প্রশ্ন: অনেককে দেখা যায় জাকাত থেকে বাঁচতে বছরের শেষে সম্পদ অন্যকে দান করে দেওয়া বা এমন কোনো কৌশল অবলম্বন করেন যাতে জাকাত ফরয না হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের অপকৌশলের হুকুম কী?
উত্তর: জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি অন্যতম ইবাদত। জাকাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল (যাকে ফিকহী পরিভাষায় 'নাজায়েয হীলা' বলা হয়) গ্রহণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। এ ধরনের কাজ মূলত আল্লাহতায়ালাকে ধোঁকা দেওয়ার শামিল, যা একজন মুমিনের জন্য কখনো শোভনীয় নয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘তারা আল্লাহ এবং মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও ধোঁকা দিচ্ছে না, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারছে না।’ (সুরা বাকারা, ০৯)। সুতরাং জাকাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে সম্পদের মালিকানা পরিবর্তন দেখানো বা কৃত্রিম ঋণ দেখানো কেবল গুনাহের কাজই নয়, বরং এতে আখেরাতে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সমাধান
চিকিৎসাবিজ্ঞান, আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোজা ও জাকাতের আরও বহু নতুন মাসআলা সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। আধুনিক লেনদেন পদ্ধতি বা জটিল বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যাকাত নির্ধারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো:
বিবেচনা ও সতর্কতা উপস্থিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে জাকাত আদায় না করে সমসাময়িক মাসআলাগুলো ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নতুন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে অবহেলা না করে নির্ভরযোগ্য কোনো 'দারুল ইফতা' (ফতোয়া কেন্দ্র) থেকে সঠিক সমাধান জেনে নিতে হবে।
জাকাত সম্পদ কমায় না, বরং সম্পদকে পবিত্র ও বরকতময় করে। তাই স্বচ্ছ মনে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক