ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ডান প্রান্তে রাফিনহার জায়গায় খেলতে প্রস্তুত মার্টিনেল্লি সিভিল সার্জনকে ‘ভাই’ বলায় ক্ষিপ্ত, বললেন ‘মহোদয়’ বলতে হবে সন্ত্রাসী ইমনের গ্রেপ্তার নিয়ে সিএমপির ব্যাখ্যা আইসক্রিমপ্রেমীদের জন্য সেভয়-এর নতুন চমক মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলার বিচার দাবিতে মানববন্ধন তারেক রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ভিডিওতে হাবিবের গান চাপমুক্ত থাকার ৭টি কার্যকর উপায় ৩০ হাজার মামলার জটে স্থবির শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম: শিক্ষামন্ত্রী লালমোহনে ব্রিজ ভেঙে খাদে ট্রাক, চালক নিহত ঈশ্বরদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যুবদলের মিছিল ঘুষ কেলেঙ্কারি: দেবীগঞ্জের পিআইও বদলি বান্দরবান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই: জেলা প্রশাসন নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী? মারা গেছেন নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষেই বিদায় নিল ৪ দল

উমরা নিয়ে প্রচলিত ভুলগুলো আর নয়!

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৮ পিএম
উমরা নিয়ে প্রচলিত ভুলগুলো আর নয়!
ছবি: সংগৃহীত

উমরা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত, যা মানুষের হৃদয়ের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা। তবে এই মহান ইবাদতকে ঘিরে আমাদের সমাজে বেশকিছু প্রচলিত ভুলের প্রচলন রয়েছে। যেমন- উমরা করতে গেলে কিংবা কাবাঘর দেখলে হজ ফরজ হয়ে যায়— এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ হজ ফরজ হওয়ার জন্য সামর্থ্য থাকা শর্ত। এর সঙ্গে উমরা করা বা কাবাঘর দেখার সম্পর্ক নেই। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা আলে ইমরান, ৯৭)

কেউ মনে করেন, ইহরাম বাঁধার পর উমরা সম্পন্ন করার আগে মিকাতের সীমানা থেকে বের হওয়া ঠিক নয়— এই ধারণা ভুল। ইহরাম অবস্থায়ও মিকাত থেকে বের হওয়া যায়। এতে ইহরামের ক্ষতি হয় না। যেমন কেউ ইফরাদ বা কিরান হজের ইহরাম বেঁধে মক্কা মুকাররমায় গিয়েছেন। তাওয়াফ ইত্যাদি করার পর যেহেতু হজের এখনো দেরি আছে, তাই হজের আগেই মসজিদে নববির জিয়ারত করার ইচ্ছা করলেন, এতে দোষ নেই। বিনা প্রয়োজনে হারামের বাইরে যাওয়া অনুচিত। 

গুনাহের ক্ষেত্রে নীতি হলো, একটি গুনাহ একটিই গণ্য হয়। সুতরাং হারাম শরিফে একটি গুনাহ করা মানে এক লাখ গুনাহ লেখা হবে— এটা ভুল।
উমরা পালনের সময় অথবা উমরা থেকে ফিরে এসে অনেকে বলেন, আমি ছোট হজ করে এসেছি— এটা প্রচলিত ভুল। উমরা স্বতন্ত্র ইবাদত। উমরা ছোট হজ নয়। 

অনেকে উমরার সময় মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে প্রবেশ করাকে বাধ্যতামূলক ও শরিয়তের বিধান মনে করেন— এটা ভুল। এ সম্পর্কে শায়খ উসাইমিন (রহ.) বলেন, কিছু মানুষ মনে করে হজ ও উমরাকারীর মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট দরজা ছাড়া প্রবেশ করা উচিত নয়। 
কিছু মানুষকে দেখা যায়, যারা মনে করে উমরাকারীর ‘বাবে উমরা’ ছাড়া অন্য দরজা দিয়ে প্রবেশ করা উচিত নয়। আবার অন্য আরেক দল আছে যারা মনে করে ‘বাবুস সালাম’ ছাড়া প্রবেশ করা উচিত নয়। এটা ছাড়া অন্য কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করা পাপ এবং অপছন্দনীয়। এমন বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের ইসলামি শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই। সুতরাং এসব প্রচলিত ভুল এড়িয়ে চলুন। (মুহদাসাত, ৩৮৪)

অনেকে মনে করেন, ইহরামের কাপড় পরে নামাজ পড়ার পর নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়— এ ধারণা ভুল। এগুলো দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না। নিয়ত আরবিতে করা হোক বা বাংলাতে, সশব্দে করা হোক বা মনে মনে— এর দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না; বরং নিয়তের পর তালবিয়া পড়লে ইহরাম পূর্ণ হয়। (তিরমিজি, ১/১০২)

কেউ কেউ মনে করেন, যে কাপড়ে ইহরাম বাঁধা হয়েছে সে কাপড় হালাল (ইহরাম শেষ) হওয়ার আগ পর্যন্ত বদলানো যাবে না— এটা সঠিক নয়। ওই কাপড় নাপাক না হলেও বদলানো যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ১৫০১০)
ইহরাম বাঁধার পর প্রায় সবাই দুই রাকাত নামাজ পড়েন। অধিকাংশ মানুষ এই দুই রাকাত নামাজকে ইহরামের নামাজ হিসেবে জানেন। অথচ ইহরামের নামাজ বলতে স্বতন্ত্র কোনো নামাজ নেই। এটা মূলত সফরের নামাজ। (রদ্দুল মুখতার, ২/৪৮১-৪৮২)

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

হাদিসের কথা নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
নিজেকে শ্রেষ্ঠ করে তোলার গুণটি কী?
ছবি: সংগৃহীত

মাটির নিচে যেমন লুকিয়ে থাকে স্বর্ণ বা হীরার খনি, মানুষের ভেতরেও কি তেমন কোনো গোপন খনি রয়েছে যা কেবল সঠিক আলো পেলেই জ্বলে ওঠে?মানবচরিত্রের মনস্তত্ত্ব সমাজবিজ্ঞানের এক অনন্য রূপরেখা এঁকেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনি মানুষকে তুলনা করেছেন খনির সাথে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা খনিজ যেমন পরিশোধন করলে মূল্যবান হয়ে ওঠে, মানুষের সুপ্ত প্রতিভাও তেমনি দ্বীনি জ্ঞান সত্যের ছোঁয়ায় বিকশিত হয় ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে যারা নৈতিকভাবে উত্তম মর্যাদাবান ছিলেন, ইসলামের আলো পেয়ে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পর তারাই সমাজের সবচেয়ে খাঁটি শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন

তবে এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটে দুটি জায়গায়, নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং  জীবনযাপনের সততায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিভাষায়, শাসনক্ষমতা নেতৃত্বের পদের জন্য তারাই সবচেয়ে যোগ্য, যারা ক্ষমতার লোভ রাখে না, বরং এর গুরুদায়িত্বকে ভয় পায় এবং পদকে অপছন্দ করে আর সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হলোদু-মুখোবা সুবিধাবাদীরা, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী একেক দলের কাছে একেক রূপ ধারণ করে

চরিত্রের এই খাঁটিত্ব ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি হলোসত্যবাদিতা সত্য কেবল একটি গুণ নয়, এটি মানুষের ভেতরের খনিকে হীরার মতো উজ্জ্বল করার মাধ্যম নিয়মিত সত্য বলার অভ্যাস মানুষকে পুণ্যের পথে চালিত করে, আর পুণ্য তাকে পৌঁছে দেয় জান্নাতে এভাবে চলতে চলতে একপর্যায়ে আল্লাহর দরবারে সেই ব্যক্তিসিদ্দীকতথা সত্যবাদী হিসেবে অমরত্ব পায়

বিপরীতে, মিথ্যার পথটি অত্যন্ত পিচ্ছিল একটি ছোট মিথ্যা মানুষকে ক্রমান্বয়ে নির্লজ্জতা পাপাচারের অতলে তলিয়ে দেয়, যার অবধারিত পরিণতি হলো জাহান্নাম আর যে ব্যক্তি ক্রমাগত মিথ্যা বলতে থাকে, সে আল্লাহর খাতায়কাজজাবতথা মিথ্যাবাদী হিসেবে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়

এই দুটি হাদিসের মেলবন্ধন আমাদের শেখায় যে, নেতৃত্ব বা সামাজিক মর্যাদা কোনো বাহ্যিক অলংকার নয় ক্ষমতার লোভ বর্জন, দ্বিমুখী আচরণ পরিহার এবং কথার সততাই মানুষের ভেতরেরখনিজকেখাঁটি সোনায় রূপান্তর করে আল্লাহর দেওয়া খনিকে আমরা সত্য দিয়ে সাজাব নাকি মিথ্যা দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

 

শামায়েল সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের রঙের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আধুনিক ফ্যাশন ডিজাইনাররা আজ কত গবেষণাই না করছেন! কিন্তু আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগেই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রঙের পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা রুচিবোধ পবিত্রতার চূড়ান্ত প্রতীক

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে যেমন মার্জিত পোশাক পরতেন, তেমনই সাহাবিদের তথা গোটা মুসলিম উম্মাহকে পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অনুসরণ অনুকরণের পাতায় রাখার মতো তাঁর সেই চমৎকার নির্দেশনা আপনাকেও ভাবাতে পারে

পোশাকের বহুবিধ রঙের ভিড়ে মহানবি (সা.) উম্মতের জন্য সাদা রংকে বিশেষভাবে নির্বাচন করেছেন হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা রঙের কাপড় পরিধান করবে জীবিতরা যেন সাদা কাপড় পরিধান করে এবং মৃতদেরকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন দেয় কেননা, সাদা কাপড় তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক (সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫৩২৩; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস: ৯৫৬৬)

রাসুল (সা.)-এর এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, সাদা পোশাক কেবল জীবিতদের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং মানুষের শেষ বিদায়ের সম্বল কাফনের জন্যও এটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ

সাদা রংকে কেন এত প্রাধান্য দেওয়া হলো? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সাহাবি হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো কারণ, তা সর্বাধিক পবিত্র উত্তম আর তা দিয়েই তোমরা মৃতদের কাফন দাও (আল-মুজামুল কাবীর, হাদিস: ৯৬৪; সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস: ২০২৭)

সাদা কাপড়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সামান্য ময়লা লাগলেও তা দ্রুত চোখে পড়ে ফলে পোশাকটি দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করার তাগিদ তৈরি হয় ইসলাম যেহেতু ‘পবিত্রতা’কে ঈমানের অঙ্গ করেছে, তাই সাদা পোশাক পরার মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো মানুষকে সব সময় বাহ্যিক অভ্যন্তরীণভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কালজয়ী নির্দেশনা আমাদের শেখায় যে, আভিজাত্য বা ফ্যাশন মানেই চটকদার জমকালো রঙের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া নয় বরং সরলতা, শুভ্রতা পরিচ্ছন্নতার মাঝেই লুকিয়ে আছে পোশাকের আসল সৌন্দর্য জীবিত অবস্থায় সাদা পোশাকের শুভ্রতা ধরে রাখা এবং মৃত্যুর পর সেই একই শুভ্রতায় আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার মাঝে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

.৫১ মিনিট

এশা

.০৮ মিনিট

 

ফজর (২১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়?
ছবি: সংগৃহীত

কোনো বড় দুর্ঘটনা বা কষ্টের খবর শোনার ঠিক প্রথম কয়েক সেকেন্ড আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান? আপনার সেই তাৎক্ষণিক আচরণই বলে দেবে আপনি আসলেই পরকালের পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য কি না!

মানুষের জীবনে সুখের পাশাপাশি দুঃখ, কষ্ট বা বিপদ আসা এক অনিবার্য বাস্তবতা কিন্তু এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নিয়ে ইসলামের রয়েছে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা সম্প্রতি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য আত্মিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রিয় নবিজি (রাসুল)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে

বিখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (রাসুল) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত ধৈর্য হলো কষ্টের প্রথমাবস্থায় বা প্রথম ধাক্কাতেই’ (বুখরি)

এই বাণীর পটভূমি বিশ্লেষণ করলে এক গভীর মানবিক সত্য উন্মোচিত হয় সাধারণত যেকোনো বড় বিপদ, স্বজন হারানো বা আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হলে মানুষ শুরুতে চিৎকার, কান্নাকাটি বা ভাগ্যের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেলে এর পর দিন, মাস বা বছর কেটে গেলে সময়ের নিয়মে ক্ষতের তীব্রতা কমে আসে এবং মানুষ বাধ্য হয়েই শান্ত হয় কিন্তু হাদিসের গভীর দর্শন অনুযায়ী, সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি মেনে নেওয়াকে প্রকৃতসবরবা ধৈর্য বলা হয় না

আসল পরীক্ষাটি হয় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন কষ্টের খবরটি প্রথম কান বা বুকে এসে আঘাত করে সেই প্রথম মুহূর্তটিতে যে ব্যক্তি নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থেকে নিজের মুখ মনকে সংযত রাখে, ইসলাম তাকেই প্রকৃত ধৈর্যশীল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়

এই হাদিসটি আমাদের প্রচলিত জীবনবোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয় এটি শেখায় যে, ধৈর্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের নাম নয়, বরং এটি হলো আকস্মিক বিপদে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আধুনিক মনোবিজ্ঞানও বলছে, যেকোনো ট্রমার প্রথম কয়েক মুহূর্তের মানসিক প্রতিক্রিয়া মানুষের পরবর্তী সুস্থতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যার সমাধান ইসলাম বহু আগেই দিয়ে রেখেছে

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম
ছবি: সংগৃহীত

আজকের এই আধুনিক যুগে হাজারও মতবাদ, দর্শন আর মনগড়া জীবনরীতির ভিড়ে মানুষ প্রায়ই সঠিক পথের দিশা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মুক্তির আসল চাবিকাঠি কোথায়? হযরত জাবের (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত বা আদর্শ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর হেদায়াত। তিনি সতর্ক করেন, দ্বীনের মধ্যে যেকোনো নতুন সৃষ্টি বা মনগড়া উদ্ভাবনই হলো নিকৃষ্টতম কাজ, যা মানুষকে নিশ্চিত পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায় এবং যার শেষ পরিণতি জাহান্নাম (মুসলিম, ১৪১; সুনানে নাসাঈ, ১৫৭৮)।

সমাজে কিছু মানুষের মানসিকতা ও কাজ স্রষ্টার কাছে চরম ঘৃণিত রূপ নেয়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। তারা হলো–হারাম বা নিষিদ্ধ এলাকায় অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তি, ইসলামের ভেতর জাহেলি যুগের কুসংস্কার বা রীতিনীতি চালুর আকাঙ্ক্ষাকারী এবং স্রেফ অন্যায়ভাবে রক্তপাতের উদ্দেশ্যে অন্যের রক্ত কামনা করা ব্যক্তি (বুখারি, ১৪২)।

মানুষের মুক্তি ও অবাধ্যতার সমীকরণ বোঝাতে ফেরেশতারা এক অলৌকিক উপমা দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) যখন নিদ্রিত ছিলেন (যার চক্ষু নিদ্রিত হলেও অন্তর ছিল জাগ্রত), তখন ফেরেশতারা বলেন, যেমন এক ব্যক্তি গৃহ নির্মাণ করে ভোজের আয়োজন শেষে একজন আহ্বায়ক পাঠালেন; যে সাড়া দিল সে খেতে পারল, আর যে দিল না সে বঞ্চিত হলো। এই উপমার ব্যাখ্যায় তারা বলেন, গৃহটি হলো জান্নাত, আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ এবং নির্মাতা স্বয়ং আল্লাহ। অতএব, মুহাম্মাদ (সা.)-এর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য, আর তিনিই মানুষের মধ্যে ঈমান ও কুফরের পার্থক্যকারী (বুখারি, মিশকাত ১৪৪)।

অনেকেই মনে করেন, সংসার বা স্বাভাবিক জীবন ত্যাগ করে কেবল বৈরাগ্য সাধনেই বুঝি পরম ধর্ম। একবার তিনজন ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ইবাদতের পরিমাপ শুনে নিজেদের আমলকে কম মনে করে একজন সারা রাত নামাজ পড়া, একজন আজীবন রোজা রাখা এবং অন্যজন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন। রাসুল (সা.) তাদের এই অতি-ধার্মিকতার ভুল ভেঙে দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু হওয়া সত্ত্বেও রোজা রাখি ও ছাড়ি, সালাত পড়ি ও ঘুমাই এবং বিয়েও করেছি। অতএব, যে আমার সুন্নাত বা জীবনপদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার শরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয় (বুখারি, মুসলিম, ১৪৫)।

সাহাবি হযরত ইরবায বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় বিদায়ী খুতবা দিলেন যে সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেল। তিনি ভবিষ্যৎ মতভেদের যুগে নিজের সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখার নির্দেশ দেন (আবু দাউদ, ১৬৫)। একইভাবে হযরত আলি (রা.) বর্ণিত হাদিসে মদিনার পবিত্র ভূমিতে কোনো মনগড়া প্রথা বা বিদ‘আত চালু করা অথবা বিদ‘আতিকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষের লানতের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ)।

দ্বীনের নামে নিজস্ব মনগড়া রীতি বা বিজাতিদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং রাসুল (সা.)-এর দেখানো সুন্নাহর সরল পথ আঁকড়ে ধরাই হোক আমাদের জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক