিস আমাদের শেখায়, পরকালের শাস্তি কোনো রূপকথা নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন কর্মেরই অবিকল প্রতিফলন। আমাদের একটি ক্লিক বা অসচেতন ঘুমও পরকালের চিরস্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক  

যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
যে অঙ্গের কারণে মানুষ জান্নাত অথবা জাহান্নামে যাবে
ছবি: খবরের কাগজ

মানুষের শরীরের মাত্র দুটি ছোট অঙ্গ কীভাবে তার অনন্তকালের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে? আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, মানুষের মুখ ও লজ্জাস্থানই তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ শিখরে ওড়াতে পারে, আবার নিক্ষেপ করতে পারে জাহান্নামের অতল গহ্বরে। বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, সাইবার বুলিং ও সামাজিক অশান্তির মূল উৎসগুলোর দিকে তাকালে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ১৪শ বছর আগের সতর্কবার্তা আমাদের এক নতুন ভাবনার খোরাক দেয়।

কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে, আর কোন জিনিসই বা টেনে নিয়ে যাবে জাহান্নামে? সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক অনন্য হাদিসে এর জবাব দিয়েছেন বিশ্বনবি। তিনি বলেন, মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে, আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র। আর মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে, মুখ ও লজ্জাস্থান (মিশকাত, হা/৪৬২১)।

জিহ্বা দিয়ে মানুষ যেমন সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা ছড়াতে পারে, তেমনি লজ্জাস্থানের অপব্যবহার সমাজে অশ্লীলতা ও লাঞ্ছনার জন্ম দেয়।
মুক্তির এক অভিনব ও সহজ চুক্তি রয়েছে ইসলামে। সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু (জিহ্বা) এবং তার দু’পায়ের মধ্যস্থিত বস্তুর (লজ্জাস্থান) জিম্মাদার হবে (হেফাজত করবে), তবে আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব (বুখারি, মিশকাত হা/৪৬০১)।

আজকের যুগে মানুষের সামনে এক রূপ আর পেছনে অন্য রূপ ধারণ করা এক মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে ‘দ্বিমুখী’ মানুষ, যে একেক দলের কাছে একেক রূপ নিয়ে হাজির হয় (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২২)। গিবত, তোহমত ও চোগলখুরির মতো কবীরা গুনাহ মানুষকে অজান্তেই ধ্বংসের মুখোমুখি করে। এ কারণেই হুঁশিয়ারি এসেছে, চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত হা/৪৬১২)।

আমরা প্রতিদিন বহু কথা হেলায়-ফেলায় বলে যাই। অথচ আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিস অনুযায়ী, মানুষ কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির এমন কথা বলে যার গুরুত্ব সে নিজেও জানে না, কিন্তু আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। পক্ষান্তরে, মানুষ অসতর্কভাবে আল্লাহর অসন্তুষ্টির এমন কথা বলে ফেলে, যা তাকে জাহান্নামের এত গভীরে নিক্ষেপ করে, যার পরিধি পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের সমান (বুখারি, মিশকাত হা/৪৮১৩)।
মুখের লাগাম টেনে ধরা এবং নিজের চরিত্রকে কলঙ্কমুক্ত রাখাই হলো সফলতার মূল চাবিকাঠি। ক্ষণিকের অসতর্কতা যেন আমাদের চিরস্থায়ী আফসোসের কারণ না হয়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক