ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো
Nagad desktop

উমরাহ পালনকারীকে আল্লাহ কী অপ্রত্যাশিত উপহার দেন?

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
উমরাহ পালনকারীকে আল্লাহ কী অপ্রত্যাশিত উপহার দেন?
ছবি: সংগৃহীত

উমরা বলা হয়—‘নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে আল্লাহর ঘর (কাবা শরিফ) সাতবার তাওয়াফ (চারপাশে চক্কর দেওয়া) করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার সাঈ করা এবং মাথা মুণ্ডানো কিংবা চুল ছোট করা।’ (আল-বাহরুল আমিক, ৪/২০০৯)। উমরা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে মানুষকে উমরা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এরশাদ করেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পালন করো।’ (সুরা বাকারা, ১৯৬)

হাদিসে উমরার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তার কয়েকটি হলো—
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একাধারে হজ ও উমরা করতে থাকো। কারণ, হজ-উমরা ঠিক সেভাবে দারিদ্র্য বিমোচন ও গুনাহ দূর করে দেয়; যেভাবে হাঁপরের আগুন লোহা, স্বর্ণ ও রুপা থেকে ময়লা দূর করে দেয়।’ (তিরমিজি, ৮১০)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মারা যাবে, তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত উমরার সওয়াব লেখা হবে।’ (তারগিব, ১১১৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘উমরা করার দ্বারা এক উমরা থেকে পরবর্তী উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ (সগিরা) মাফ হয়ে যায়।’ (বুখারি, ১৮৬৩, ১৭৭৩) 

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (১৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ- বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চুল সাধারণত বয়স বা চিন্তার কারণে পাকে। কিন্তু মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল পাকার পেছনে ছিল এক স্বর্গীয় এবং কম্পন সৃষ্টিকারী কারণ। কিন্তু প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাথার সেই অল্প কিছু চুলের চমৎকার রূপ কেমন ছিল, তা কি আপনি জানেন? চলুন আজ জেনে নিই সেই অজানা ইতিহাস।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চুল-দাড়ির শুভ্রতা বা সাদা হওয়া সাধারণ কোনো বার্ধক্যের লক্ষণ ছিল না, বরং তা ছিল এক স্বর্গীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক। সাহাবিদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর এই শ্বেতকেশ মোবারকের মধ্যেও এক অপূর্ব সৌন্দর্য লুকিয়ে ছিল। নবিজি (সা.)-এর মাথায় যখন অল্প কিছু চুল সাদা হতে শুরু করে, তখন দূর থেকে তা অদ্ভুত এক লালচে আভায় জ্বলজ্বল করত। সবুজ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় তাঁর এই রূপ ছিল দেখার মতো। তা ছাড়া, তাঁর মাথার সিঁথির অংশে যে সামান্য কয়েকটি সাদা চুল ছিল, তাতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করলে শুভ্রতা পুরোপুরি ঢেকে যেত।

আবু রিমছা আত-তায়মী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭১১১; মুজামুল কাবীর, ১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, ৩০৯১; মিশকাত, ৪৩৫৯)
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২১০৩০; মুজামুল কাবীর,১৯৩০)

একবার হযরত আবু বকর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবি নবিজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে, আমরা আপনার বার্ধক্যের স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি।’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অভূতপূর্ব কারণ ব্যক্ত করলেন। তিনি জানালেন, কোনো দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা বা স্বাভাবিক বয়সের কারণে তাঁর চুল পাকেনি; বরং পবিত্র কোরআনের কিছু সুরার গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও সতর্কবাণী তাঁকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন (নাবা), ইযাশ-শামসু কুভভিরাত (তাকভীর) আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম,৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস: ৪১৭৫; জামেউস সগীর, ৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হাদিস: ৯৫৫)

আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হুদ এবং তদানুরূপ সুরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপনীত করেছে।’ (মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ১৭৭৭৪; মুসনাদে আবু ইআলা,  ৮৮০; মিশকাত,৫৩৫৩)। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই সুরাগুলোতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের বিবরণ রয়েছে। উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আল্লাহর ভয়মিশ্রিত দায়িত্ববোধের কারণেই এই সুরাগুলোর চিন্তায় আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল মোবারক শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়। আদম (আ.)কেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও ঘটে এই দিনে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীদের হত্যা করা হয় এই দিনে।