একজন মুসলিম হতে হলে-‘এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’ অর্থাৎ, অন্তরে বিশ্বাস করার পাশাপাশি মুখে উচ্চারণ ও স্বীকার করা। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ উপাসনার উপযুক্ত নয়। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদাত বাতিল ও শিরক। যদিও তাদেরকেও উপাস্য বলা হয়। তবে তারা হলো বাতিল উপাস্য। আসল ও সত্য উপাস্য একমাত্র আল্লাহতায়ালাই। আল্লাহতায়ালা বলেন, এই জন্যও যে, আল্লাহ, তিনিই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা তো অসত্য এবং আল্লাহ, তিনিই তো সমুচ্চ, মহান। (সুরা হজ, ৬২)
সুতরাং অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে বাস্তবায়ন- তিনটাই জরুরি। আর ইবাদাতের উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহতায়ালাই- এতটুকু বিশ্বাসই যথেষ্ট নয়। বরং এর পাশাপাশি এ-ও বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহতায়ালা ছাড়া অন্য কেউ ইবাদাতের উপযুক্ত নয়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত সম্পূর্ণ বাতিল। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা’-এর দাবিও এটাই। কারণ, ‘লা ইলাহা’- ‘কোনো উপাস্য নেই’- এই অংশটা নেতিবাচক। আর ‘ইল্লাল্লাহ-আল্লাহ ছাড়া’-এ অংশটা ইতিবাচক। নেতিবাচক অংশ আল্লাহ ছাড়া অন্য সবার জন্য ইবাদাত বা উপাসনাকে নাকচ করে, আর ইতিবাচক অংশ আল্লাহতায়ালার জন্য ইবাদাতকে স্বীকৃতি দেয়। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই অংশই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
যদি এমন হয় যে, কোনো ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার ইবাদাত করে। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না। কিন্তু সে মূর্তি ও প্রতিমা পূজাকেও অস্বীকার করে না। সে মনে করে, ‘মানুষ স্বাধীন। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ আকিদাহ-বিশ্বাস থাকতে পারে।’ তাই সে এই প্রতিমা পূজাকে বাতিল বিবেচনা করে না। তা হলে এ ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে। কারণ, তার এ বক্তব্য ‘কালিমায়ে শাহাদাহ’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শাহাদাহ বাক্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই অংশই বিদ্যমান। দুই অংশেরই বিশ্বাস জরুরি। ফলে আল্লাহর জন্য ইবাদাতের স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গে ‘গাইরুল্লাহ’র জন্য ইবাদাতকে নাকচ করা আবশ্যক।
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল এই বিশ্বাস স্বতন্ত্রভাবে ধারণ করা জরুরি। যদি কেউ আল্লাহতায়ালাই একমাত্র উপাস্য- এই বিশ্বাস ধারণ করে; কিন্তু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর রাসুল না মানে, তার ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ইহুদিরাও বিশ্বাস করে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। কিন্তু তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর রাসুল মানে না। তাই তারা ইসলামের গণ্ডির বাইরেই রয়ে গেছে।
আল্লাহতায়ালা ছাড়া কোনো উপাস্য নেই- এ বিশ্বাসের পাশাপাশি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবি হিসেবে স্বীকার করা আবশ্যক। পাশাপাশি তার আদেশ-নিষেধ মেনে শরিয়াহ অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদাত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই নিজের প্রবৃত্তি বা বিদআতের অনুগামী হওয়া যাবে না।
অতএব, কালিমার দুটি অংশেরই মৌখিক সাক্ষ্য জরুরি। অথবা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’- এই অংশ মুখে বলে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল এইটুকু মনে মনে বিশ্বাস করলেও চলবে। তখন দ্বিতীয় অংশ পরোক্ষভাবে প্রথম অংশে অন্তর্ভুক্ত বলে ধরা হবে। কিন্তু যদি সে বলে, আমি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’- এটা বিশ্বাস করি। তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল এটা বিশ্বাস করি না, তা হলে সে কাফিরই থাকবে। কারণ, তার সাক্ষ্য পরস্পরবিরোধী।
যেহেতু আল্লাহতায়ালাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন। আর প্রেরিতকে অস্বীকার করা প্রেরককে অস্বীকার করারই নামান্তর। তাই রাসুলকে অস্বীকার করা মানে আল্লাহকেই অস্বীকার করা। কারণ, দুইটা পরস্পরে অপরিহার্যভাবে সংযুক্ত।
(স্বপ্নের ব্যাখ্যাবিদ মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের বিখ্যাত বই তাফসিরুল আহলাম বা স্বপ্নের ব্যাখ্যা থেকে সংক্ষেপিত)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক