ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত

মহিমান্বিত রমজান রোজা তরুণদের আত্মসংযম শেখায়

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫২ এএম
রোজা তরুণদের আত্মসংযম শেখায়
ছবি: সংগৃহীত

তারুণ্য হলো জাতির শক্তি, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নাম। কিন্তু এই শক্তি যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তবে তা বিভ্রান্তি ও বিপথগামিতায় রূপ নিতে পারে। তাই আদর্শিক, নৈতিক ও সচেতন তারুণ্য গড়ে তুলতে প্রয়োজন আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ। সেই প্রশিক্ষণের শ্রেষ্ঠ মৌসুম হলো রমজান। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। তাকওয়াই হলো আদর্শিক চরিত্রের মূল ভিত্তি।

প্রথমত, রোজা তরুণদের আত্মসংযম শেখায়। তারুণ্যের বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবেগ ও প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ। ক্ষুধা-পিপাসা থাকা সত্ত্বেও যখন একজন তরুণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে সংযত রাখে, তখন সে নফসকে নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজাকে ঢাল বলেছেন—অর্থাৎ এটি পাপ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করে। এই আত্মরক্ষা আদর্শিক তারুণ্যের প্রথম ধাপ।

দ্বিতীয়ত, রমজান তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলে। সাহরি থেকে তারাবি পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করতে হয়। নিয়মিত নামাজ, সময়মতো ইফতার, কোরআন তিলাওয়াত—এসব অভ্যাস একজন তরুণকে সময়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল করে তোলে। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনই সফলতার ভিত্তি।
তৃতীয়ত, রমজান চরিত্র গঠনের অনন্য বিদ্যালয়। রোজাদারকে মিথ্যা, গিবত, অশালীনতা ও রাগ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ফলে একজন তরুণ নিজের ভাষা ও আচরণে সচেতন হয়। সততা, সহনশীলতা ও নম্রতা—এই গুণগুলো আদর্শিক নেতৃত্বের পূর্বশর্ত।

চতুর্থত, রমজান লক্ষ্যনিষ্ঠ জীবন গঠনে সহায়তা করে। অনেক তরুণ রমজানে কোরআন খতম, নির্দিষ্ট সংখ্যক নফল নামাজ বা দান করার লক্ষ্য স্থির করে। এই লক্ষ্যভিত্তিক চিন্তা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। পরিকল্পনা করা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও আত্মমূল্যায়ন—এসব দক্ষতা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য।

পঞ্চমত, রমজান তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখায়। দান-সদকা, ইফতার করানো, অসুস্থকে দেখা—এসব কাজ সহমর্মিতা ও মানবিকতা বাড়ায়। একজন আদর্শ তরুণ শুধু নিজের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সে সমাজের কল্যাণে কাজ করে। রমজান সেই মানসিকতা তৈরি করে।

ষষ্ঠত, রমজান মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। ক্ষুধা, ক্লান্তি ও ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত ইবাদত চালিয়ে যাওয়া ধৈর্য ও সহনশীলতা গড়ে তোলে। এই মানসিক শক্তি পড়াশোনা, কর্মজীবন ও সামাজিক সংগ্রামে সফল হতে সহায়তা করে।

সপ্তমত, রমজান তরুণদের উদ্দেশ্যময় জীবনবোধ দেয়। যখন একজন যুবক বুঝতে শেখে যে তার জীবন আল্লাহর ইবাদতের জন্য, তখন সে অর্থহীন বিনোদন ও ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকে। তার জীবন হয়ে ওঠে লক্ষ্যনিষ্ঠ ও মূল্যবোধভিত্তিক।

অষ্টমত, রমজান আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি করে। কোরআন তিলাওয়াত, লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান ও গভীর দোয়া তরুণের হৃদয়ে ঈমানের আলো জ্বালায়। এই ঈমান তাকে নৈতিক শক্তি ও সৎ সাহস প্রদান করে।
নবমত, রমজান হলো আত্মপর্যালোচনার সময়। তরুণরা নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সংশোধনের অঙ্গীকার করতে পারে। এই আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যক্তিত্বকে পরিপক্ব করে তোলে।

দশমত, রমজানের চর্চা তরুণদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, সহমর্মিতা ও নৈতিক সাহস তৈরি করে। পরিবার, বন্ধু ও সমাজে তারা ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। এভাবেই রোজার শিক্ষায় গড়ে ওঠে আদর্শিক, সচেতন ও নেতৃত্বদানে সক্ষম এক প্রজন্ম।

রমজান তরুণদের আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয়। তারা নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সংশোধনের প্রতিজ্ঞা নিতে পারে। এই আত্মউন্নয়নের প্রক্রিয়াই আদর্শিক তারুণ্য গঠনের মূল চাবিকাঠি। অতএব, রমজান শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি আদর্শিক তারুণ্য বিনির্মাণের শক্তিশালী মাধ্যম। যদি তরুণ সমাজ রোজার শিক্ষাকে সারা বছরের জীবনে ধারণ করতে পারে, তবে তারা হবে নৈতিক, সচেতন ও নেতৃত্বদানে সক্ষম এক প্রজন্ম—যারা নিজেদের, সমাজ ও জাতির জন্য কল্যাণের বার্তা বয়ে আনবে।

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয়
ছবি: সংগৃহীত

বছর শেষ হয়। নতুন বছর আসে। কিন্তু আরবি নববর্ষের আগমন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়। এটি একটি ডাক, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দার দিকে ডাক। নতুন করে শুরু করার, পুরোনো গুনাহ ঝেড়ে ফেলার, আর তার দিকে ফিরে আসার ডাক। কেননা আরবি ১২ মাসের প্রথম মাস, মুহাররম, কোনো সাধারণ মাস নয়। এটি স্বয়ং আল্লাহর মাস। মুহাররম শব্দটি আরবি হারাম ধাতু থেকে এসেছে, অর্থ নিষিদ্ধ বা পবিত্র। নামের মধ্যেই এই মাসের মর্যাদার ইঙ্গিত।

ইসলামপূর্ব আরবেও এই মাসকে সম্মান করা হতো। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ থাকত, রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল। ইসলাম এসে সেই মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের গণনা শুরু করেন। তিনি মুহাররমকেই এই নতুন সনের প্রথম মাস নির্ধারণ করেন।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২টি, আল্লাহর কিতাবে, যেদিন থেকে তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং এই মাসগুলোয় তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। (সুরা তাওবা: ৩৬)। এই চারটি সম্মানিত মাস হলো, মুহাররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। ইমাম ইবনে কাসির এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ মাসগুলোয় গুনাহের ভার বহুগুণ বেশি, তেমনি নেক আমলের প্রতিদানও বহুগুণ বেশি। মানুষ যেন সারা বছর পাপ করে এই মাসে এসে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। (মুসলিম: ১১৬৩) ইবনে রজব (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন অত্যন্ত চমৎকার কথা–আল্লাহতায়ালা শুধু সেই সত্তা বা বস্তুকেই নিজের দিকে সম্বন্ধিত করেন, যা তার কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার, যেভাবে তিনি তার নবিদের আবদুল্লাহ বলেছেন, কাবাকে বায়তুল্লাহ বলেছেন, আর উষ্ট্রীকে নাকাতুল্লাহ বলেছেন। সেই একই সম্মানে মুহাররমকে বলা হয়েছে শাহরুল্লাহ, আল্লাহর মাস। আর যেহেতু রোজাকে আল্লাহ নিজেই বলেছেন এটি আমার জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব, তাই এই মাসে রোজা রাখার মর্যাদা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।

মুহাররমের দশম দিন, আশুরা। আরবি আশারা থেকে এই নাম, অর্থ দশ। এই একটি দিনে আল্লাহতায়ালা একাধিকবার তার অসীম রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় ঘটনা, এই দিনে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সমুদ্র দুই ভাগ হয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ পার হয়েছিল। আর পেছনে ফেরাউন তার বাহিনীসহ সেই পানিতেই ডুবে গিয়েছিল। ইতিহাসের সেই বিস্ময়কর দৃশ্যের কথা কল্পনা করুন, একটি অসহায় জাতির মুক্তি, একটি অহংকারী জালিমের পতন। এই দিনেই! হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেন? তারা বলল, এটা মহান দিন। এই দিনে আল্লাহ মুসা ও তার সম্প্রদায়কে রক্ষা করেছেন, ফেরাউনকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। তাই মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা মুসার অধিক হকদার। তখন তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে বললেন। (বুখারি: ২০০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, তিনি বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসলিম: ১১৬২), এক বছরের ছোট গুনাহ! শুধু একটি রোজার বিনিময়ে। এই সুযোগ কি হাতছাড়া করতে পারে?

তবে শুধু দশম তারিখে রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে মিল হয়ে যায়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, পরের বছর বেঁচে থাকলে আমি নবম তারিখেও রোজা রাখব। (মুসলিম: ১১৩৪), পরের বছর আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। 

মুহাররমে করণীয় আমল

অধিক নফল রোজা রাখা। গোটা মুহাররম মাসই নফল রোজার জন্য বিশেষ। ইবনে রজব (রহ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জিলহজ মাসে রোজা রেখে বছর শেষ করল এবং মুহাররমে রোজা রেখে বছর শুরু করল, তার পুরো বছরটি ইবাদতের মধ্যে ধরা যায়।

তওবা ও ইস্তেগফার বাড়ানো। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই পুরোনো গুনাহের বোঝা ঝেড়ে ফেলুন। মাসটি আল্লাহর মাস, তাই তার কাছে বেশি বেশি ফিরে আসুন। প্রতিটি সন্ধ্যায় একটু সময় রাখুন হিসাব-নিকাশের, গত বছর কী হারিয়েছি, এই বছর কী পাওয়ার চেষ্টা করব।

নেক আমলে মনোযোগী হওয়া। সম্মানিত মাসে নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণ বেশি। কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, সদকা–সবকিছুতে মনোযোগ বাড়ান। ইমাম ইবনে কাসির বলেছেন, আল্লাহ যাকে সম্মান দিয়েছেন, জ্ঞানীরা সেটাকে সম্মান করে।

পরিবারের জন্য খরচ বাড়ানো। একটি বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি আশুরার দিন পরিবারের জন্য প্রশস্ত খরচ করে, আল্লাহ সারা বছর তার রিজিকে প্রশস্ততা দেন। তবে এই হাদিসটি মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে দুর্বল। তাই এটি ফজিলতের আমল হিসেবে বিবেচনা করা গেলেও একে মজবুত ভিত্তিতে প্রচার করা ঠিক নয়।

মুহাররমে বর্জনীয় বিষয়

নিজেদের ওপর জুলুম করা। আল্লাহ নিজেই সুরা তাওবায় সতর্ক করেছেন, এই মাসে নিজেদের প্রতি অন্যায় করো না। পাপাচারে জড়ানো, হক নষ্ট করা, এগুলো অন্য মাসেও হারাম, কিন্তু এই মাসে আরও বেশি গুরুতর।

মাতম ও বুকে বাড়ি মারা। হজরত হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে বুকে বাড়ি মারা, শোকমিছিল বের করা, নিজেকে আঘাত করা, এগুলো ইসলামের নির্দেশ নয়, বরং জাহেলি প্রথা। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে গালে থাপ্পড় দেয়, কাপড় ছেঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে। (বুখারি: ১২৯৪; মুসলিম: ১০৩) হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রিয় পুত্র ইউসুফকে হারিয়ে কাঁদতেন, তার চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি বুকে বাড়ি মারেননি, জামা ছেঁড়েননি। বেদনা প্রকাশের ইসলামসম্মত পথ হলো ধৈর্য আর দোয়া।

আশুরাকে বিশেষ উৎসব বানানো। কেউ কেউ এই দিন বিশেষ খাবার রান্না করে, উৎসব পালন করে, এরও কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই। ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, এই দিনকে কেউ শোকের দিন বানায়, কেউ উৎসবের দিন বানায়, দুটোই বিদআত।

মুহাররমকে অশুভ মাস মনে করা। অনেকে মনে করেন এই মাসে বিয়ে-শাদি বা শুভ কাজ করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কুসংস্কার, ইসলামে এর কোনো প্রমাণ নেই।

৬১ হিজরির মুহাররমের দশম তারিখ। ইরাকের কারবালার মাঠ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, ফাতেমা (রা.)-এর কলিজার টুকরা, হজরত হুসাইন (রা.) সেদিন ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহিদ হয়েছিলেন। সেই ত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরকালের অনুপ্রেরণা। তাকে ভালোবাসা ঈমানের দাবি, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশ পাবে তার পথে চলার মধ্যে, মাতম আর শোকমিছিলে নয়। মুহাররম আমাদের দরজায় এসে দাঁড়ায় প্রতি বছর, একটাই বার্তা নিয়ে; নতুন করে শুরু করো। গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো। আশুরার রোজা এই যাত্রার সবচেয়ে মূল্যবান পাথেয়। রমজান আসতে এখনো অনেক বাকি, কিন্তু এখনই একটি রোজা রাখলে এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে।

 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

 

আজ ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজ সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (২০ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ
ছবি: সংগৃহীত

ভাবুন তো, মাত্র এক মিনিটে যদি আপনার ব্যাংক ব্যালান্সে এক হাজার ডলার জমা হয়, তবে কেমন লাগবে? দুনিয়ার বুকে এমন কোনো বৈধ ব্যবসা নেই যা আপনাকে মাত্র ৬০ সেকেন্ডে এত বড় মুনাফা দিতে পারে। অথচ আখেরাতের বাজারে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিটে এক হাজার নেকি অর্জন করা এবং একই সঙ্গে এক হাজার গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া সম্ভব! রাসুল (সা.) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এমন কিছু অবিশ্বাস্য আধ্যাত্মিক সমীকরণ শিখিয়েছেন, যা আধুনিক মানুষকে এক নিমেষেই পরকালের শ্রেষ্ঠ ধনীতে পরিণত করতে পারে।

আমরা অনেকেই মনে করি, অনেক বড় ইবাদত বা কঠিন পরিশ্রম ছাড়া বড় সওয়াব পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.) এই ধারণাটি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।
হযরত সা’দ ইবনে আবু অক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কোনো ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকি অর্জন করতে অপারগ হবে কি?  উপস্থিত একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এক হাজার নেকি অর্জন করবে?’ তিনি বললেন, একশ’বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকি লেখা হবে এবং এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। (মুসলিম, ২৬৯৮; তিরমিজি, ৩৪৬৩)

নতুন দৃষ্টিকোণ: মুহাদ্দিসগণের সুক্ষ্ম ভাষ্য ও বর্ণনার পাঠভেদ (যেমন- শু’বাহ ও ইয়াহয়্যা আলক্বাত্তানের বর্ণনা) অনুযায়ী, এখানে ‘অথবা’ নয়, বরং ‘এবং’ শব্দটির ব্যবহারই অগ্রগণ্য। অর্থাৎ, মাত্র ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বললে ১০০০ নেকি পাওয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে ১০০০ গুনাহও খাতা থেকে মুছে যায়। বিজ্ঞান বলে মানুষের শরীরে শত শত হাড়ের জোড় বা জয়েন্ট রয়েছে। ইসলাম এই প্রতিটি সুস্থ জয়েন্টের জন্য প্রতিদিন সকালে একটি ‘সদকা’ বা ট্যাক্স ধার্য করেছে। কিন্তু সেই ট্যাক্স পরিশোধের উপায়টি কত চমৎকার!

হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা দেওয়া আবশ্যক। প্রতিটি ‘সুবহানাল্লাহ’ সদকা, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ সদকা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সদকা এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলাও সদকা। সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সদকা। আর এসব কিছুর পরিবর্তে চাশতের (পূর্বাহ্নের) দুই রাকাআত নামাজ পড়াই যথেষ্ট। (মুসলিম, ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, ১২৮৫)

মহাবিশ্বের পরম সত্তা আল্লাহতায়ালা বান্দার সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন, তার পুরো নিয়ন্ত্রণ কিন্তু বান্দার নিজের চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি (সে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই করি)। সে যখন আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর সে যদি কোনো সভায় আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম (ফেরেশতাদের) সভায় স্মরণ করি। (বুখারি, ৭৪০৫; মুসলিম, ২৬৭৫)

মুখের কোণে একটু ‘সুবহানাল্লাহ’র গুঞ্জন আর দিনের শুরুতে দুই রাকাআত চাশতের নামাজ–এই সামান্য অভ্যাসগুলোই আমাদের পুরো দিনটিকে আল্লাহর সুরক্ষায় মুড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা যখন নির্জনে বা জনসম্মুখে আল্লাহকে ডাকি, তখন স্বয়ং স্রষ্টা আমাদের নাম নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক