পবিত্র কোরআন কেবল একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী এক শাশ্বত মানদণ্ড। কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে, যখন মানুষের কথা বলার শক্তি থাকবে না, তখন এই কোরআন হয় আপনার মুক্তির সুপারিশকারী হবে, নয়তো আপনার শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আল-কোরআন তোমার পক্ষে অথবা তোমার বিপক্ষে এক অকাট্য দলিল।’ (মুসলিম, ২২৩)।
আপনি যদি এই মহাগ্রন্থের বিধান অনুযায়ী নিজের জীবনকে পরিচালিত করেন, তবে কিয়ামতের দিন কোরআন আল্লাহর দরবারে আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। যে ব্যক্তি কোরআনকে আঁকড়ে ধরেছে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে মেনে নিয়েছে, কোরআন তার জন্য জান্নাতের পথ সুগম করবে। অন্ধকার কবরে কোরআন হবে তার পরম সঙ্গী এবং হাশরের ময়দানে এটি হবে পরম হিতৈষী সুপারিশকারী।
বিপরীত দিকে, যারা কোরআনকে কেবল তাকে সাজিয়ে রেখেছে কিন্তু জীবন থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন বিপদ। কোরআনকে ত্যাগ করা, এর বিধানকে অবজ্ঞা করা কিংবা জেনে-বুঝে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কিয়ামতের দিন মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হবে। সেদিন কোনো অজুহাতই মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না।
আজকের এই আধুনিক পৃথিবীতে কোরআন আমাদের কাছে পৌঁছেনি— এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। আজ প্রতিটি পাড়ায় মসজিদ, ঘরের কোণে রেডিও-টেলিভিশন এবং হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের পর্দায় ২৪ ঘণ্টা কোরআনের শব্দ অনবরত উচ্চারিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষিত— সবার কাছেই আজ কোরআনের দাওয়াত পৌঁছে গেছে। আল্লাহতায়ালা কোরআনকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছেন- যেন যে কেউ এটি শিখতে এবং বুঝতে পারে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এমন অবজ্ঞাকারীদের সম্পর্কে বলেন, ‘আমার আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে পাঠ করা হতো, কিন্তু তোমরা তো উল্টো পায়ে সরে পড়তে।’ (সুরা মুমিনুন, ৬৬)। অর্থাৎ, সত্য জানার পর তা থেকে বিমুখ হওয়ার নামান্তরই হলো ধ্বংস।
কোরআন আপনার সামনে দুটি পথ খোলা রেখেছে। আপনি কি একে আপনার জীবনের সঙ্গী করে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাবেন, নাকি একে উপেক্ষা করে নিজের বিরুদ্ধে দলিল তৈরি করবেন? কিয়ামতের দিন কারও বলার সুযোগ থাকবে না যে, ‘আমি তো কিছু জানতাম না।’ আজ প্রতিটি মানুষের কাছে কোরআনের আওয়াজ পৌঁছে যাওয়া মানেই হলো তাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল পূর্ণ হওয়া।