উমরা অন্তত গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত, যা মানুষের হৃদয়ের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা। তবে এই মহান ইবাদতকে ঘিরে আমাদের সমাজে বেশকিছু প্রচলিত ভুলের প্রচলন রয়েছে। যেমন- উমরা করতে গেলে কিংবা কাবাঘর দেখলে হজ ফরজ হয়ে যায়— এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ হজ ফরজ হওয়ার জন্য সামর্থ্য থাকা শর্ত। এর সঙ্গে উমরা করা বা কাবাঘর দেখার সম্পর্ক নেই। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা আলে ইমরান, ৯৭)
কেউ মনে করেন, ইহরাম বাঁধার পর উমরা সম্পন্ন করার আগে মিকাতের সীমানা থেকে বের হওয়া ঠিক নয়— এই ধারণা ভুল। ইহরাম অবস্থায়ও মিকাত থেকে বের হওয়া যায়। এতে ইহরামের ক্ষতি হয় না। যেমন কেউ ইফরাদ বা কিরান হজের ইহরাম বেঁধে মক্কা মুকাররমায় গিয়েছেন। তাওয়াফ ইত্যাদি করার পর যেহেতু হজের এখনো দেরি আছে, তাই হজের আগেই মসজিদে নববির জিয়ারত করার ইচ্ছা করলেন, এতে দোষ নেই। বিনা প্রয়োজনে হারামের বাইরে যাওয়া অনুচিত।
গুনাহের ক্ষেত্রে নীতি হলো, একটি গুনাহ একটিই গণ্য হয়। সুতরাং হারাম শরিফে একটি গুনাহ করা মানে এক লাখ গুনাহ লেখা হবে— এটা ভুল।
উমরা পালনের সময় অথবা উমরা থেকে ফিরে এসে অনেকে বলেন, আমি ছোট হজ করে এসেছি— এটা প্রচলিত ভুল। উমরা স্বতন্ত্র ইবাদত। উমরা ছোট হজ নয়।
অনেকে উমরার সময় মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে প্রবেশ করাকে বাধ্যতামূলক ও শরিয়তের বিধান মনে করেন— এটা ভুল। এ সম্পর্কে শায়খ উসাইমিন (রহ.) বলেন, কিছু মানুষ মনে করে হজ ও উমরাকারীর মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট দরজা ছাড়া প্রবেশ করা উচিত নয়।
কিছু মানুষকে দেখা যায়, যারা মনে করে উমরাকারীর ‘বাবে উমরা’ ছাড়া অন্য দরজা দিয়ে প্রবেশ করা উচিত নয়। আবার অন্য আরেক দল আছে যারা মনে করে ‘বাবুস সালাম’ ছাড়া প্রবেশ করা উচিত নয়। এটা ছাড়া অন্য কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করা পাপ এবং অপছন্দনীয়। এমন বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের ইসলামি শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই। সুতরাং এসব প্রচলিত ভুল এড়িয়ে চলুন। (মুহদাসাত, ৩৮৪)
অনেকে মনে করেন, ইহরামের কাপড় পরে নামাজ পড়ার পর নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়— এ ধারণা ভুল। এগুলো দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না। নিয়ত আরবিতে করা হোক বা বাংলাতে, সশব্দে করা হোক বা মনে মনে— এর দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না; বরং নিয়তের পর তালবিয়া পড়লে ইহরাম পূর্ণ হয়। (তিরমিজি, ১/১০২)
কেউ কেউ মনে করেন, যে কাপড়ে ইহরাম বাঁধা হয়েছে সে কাপড় হালাল (ইহরাম শেষ) হওয়ার আগ পর্যন্ত বদলানো যাবে না— এটা সঠিক নয়। ওই কাপড় নাপাক না হলেও বদলানো যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ১৫০১০)
ইহরাম বাঁধার পর প্রায় সবাই দুই রাকাত নামাজ পড়েন। অধিকাংশ মানুষ এই দুই রাকাত নামাজকে ইহরামের নামাজ হিসেবে জানেন। অথচ ইহরামের নামাজ বলতে স্বতন্ত্র কোনো নামাজ নেই। এটা মূলত সফরের নামাজ। (রদ্দুল মুখতার, ২/৪৮১-৪৮২)
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক